শেখ হাসিনার আর্তনাদের নীরব সাক্ষী বেলজিয়ামের এয়ারপোর্ট : বিএইচপি

ইমানুর রহমান : বাংলাদেশ মানবতাবাদী দল-বিএইচপি’র মহাসচিব ড. সুফি সাগর সামস্ বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলজিয়ামের এয়ারপোর্টে আকাশ বাতাস কাঁদিয়ে চিৎকার করে মাতম শুরু করেছিলেন। সেদিন তাঁকে সান্তনা দেয়ার কেউ ছিল না। এক অসহায়, মাতা-পিতাহারা ভগ্নহৃদয়ের নারীর আর্তনাদের নীরব সাক্ষী হয়ে রইল বেলজিয়ামের এয়ারপোর্ট।

বাংলাদেশ মানবতাবাদী দল-বিএইচপি’র ফেসবুক পেইজে ড. সুফি সাগর সামস্ এসব কথা বলেছেন ।

টুডে সংবাদ পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো :

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর সময় শেখ হাসিনা ছিলেন বেলজিয়ামের একটি এয়ারপোর্টে। ইমিগ্রেশন অফিসার শেখ হাসিনার পাসপোর্ট দেখে ভ্রূ কুচক বললো, তুমি কী বাংলাদেশী ?

পিতার মৃত্যু শোকে কাতর কন্যা অনেক কষ্টে হা সুচক মাথা নাড়লে ওই অফিসারটি বললো , “তোমরা কেমন অকৃতজ্ঞ জাতি? যে মুজিব নিজের জীবন কে তুচ্ছ করে তোমাদের স্বাধীনতা এনে দিল, সেই তাকেই কিনা তোমরা এমন নির্মমভাবে হত্যা করে ইতিহাসে এমন নজীর সৃষ্টি করলে’ ? শেখ হাসিনা আর পারলেন না নিজেকে ধরে রাখতে। শোককে পারলেন না দমিয়ে রাখতে। আকাশ বাতাস কাঁদিয়ে চিৎকার করে মাতম শুরু করলেন। সেদিন তাঁকে সান্তনা দেয়ার কেউ ছিল না। এক অসহায়, সহায় মাতা-পিতাহারা ভগ্নহৃদয়ের নারীর আর্তনাদের নীরব সাক্ষী হয়ে রইল বেলজিয়ামের এয়ারপোর্ট।

যাযাবরের জীবন হয়ে গেলো বঙ্গবন্ধু কন্যার। এই দেশ থেকে সেই দেশ। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা। পালাতে পালাতে অবশেষে ঠাই হলো কলকাতার এক টিনের কুঠিরে। যিনি দেশকে স্বাধীনতা এনে দিলেন, ভাষা দিলেন, আইন দিলেন, জাতীয়তা দিলেন, সেই তিনি অযত্নে অবহেলায় শুয়ে রইলেন গোপালগঞ্জের এক নিভৃত পল্লীতে। আর তার কন্যা অনাদরে অপমানে নির্বাসিত হয়ে রইলেন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের এক অন্ধকার কুটীরে !

তখনকার বাংলাদেশে ঠাই হলো গোলাম আজোমের। পুনর্বাসন হলো একে একে সব রাজাকারের। কিন্তূ স্বদেশের মাটিতে অবাঞ্চিত হয়ে রইলেন বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা ! শত বাধা পেরিয়ে জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে বন্ধুর পথ পেরিয়ে সেদিনের অশ্রুসিক্ত পিতৃহারা কন্যাটিই আজকের বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী, লৌহ মানবী শেখ হাসিনা।

দেশের ইতিহাসকে তিনি আবার ফিরিয়ে আনলেন। দেশের মানুষের মুখে তিনি আবার হাসি ফুটাতে শুরু করলেন। রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের তিনি ফাঁসীর দড়িতে ঝুলিয়েছেন। দেশে আবার জয় বাংলার ধ্বনি প্রতিধ্বনিত করেছেন। এমন দিনে আমরা শুধু তার সমালোচনা নয়, বন্ধু এবং শুভানুদ্ধায়ী হিসেবে তার পাশে আছি। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। রাজনীতি যার যার ‘বঙ্গবন্ধু’ সবার।

টুডে সংবাদ/উদয়া