মালিক-শ্রমিকদের প্রয়োজনে জেলে ঢোকাতে হবে: নাসিম

স্টাফ রিপোর্টার : স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং চৌদ্দ দলীয় জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। সড়কে আর কোনো ধরনের নৈরাজ্য সহ্য করা হবে না। গতকাল দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৪ দলের এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। নাসিম বলেন, বিআরটিএর অবহেলা জাতি আর দেখতে চায় না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, লাইসেন্স আর ফিটনেস ছাড়া কোনো গাড়ি যেন সড়কে চলতে না পারে, ট্রাফিক পুলিশকে সেই নির্দেশ দিতে হবে। মন্ত্রী-এমপি যে-ই হোক গাড়ির কাগজ না থাকলে কাউকে ছাড় দেয়া যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন নাসিম। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাস মালিক-শ্রমিকদেরকে প্রয়োজনে জেলে ঢোকাতে হবে।

এদিকে বৈঠক সূত্র জানায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আরও একাধিক আন্দোলনের আশঙ্কা করছে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা। এ জন্য তারা সরকারকে সচেতন থাকার পাশাপাশি এ ধরনের পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন।

জানা গেছে, বৈঠকে শরিকরা মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে তাদের ক্ষোভের কথা জানায়। আইনে সর্বনিম্ন শাস্তি উল্লেখ না থাকাসহ বেশ কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকার কথাও বলে শরিকরা। তারা আইনটি চূড়ান্ত করার আগে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেয়। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের প্রতিশ্রুতি ৯ দফা দাবি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকেও নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের তীব্র সমালোচনা করা হয়। গাড়ির চালকসহ পরিবহন শ্রমিকদের বেপরোয়া হওয়ার জন্য তারা পরোক্ষভাবে নৌমন্ত্রীকেই দায়ী করে। চালক হওয়ার জন্য ‘গরু-ছাগল-মানুষ আর রাস্তা চিনলেই হয়’ নৌমন্ত্রীর এই বক্তব্য উদ্ধৃত করে শরিক দলের এক সদস্য বৈঠকে বলেন, ‘এ ধরনের বক্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই পরিবহন শ্রমিকরা আশকারা পেয়ে যায়।’

সরকারের প্রতিশ্রুতিতে এমপিওভুক্তি ও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা ঘরে ফিরে গেলেও তারা আউটপুট না পেলে, আবারও রাজপথে নামতে পারে। আর সুযোগ সন্ধানীরা এসব ইস্যু কাজে লাগাতে পারে। নির্বাচনের আগে সরকারকে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কেবল প্রশাসনিক ভাবে না করে এইসব বিষয়গুলো রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

আনিসুর রহমান মল্লিকের সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া প্রমুখ অংশ নেন।

টুডে সংবাদ/রুবাইয়া আখতার