কর্নেল তাহের বঙ্গবন্ধুকে শুধু হত্যাই করতে চায়নি, বঙ্গবন্ধুর নাম-নিশানা মুছে দিতে চেয়েছিল!

নিজস্ব প্রতিবেদক : কাঁদো বাঙালি কাঁদো। পিতার রক্তের ঋণ শোধ করা যায় না। তবে কৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যায়। কিন্তু দেশের সমগ্র নাগরিকরা কি সেটা করছে কিংবা করতে পারছে? পারছে না। কি কারণে পারছে না? পারছে না এই জন্য যে, জাতীয়ভাবে ১৫ অগাস্ট শোক উদযাপনের কোনো স্থান কিংবা কোনো ব্যবস্থাও নেই।

আজ ১৫ অগাস্ট জাতীয় শোক দিবসে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে বাংলাদেশ মানবতাবাদী দল-বিএইচিপর মহাসচিব ড. সুফি সাগর সামস্ উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের মাত্র ৪০ ভাগ মানুষ জাতীয় শোক দিবস উদযাপন করেছে! এর কারণ কী? এর কারণ রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা, সংকীর্ণতা, সঠিক কর্মপন্থা নির্ধারনে অদূরদর্শীতা।

সুফি সামস্ আরও বলেন, জাসদের প্রতিষ্ঠাতা কর্নেল আবু তাহের বঙ্গবন্ধুর খুনিদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, শেখ মুজিবের কবর দেয়া এ্যালাও করা ঠিক হয়নি। তার (বঙ্গবন্ধুর) লাশটাকে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া উচিৎ ছিল। কারণ, সেখানে এখন মাজার হবে এবং রাজনৈতিক ইমোশন সৃষ্টি হবে।

বিএইচপি মহাসচিব বলেন, কর্নেল তাহের বঙ্গবন্ধুকে শুধু হত্যা করতেই চায়নি, বঙ্গবন্ধুর নাম নিশানা বাংলার মাটি থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল! এজন্য সে বঙ্গবন্ধুর লাশ বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিতে চেয়েছিল!

ড. সামস্ বলেন, বঙ্গবন্ধুকে টুঙ্গিপাড়ায় কবর দেওয়ার মধ্য দিয়ে কর্নেল তাহেরের আংশিক মনোবাসনা পূর্ণ হয়েছে। কারণ টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি হওয়ায় ব্যাপক জনগোষ্ঠী সেখানে যেতে পারে না। আর একারণে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ইনোসেন্ট রাজৈতিক ইমোশন গড়ে উঠছে না। টুঙ্গিপাড়ায় যারা যায় তারা অধিকাংশই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থক।

বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ এই গবেষক আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর অসংখ্য অনুসারী আছে যে কারণেই হোক তারা আওয়ামী লীগ করে না, অন্যকোন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী হিসেবে কাজ করছে। শুধু রাজনৈতিক কারণে এই শ্রেণীর মানুষগুলো ১৫ অগাস্ট জাতীয় শোক দিবস উদযাপন করতে পারছে না।

মানবতাবদী এই নেতা বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ প্রায় সকল নেতাকর্মী বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করে, শুধু জাতীয় পার্টি কেন ব্যক্তিগত জীবনে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করেন। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে এবং জাতীয়ভাবে অর্থাৎ যেভাবে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে সকল শ্রেণিপেশার মানুষ শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, রাষ্টীয়ভাবে এরকম কোনো ব্যবস্থা না থাকার কারণে তারা ১৫ অগাস্ট জাতীয় শোক দিবস উদযাপন করতে পারছেন না। বঙ্গবন্ধুকে প্রতীক করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে এই রাজনৈতিক বাধা দূর করতে হবে। এজন্য আমাদের স্লোগান ‘রাজনীতি যার যার ‘বঙ্গবন্ধু’ সবার’।

ড. সুফি সাগর সামস এর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, বাংলাদেশ মানবতাবাদী দলের ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান, যুগ্ম-মহাসচিব (অর্থ) ফরিদ আহমেদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমির সোহেল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কান্তি দেবনাথ, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মোহসিন হোসাইন, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান, বিএইচপি সবুজবাগ থানা শাখার অাহ্বায়ক সুমন শাহ, দোহার থানা শাখার আহ্বায়ক শামীম শাহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।