তামাশাকে সুষ্ঠু নির্বাচন বলা হাস্যকর : মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

টুডে সংবাদ ডেস্ক : স্থানীয় সরকারের তৃণমূল পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের নামে যা সম্পন্ন হল তাকে এক কথায় ‘তামাশা’ বললে কম বলা হবে। আগেও এই নির্বাচনকে কমবেশি ঠাট্টা-তামাশার বিষয়ে পরিণত করা হয়েছিল। কিন্তু এবার যা ঘটল তা সর্বকালের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচন ঘিরে এবার যে টাকার খেলা দেখা গেছে, তা অতীতে এমন প্রকটভাবে দেখা যায়নি। পেশিশক্তির মহড়াও অতীতের রেকর্ড ম্লান করে দিয়েছে। প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে আত্মসমর্পণের অসহায়ত্ব, ভীতি। সাম্প্রদায়িক ধূম্রজাল সৃষ্টিতেও পিছিয়ে ছিল না এ নির্বাচন। সব মিলিয়ে ব্যাপারটা বলা চলে আগাগোড়াই প্রহসনে পরিণত করেছে।

নির্বাচনে জয়-পরাজয় ব্যাপারটাকে যেমন একদিকে ‘কেনাবেচার’ বিষয়ে রূপান্তরিত করা হয়েছে, তেমনই চলেছে অবাধে দেদারসে নমিনেশন বাণিজ্য। আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হোন্ডা-গুন্ডা কম্পিটিশন।

বর্তমান নির্বাচন কমিশন কেবল বসে বসে বেতন খাচ্ছে এবং এ ধরনের তামাশা ও প্রহসনকে ‘সুষ্ঠু নির্বাচন’ বলে চালিয়ে দেয়ার হাস্যকর প্রয়াস পাচ্ছে।

প্রথম পর্বের ইউপি নির্বাচন থেকেই স্পষ্ট ও পরিষ্কার প্রতীয়মান হচ্ছে যে, পরবর্তী পর্বগুলোতে এমনই হবে। হতে পারে সেগুলো হবে আরও বেশি, এমনকি শতভাগ তামাশায় ভরপুর। যেখানে কয়েক পর্বে ভাগ করে স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা যেত, সেখানে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতায়, অলসতায় ঠিক তার বিপরীত ঘটনা ঘটেছে। কলুষিত হয়ে পড়েছে নির্বাচন প্রক্রিয়া। একটা বাংলা প্রবাদ আছে- ‘সব ভালো যার, শেষ ভালো তার’। এই নির্বাচন কমিশন তার শেষ নির্বাচনী দায়িত্বকে চূড়ান্ত প্রহসনে পরিণত করে ওই প্রবাদের মতো তার সমগ্র কর্মকাণ্ডকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্র্টি

(টুডে সংবাদ/তমাল)
প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে
www.todaysangbad.com