এবার বেগুনে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি

প্রকাশ : সোমবার ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫ :
জেলা প্রতিনিধি :

আম চাষে সফলতা লাভের পর এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুরু হয়েছে বেগুনে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি। ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তির বেগুন ঢাকায় যাচ্ছে। আর এই প্রযুক্তি প্রথম ব্যবহার করে লাভবান হয়েছেন জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের শরত্নগর মিয়াপাড়া গ্রামের আসলাম মিয়া।

বেগুন চাষি আসলাম মিয়া জানান, বেগুন চাষে অতিমাত্রায় পোকামাকড়ের আক্রমণ হয়। ফলে প্রায় প্রতিদিনই বেগুন খেতে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। তারপরও ২৫ থেকে ৩০ ভাগ বেগুন নষ্ট হয়ে যায়। এতে বাধ্য হয়ে কম দামে বেগুন বিক্রি করতে হয়। কিন্তু ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করায় তিনি বেশি দামে বেগুন বিক্রি করছেন।

আসলাম মিয়া জানান, তিনি এবার ঢুলিপাড়া গ্রামে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে বেগুনের আবাদ করেছেন। ইতিপূর্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ উদ্যানতত্ত্ব কেন্দ্রের প্রধান গবেষক ড. মো. শরফ উদ্দিন খেত পরিদর্শনে এলে আসলাম মিয়া তাকে বেগুন খেতে পোকার সমস্যার কথা জানান। এ সময় তিনি ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তির কথা জানালে আসলাম মিয়া ৩০০ টাকায় ১০০ ব্যাগ সংগ্রহ করে এই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেন। এতে কোনো প্রকার বালাইনাশক ব্যবহার ছাড়াই ভালোমানের বেগুন উত্পাদন হয়েছে।

কৃষক আসলাম মিয়া আরও জানান, একটি ব্যাগ ছিঁড়ে না যাওয়া পর্যন্ত বহুবার ব্যবহার করা হয়। এই পর্যন্ত বেগুন চাষে ৮০ হাজার টাকা খরচ হলেও ইতোমধ্যে বেগুন বিক্রি করে তিনি আয় করেছেন ৪০ হাজার টাকা। এখন প্রতিমণ বেগুণ ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেশি লাভবান হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই প্রযুক্তির বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ উদ্যানতত্ত্ব কেন্দ্রের প্রধান গবেষক ড. মো. শরফ উদ্দিন জানান, তিনি প্রথমে এই প্রযুক্তি গত আম মৌসুমে শুরু করেছিলেন বিভিন্ন জাতের আমে। পরবর্তীতে ডালিম, পেয়ারা, কলা ও লিচুতে এই প্রযুক্তি শুরু হয়েছে। এবার তিনি বেগুনে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছেন। তিনি জানান, একটি বেগুনের বয়স দুই থেকে তিন দিন হলেই ব্যাগটি পরানো উচিত। কারণ বেগুনের বয়স যত বেশি হবে পোকায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ততই বাড়বে। কিন্তু এই ব্যাগ পরানো হলে পোকার আক্রমণ রোধ হবে। পাশাপাশি বেগুনে কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে না। তবে কুয়াশার পানি শুকিয়ে গেলে বেগুন খেতে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক একত্রে মিশিয়ে ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে। এতে করে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও বিষমুক্ত বেগুন উত্পাদন করা সম্ভব।

টুডে সংবাদ/উদয়া