ডিবির হাতে ৫০ জনের তালিকা

জেলা প্রতিনিধি :বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ফরিদ নাবিরই বাংলাদেশ চিনিয়েছিলেন ভয়ঙ্কর প্রতারক বিদেশি নাগরিক পিওটর সিজোফেন মাজুরেককে (ছদ্মনাম থমাস পিটার)। অপরাধ কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশ অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে নিরাপদ—ফরিদ নাবিরের এমন বর্ণনায় পিওটরের নেতৃত্বে এ দেশে চলে আসে আন্তর্জাতিক জালিয়াত চক্র। রাজধানীর গুলশানের গেস্টহাউস হলিডে প্লানেটে অবস্থান করে চালাতে থাকেন অপরাধ কর্মকাণ্ড। ফরিদকে গ্রেফতারের জন্য ইন্টারপোলের সহায়তা চাইবেন তদন্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে বাংলাদেশে অবস্থানরত ১০টি বিদেশি ব্যাংকে কর্মরত স্টাফ, একাধিক শো-রুমের মালিকসহ মোট ৫০ জন ব্যক্তির তালিকা করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের অন্তত ১০ জনকে শিগগিরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে। সন্তোষজনক উত্তর না মিললে তাত্ক্ষণিকভাবেই তাদের গ্রেফতার দেখানো হবে বলে নিশ্চিত করেছে তদন্ত সূত্র।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ইতিমধ্যে ওই ১০ জনের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাদের কাছে এসেছে। এখন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এবং প্রয়োজনে গ্রেফতারদের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর বাইরে ব্রিটিশ নাগরিক ফরিদকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্ত কর্মকর্তা। পুলিশের বিশেষ শাখার সূত্র বলছে, সর্বশেষ চলতি মাসের ২ তারিখ বাংলাদেশ ত্যাগ করেন ফরিদ নাবির। তাকে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদায় জানান পিওটর এবং তার দুই সহযোগী ইউক্রেনের নাগরিক এন্ড্রিয়ারসন ও বুলগেরিয়ার রোমিও। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্রিটেনের হ্যাম্পশায়ারে হোটেল রয়েছে ফরিদ নাবিরের। ওই হোটেলেই পিওটরের সঙ্গে পরিচয় হয় ফরিদের। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেখানে অবস্থান করেই তারা বাংলাদেশের সিটি ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী এ সম্পর্ক তৈরিতে ওই চক্রে থাকা সুন্দরী নারী সদস্যদের কাজে লাগায় তারা। ওই দুই সুন্দরী একাধিকবার বাংলাদেশেও এসেছিলেন। তবে নেপথ্য থেকে পিওটরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন ফরিদ। করা হয় দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে এটিএম মেশিন সরবরাহ করার ফন্দি আঁটেন তারা। কয়েকটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা যোগাযোগও করেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে। এই টার্গেট বাস্তবায়িত হলেই তারা ওই মেশিনগুলোতে পাঞ্চ করা প্রতিটি কার্ডের সব তথ্য পেয়ে যেত। ঘটত একের পর এক কার্ড জালিয়াতি। মাঝেমধ্যেই উধাও হয়ে যেত গ্রাহকদের আমানত। এ অপরাধ ঠেকাতে হিমশিম খেতে হতো সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে যাদেরই নাম আসবে তাদের অন্তত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে। প্রসঙ্গত, চলতি মাসের ৬ ও ৭ তারিখ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত বেসরকারি তিনটি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে অন্তত ২০ লাখ টাকা তুলে নেয় চক্রটি। টাকা হাতিয়ে নিতে তারা স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে গ্রাহকদের গোপন তথ্য চুরি করে। এরপর ঘটনার শিকার ২১ জন সাধারণ গ্রাহক ছাড়াও সংশ্লিষ্ট ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল), সিটি ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে টনক নড়ে। এ খাতের কড়া নিরাপত্তা সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকও দ্রুত এগিয়ে আসে। ডিবির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ শাহজাহানের নেতৃত্বে একটি দল পিওটরসহ সিটি ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে সোমবার গ্রেফতার করে আদালতের নির্দেশে ছয় দিনের রিমান্ডে নেয়।

(টুডে সংবাদ/সানি)