ইয়েমেনী শিশুদের খাদ্যসংকট নিরসন করা সৌদি বাদশার ঈমানী দায়িত্ব : সাগর সামস্

নিজস্ব প্রতিবেদক : মহানবী রসূলে করিম (স) যুদ্ধের ময়দানে তাঁর সেনাবাহিনীকে (মুজাহিদ) বলতেন, ‘নারী, শিশু, বৃদ্ধ, নিরস্ত্র ও পলায়নরত শত্রুদের আঘাত করবেন না। যুদ্ধের কারণে যেসব নারী, শিশু এবং বৃদ্ধ ব্যক্তি নিরুপায় হয়ে পড়তেন, মহানবী (স) তাদের দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নিতেন। রসূলে করিম (স) ছিলেন, মানব জাতির অনুকরণীয় জীবনাদর্শ। সৌদি অরবের বাদশা যদি মহানবী (স) এর অনুসারী হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর ঈমানী দায়িত্ব হলো, মহানবী (স)-কে অনুকরণ করা। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের আগ্রাসী হামলার কারণেই ইয়েমেনে ৫০ লাখেরও বেশি শিশু খাদ্যসংকটে পড়েছে। সুতরাং ইয়েমেনের শিশুদের খাদ্য সরবরাহ ও তাদের প্রতিপালনের দায়িত্ব সৌদি সরকারকেই নিতে হবে। বাংলাদেশ মানবতাবাদী দল-বিএইচপি ইয়েমেনের শিশুদের প্রতিপালনের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য সৌদি আরবের বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ এর প্রতি উদ্বাত্ব আহ্বান জানাচ্ছে।

২০ সেপ্টেম্বর বিকালে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ মানবতাবাদী দল-বিএইচপির মহাসচিব ড. সুফি সাগর সামস্ উপরোক্ত আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, খাদ্য ও জ্বালানির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় ইয়েমেনে ৫০ লাখেরও বেশি শিশু দুর্ভিক্ষ ঝুঁকিতে রয়েছে। লোহিত সাগরের হুদাইদা বন্দর থেকে রসদ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশটিতে খাদ্যাভাব নজিরবিহীন পর্যায়ে রয়েছে। দেশটিতে নতুন করে আরও ১০ লাখ শিশু দুর্ভিক্ষের ঝুঁকির মুখে পড়বে। সব মিলিয়ে ৫২ লাখ শিশু চরম দুর্ভিক্ষঝুঁকিতে রয়েছে। হাসপাতালে লাখ লাখ শিশু একবার খাবার পেলে তারা জানে না পরবর্তী খাবারটি কখন পাবে অথবা আদৌ পাবে কি না। সেখানে শিশুদের কান্না করারও শক্তি নেই, ক্ষুধায় তাদের দেহ অবসন্ন হয়ে গেছে। চলতি বছরের শেষের দিকে ৩৬ হাজারের বেশি শিশুর প্রাণহানি ঘটবে। ইয়েমেন এখন শিশুদের জন্য জাহান্নামে পরিণত হয়েছে। দেশটির ১ কোটি ১০ লাখ শিশু চরম খাদ্য সংকট ও নানা ধরনের অসুখে ভুগছে। এদের অনেকেই ঘরবাড়ি হারিয়ে শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে।

ড. সামস্ বলেন, এ মর্মান্তিক এবং হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের আগ্রাসী হামলার কারণেই। তাদের এ আগ্রাসী হামলায় এ পর্যন্ত ১৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

বিএইচপি মহাসচিব আরও বলেন, চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই ৩৬ লাখেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সমর্থিত আরেকটি শিয়া গোষ্ঠীর উত্থানের সম্ভাবনায় শঙ্কিত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও আরও সাতটি আরব দেশ হাদিকে ফের ক্ষমতায় বসানোর লক্ষ্যে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে ইয়েমেনজুড়ে লড়াই ছড়িয়ে পড়ে। মুসলিম জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ সংকট নিরসন করতে হবে।