যে ব্যক্তিদের মৃত্যুর পর জান্নাতি পোশাক ও বিছানা দেয়া হবে

ধর্ম ডেস্ক : ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা আখিরাতের পুঁজি সঙ্গে করেই কবরে যায়। এই শ্রেণির মানুষদের জন্য অন্ধকার কবরে সুসংবাদ অপেক্ষা করছে। মৃত্যুর পর থেকে কবর দেয়া পর্যন্ত লাশের পরিণতি সম্পর্কে হাদিসে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।ইবন আযেব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স.) এর সঙ্গে এক আনসারীর জানাযার সালাতের জন্য বের হয়ে কবর পর্যন্ত গেলাম, তখনও মাটি দেওয়া হয় নি, রাসূলুল্লাহ (স.) কিবলামুখী হয়ে বসলে আমরাও তার পাশে বসলাম। সকলেই এমন নীরবতা অবলম্বন করছে যেন তাদের মাথায় পাখি বসেছে (কোনো নড়াচড়া নেই)।

রাসূলুল্লাহ (স.) এর হাতে একটি কাঠি ছিল, যার দ্বারা তিনি মাটিতে দাগ দিচ্ছিলেন। অতঃপর তিনি একবার আকাশের দিকে আবার মাটির দিকে তাকাতে লাগলেন এবং তার দৃষ্টি একবার উপরের দিকে তুলেন আবার নিচের দিকে নামান, (এভাবে তিনবার করলেন) অতঃপর বললেন, তোমরা আল্লাহর নিকট কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা কর। (এ কথাটি দুই বা তিনবার বললেন)

তারপর বললেন, হে আল্লাহ! কবরের আযাব থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি, কথাটি তিনবার বললেন। তারপর বললেন, মুমিন বান্দা যখন ইহকাল ত্যাগ করে পরকালের দিকে অগ্রসর হয়, তখন তার নিকট সূর্য্যসদৃশ শুভ্র বর্ণের মুখবিশিষ্ট ফিরিশতা জান্নাতের কাফন ও সুগন্ধি নিয়ে আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয়ে চোখের শেষ দৃষ্টি দূরত্বে বসে থাকে।

অতঃপর মালাকুল মাউত তার মাথার পাশে বসে বলতে থাকে হে পবিত্র আত্মা! অন্য বর্ণনায় হে শান্তিপ্রিয় আত্মা! আল্লাহর ক্ষমা এবং সমষ্টির দিকে বের হয়ে আস। তিনি বলেন, তখন সে আত্মা কলসির মুখ থেকে পানি বের হওয়ার ন্যায় শরীর থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে আসলে মৃত্যুর ফিরিশতা তা হাতে তুলে নেন।

অন্য বর্ণনায় আছে, যখন তার রূহ বের হয় তখন আকাশ ও জমিনসহ সকল ফিরিশতা তার জন্য দোয়া করতে থাকে, সেই সঙ্গে তার জন্য আকাশের সকল দরজা খুলে দেওয়া হলে প্রত্যেক দরজার অধিবাসীগণ আল্লাহর নিকট দোয়া করে যেন তার রূহটি তাদের নিকট দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মালাকুল মাউত রূহটি হাতে নিয়ে এক মুহুর্তের জন্যও তার হাতে রাখতে পারেন না, বরং সঙ্গে সঙ্গে সেই অপেক্ষাকারী ফিরিশতারা নিয়ে জান্নাতের সুগন্ধি সম্বলিত কাফনে তুলে নেয়।

তাইতো আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমার ফিরিশতাগণ হস্তগত করে নেয়, বিন্দুমাত্র ত্রুটি করে না। (সূরা আল আনয়াম, আয়াত: ৬১)

তা থেকে পৃথিবীতে পাওয়া যায় এমন সর্বোৎকৃষ্ট মিশকের সুগন্ধি বের হতে থাকে। তিনি বলেন, তারপর তা উপরে উঠতে থাকে, যখনই কোনো ফিরিশতার নিকট দিয়ে অতিক্রম করে তখনই সে বলে, এ পবিত্র আত্মাটি কার? তখন পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর যে নামে তাকে ডাকা হতো সে নাম ধরে বলবে: এটি অমুকের ছেলে অমুক, যতক্ষণ না পৃথিবীর আকাশ পর্যন্ত যাবে। সেখানে পৌঁছে দরজা খুলে দেওয়ার জন্য বললে তা খুলে দেওয়া হবে। অতঃপর প্রত্যেক আকাশের নৈকট্য লাভকারী ফিরিশতাগণ তার অনুসরণ করবে যতক্ষণ না সপ্তম আকাশ পর্যন্ত পৌঁছাবে।

সেখানে পৌঁছার পর আল্লাহ বলবেন, আমার এ বান্দার ঠিকানা ইল্লিয়্যিনে লিখে দাও। আপনি জানেন ইল্লিয়্যিন কি? এটি একটি লিপিবদ্ধ দফতর, আল্লাহর নৈকট্য লাভকারী ফিরিশতাগণ একে প্রত্যক্ষ করবে। (সূরা আল-মুতাফফিফীন, আয়াত: ১৯-২১)

তখন তার কিতাব ইল্লিয়্যিনে লেখা হয়। অতঃপর বলা হবে, তাকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে দাও, কেননা আমি তাদেরকে অঙ্গিকার দিয়েছি যে, তা থেকে তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এবং তাতে ফিরিয়ে দেব আবার তা থেকেই পূনরায় উত্তোলন করব। নবী করিম (স.) বলেন, তাকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে তার শরীরে তার রূহ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তখন সে তার ফিরে যাওয়া সঙ্গীদের জুতার আওয়াজ শুনতে পাবে। অতঃপর হুংকারকারী শক্তিশালী দুইজন ফিরিশতা এসে তাকে ধমক দিয়ে বসিয়ে প্রশ্ন করবে: তোমার রব কে?
সে বলবে: আমার রব আল্লাহ।
তারা বলবে: তোমার দীন কি?
বলবে: আমার দীন ইসলাম।
তারা বলবে: তোমাদের নিকট প্রেরিত লোকটি কে?
সে বলবে: তিনি হচ্ছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
তারা বলবে: তুমি কীভাবে জানলে?
সে বলবে: আল্লাহর কিতাব পড়েছি, এর ওপর ঈমান এনেছি এবং বিশ্বাস করেছি।
তাকে ধরে জিজ্ঞাসা করে বলবে: তোমার প্রভু কে? তোমার দীন কি? তোমার নবী কে? আর এটিই হবে মুমিন আত্মার ওপর অর্পিত শেষ ফিতনা।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা মুমিন বান্দাদেরকে পার্থিব জীবনে মজবুত বাক্য দ্বারা মজবুত করেন।’ (সূরা ইব্রাহীম, আয়াত: ২৭)

সে বলবে আমার রব আল্লাহ, দীন ইসলাম এবং নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তখন আকাশ হতে একজন আহ্বানকারী আহ্বান করবেন যে, আমার বান্দা সত্য বলেছে। সুতরাং তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে জান্নাতের পোশাক পরিধান করিয়ে দাও।

তিনি বলেন, তখন জান্নাত থেকে সুগন্ধির হাওয়া আসতে থাকবে এবং তার জন্য তার কবরকে চোখের শেষ দৃষ্টি পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, তার নিকট সুশ্রী সুন্দর পোশাক পরিহিত একজন ফিরিশতা আসবে, অন্য বর্ণনায়, তার বেশ ধরে এসে বলবে: তোমাকে আনন্দিত করবে এমন একটি সুসংবাদ গ্রহণ কর। আল্লাহর সমত্তষ্টি এবং অসীম শান্তি বিশিষ্ট জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর।

টুডে সংবাদ/ইমানুর রহমান
প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে www.todaysangbad.com ভিজিট করুন,লাইক দিন এবং শেয়ার করুন।