সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ‘স্বাধীনতা চত্বর’ নাম করণের দাবি বিএইচপি’র

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ মানবতাবাদী দল-বিএইচপি’র মহাসচিব ড. সুফি সাগর সামস্ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ‘স্বাধীনতা চত্বর’ নামে নামকরণ করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি ৭ আগস্ট তার দলের ফেসবুক পেইজের স্ট্যাটাসে বলেছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে স্বাধীনতা চত্বর ঘোষণা করে সেখানে বঙ্গবন্ধুর একটি প্রতিকৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের জাতীয় স্মৃতিসৌধ স্থাপন করতে হবে; যাতে দল, মত, নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকবৃন্দ একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধু ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞাতা, সম্মান ও শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের এদিনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এদিন বঙ্গবন্ধু ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এবং আত্মীয়-স্বজনসহ ২৬ জনকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকার কারণে তাঁরা প্রাণেরক্ষা পেয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য একটি মহাশোকের দিন। এদিন দল, মত, নির্বিশেষে সমগ্র জাতির বঙ্গবন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা একান্ত নৈতিক কর্তব্য। কিন্তু জাতীয়ভাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের স্থান কোথায়? ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে বাংলাদেশ অওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ মানবতাবাদী দল ব্যতীত অন্যকোন দলের নেতাকর্মীরা যাচ্ছেন না। কারণ, এ প্রতিকৃতি জাতীয়ভাবে স্থাপন করা হয়নি। যেভাবে সকল দল, মত নির্বিশেষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়, একইভাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা উচিৎ। কারণ, বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধ এক ও অবিচ্ছেদ্দ অঙ্গ।

জাতীয়ভাবে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়। দল, মত, নির্বিশেষে সকলেই সাভারে স্থাপিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে পূষ্পার্ঘ্য করে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কিন্তু স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের যিনি নায়ক, স্বাধীনতার জন্য যিনি ১৪টি বছর জেল-জুলুম নির্যাতন সহ্য করেছেন, ২৩টি বছর লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, পরিশেষে সপরিবারে দেহের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে বাংলাদেশকে পরিপূর্ণভাবে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, সেই বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় না! স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের এসব জাতীয় অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত! এর চেয়ে হীনমন্যতা আর কি থাকতে পারে?

বিএইচপি মহাসচিব বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান জাতীয়ভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের জন্য বাঙালি জাতিকে পাগল করে দিয়েছিল। এ ভাষণের মধ্য দিয়ে নিরস্ত্র-নিরিহ বাঙালি বীর যোদ্ধায় রূপান্তরিত হয়েছিল। এ ভাষণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগাম ঘোষণা এবং গেড়িলাযুদ্ধ করে দেশ শত্রুমুক্ত করার দিক-নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশে^র অন্যতম ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ৭ই মার্চের ভাষণস্থলই আত্মসমর্পণ করেছিল। পাকিস্তানের কারাগাড় থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী ওই একই স্থানে বঙ্গবন্ধু তাঁর প্রাণের বাংলার মানুষের সাথে মিলিত হয়েছিলেন।

সুতরাং ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু যেখানে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিয়েছিলেন সেখানেই বঙ্গবন্ধুর একটি প্রতিকৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের জাতীয় স্মৃতিসৌধ স্থাপন করা একান্ত আবশ্যক ছিল। তাহলে সমগ্র জাতি একই সাথে বঙ্গবন্ধু ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারত। কিন্তু তা হয়নি। তবে এখনও স্থাপন করা যায়। একাধিক স্মৃতিসৌধ স্থাপনে দোষের কিছু নেই। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ‘স্বাধীনতা চত্বর ঘোষণা করে সেখানে বঙ্গবন্ধুর একটি প্রতিকৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের জাতীয় স্মৃতিসৌধ স্থাপন করতে হবে; যাতে দল, মত, নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকবৃন্দ একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধু ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞাতা, সম্মান ও শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন।

(টুডে সংবাদ/তমাল)

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে www.todaysangbad.com