‘স্বৈরশাসকেরা জনগণকে দমন করছে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বব্যাপী যেসব দেশে স্বৈরশাসন রয়েছে, সেসব দেশে ক্ষমতার জন্যে হুমকি যে কোনো শক্তিকে অবদমিত করে রাখা হচ্ছে। আর এ কারণে নাগরিকেরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত দেশটির ৪০তম বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালে বিশ্বময় স্বৈরশাসক কর্তৃক নাগরিক সমাজের ওপর নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে, বাকস্বাধীনতা বন্ধের প্রয়াস বেড়েছে, সুস্থ্য রাজনৈতিক চর্চা কমেছে। কমেছে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রয়াস।

এতে বলা হয়, বিশ্বের কর্তৃত্ববাদী শাসকেরা তাদের জনগণকে দমন করছেন। ক্ষমতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে- এমন সব কর্মকাণ্ড তারা প্রবল ও আক্রোশপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রযুক্তির এই যুগে সুশীল সমাজকে দমন করতে নিত্য-নতুন তৎপরতা চালাচ্ছে কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো।

এতে উত্তর কোরিয়া, কিউবা, চীন, ইরান, সুদান ও উজবেকিস্তানসহ বিভিন্ন সরকারের সমালোচনা করা হয়।

এছাড়া ইসলামিক স্টেট-আইিএস সন্ত্রাসী গোষ্ঠি সাধারণ নাগরিকদেরকে হত্যা করছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে তাদেরও কড়া সমালোচনা করা হয়।

আর মানবাধিকারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও ব্লগার হত্যা, গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের ওপর বিধিনিষেধ।

পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক নির্যাতন ও হয়রানি, বিচারের আগেই আটক রাখাকেও সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা ছাড়াও ওই প্রতিবেদনে নাগরিকদের গোপনীয়তার অধিকারে হস্তক্ষেপকেও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মানবাধিকার প্রতিবেদনের ব্যাপারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, প্রতিবেদনে প্রকাশিত বিষয়গুলো যুক্তরাষ্ট্রের বানানো নয়। যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকারের কোনো মানদণ্ডও নির্ধারণ করে দিতে চায় না। কারও ওপর আরোপও করতে চায় না।

তিনি বলেন, মানবাধিকারের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক এবং বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ এসব মেনে চলতে অঙ্গীকারবদ্ধ। মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে সব দেশের, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র সরকারেরও করণীয় রয়েছে।

(টুডে সংবাদ/তমাল)

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে www.todaysangbad.com