আজ, শুক্রবার ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

আজ পবিত্র ঈদুল আজহা, সিলেটের যেসব জায়গায় অনুষ্ঠিত হবে ঈদের নামাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: আজ পবিত্র ঈদুল আজহা। পবিত্র ঈদ উৎসব। ত্যাগের মহিমা নিয়ে আবারও এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় ধর্মীয় এই উৎসবটি উদযাপন হবে আজ বৃহস্পতিবার। যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপনে প্রস্তুত গোটা দেশ।

 

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিলেট জেলা ও মহানগরে এবার ৩০২৩টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে ২৫৮৬টি ও মহানগরে ৪৩৭টি ঈদ জামাত।

 

প্রতিবারের মতো এবারো সিলেট মহানগরীর ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। নামাজের আগে বয়ান পেশ করবেন ও ইমামতি করবেন বন্দর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফিজ মাওলানা কামাল উদ্দিন।

 

দরগাহে হযরত শাহজালাল (রহ.) জামে মসজিদে পবিত্র ঈদুল আযহার জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন মুফতি মাওলানা আসজাদ হোসাইন।

 

সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায়। নামাজের আগে বয়ান পেশ করবেন এবং নামাজে ইমামতি করবেন মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা শাহ আলম।

 

এদিকে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও নগরীর বন্দরবাজারস্থ কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে ঈদুল আযহার পৃথক ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায়, ইমামতি করবেন শায়েখ সাঈদ বিন নুরুজ্জামান আল মাদানী। দ্বিতীয় জামাত হবে ৮টায়, ইমামতি করবেন হাফেজ মাওলানা মিফতাহুদ্দীন এবং তৃতীয় জামাত ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে, ইমামতি করবেন হাফেজ মাওলানা হোসাইন আহমদ।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট মহানগরে ঈদগাহের সংখ্যা ৯০টি। ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে এমন মসজিদের সংখ্যা ৩৪৭টি। সবমিলিয়ে সিলেট মহানগরে মোট ৪৩৭টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

 

এছাড়া জেলা পর্যায়ে বিশ্বনাথ উপজেলায় ৩৯৪টি, ওসমানীনগর উপজেলায় ৯৭টি, বালাগঞ্জ উপজেলায় ১৫৭টি, গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ২২১টি, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় ১৩৮টি, বিয়ানীবাজার উপজেলায় ৩৫০, জকিগঞ্জ উপজেলায় ৪৬০টি, কানাইঘাট উপজেলায় ২২৯টি, জৈন্তাপুর উপজেলায় ১৩৭টি, গোয়াইনঘাট উপজেলায় ২৪৬টি ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ১৫৭টিসহ মোট ২৫৮৬টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে ঈদুল-আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলিমকে আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

 

সকালে ঈদ জামাতে শরিক হয়ে নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ঈদ উদযাপন। মহান সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহের আশায় ঈদের নামাজ শেষে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কুরবানি দেবেন ধর্মপ্রাণ ও সামর্থ্যবান মুসলমানরা। মূলত মনের পশুকে জবাই করে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে যাওয়াই দিনটির উদ্দেশ্য।

 

ঈদ উদযাপন বৃহস্পতিবার হলেও পরের দুই দিনও পশু কোরবানির বিধান রয়েছে। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী জবাই করা পশুর মাংসের একটি অংশ বিলি করা হয় দুস্থ ও দরিদ্রদের মাঝে। এ ছাড়া কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির অর্থও গরিবের মাঝে বিতরণ করা হয়।

 

প্রায় চার হাজার বছর আগের কথা। মহান আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি পেতে নিজ সন্তান হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি দিতে চেয়েছেন হজরত ইব্রাহিম (আ.)। তবে আল্লাহর কুদরতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়। হজরত ইব্রাহিম (আ.) ত্যাগের যে মহিমা স্থাপন করেছেন, তা অনুসরণেই সারা বিশ্বে মুসলিম সম্প্রদায় হিজরিবর্ষের ১০ জিলহজ আল্লাহর অনুগ্রহ পেতে পশু কোরবানি করে থাকে।

 

এদিকে, ঈদের জামায়াত ঘিরে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রাখতে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়েছে সিলেট জেলা ও মহানগর পুলিশ (এসএমপি)।

টুডেসংবাদডটকম/ডেস্ক/এ/

সর্বশেষ