ইবিতে দলীয় কর্মীকে পেটালো ছাত্রলীগ

ইবি প্রতিনিধি : বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দলীয় কর্মীকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আহত ওই ছাত্রলীগ কর্মীর নাম শাকিল আহমেদ। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

শনিবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে দশটার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ২০৮ নম্বর রুমে সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীরা এ মারধরের ঘটনা ঘটিযেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। পরে শাকিলকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারেপ্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলা দেখার কথা বলে শাকিলকে হলের ২০৮ নম্বর রুমে ডেকে নেয় শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীরা। এসময় সেখানে ছাত্রলীগ কর্মী শাকিলের বিভাগের বন্ধু স্বঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আহমেদ বিশাল, আব্দুল্লাহ হিমু, খন্দকার রিদওয়ানতূর্য, একই বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ইসতিয়াক রিয়াদ, সৌরভ, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সাফায়েত হোসেন সাগরসহ ৮-৯ জন অবস্থান করছিলেন।

খেলা দেখার এক পর্যায়ে আর্জেন্টিনা হারার উপক্রম হলে ছাত্রলীগ কর্মীরা শাকিলকে উত্তক্ত করতে থাকে। শাকিলও তাদের কথার প্রতিউত্তর দিতে থাকে। একপর্যায়ে বিশাল শাকিলকে মারার জন্য তেড়ে আসে। এসময় শাকিল রুম থেকে বের হয়ে আসে। পরে খেলা শেষে শাকিলকে আবারও তারাঐ রুমে ডেকে নিয়ে হুমকি দিতে থাকে। এসময় বিশাল শাকিলকে গালিগালাজ করতে থাকে।

বিভাগের জুনিয়রদের সামনে অপমান মেনে নিতে না পারায় প্রতিউত্তর করে শাকিল।দুর্ব্যবহার সহ্য করতে না পেরে শাকিল আবারও রুম থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তাকে ঘরের দরজা বন্ধ করে বেধড়ক মারধরকরে তারা। তাদের উপর্যুপুরি আঘাতে হাত-পা ও পিঠে মারত্মক জখম হয় শাকিল। পরে তার বন্ধুরা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে ভূক্তভোগী শাকিল আহমেদ বলেন, ‘আর্জেন্টিনা হেরে গেলে বিশাল আমাকে মারার হুমকি দেয়। আমি বিষয়টিকে মজা হিসেবে নিয়েছিলাম। কিন্তু সে জুনিয়র ও বন্ধুদের সামনে আমাকে অপমান করতে থাকে। আমি এর প্রতিউত্তর দিলে তারা ক্ষেপে গিয়ে আমাকে লাঠি, চেয়ার দিয়ে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে।’

শাকিল আরো বলেন, ‘বিশাল বন্ধুদের উপর সবসময় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে। সবাইকে তার অনুসারী করে রাখতে চায়। যে এর প্রতিবাদ করে বা কথা না শোনে তার সঙ্গে সে এমন আচরণ করে। ফলে বিশাল বন্ধুদের নিকট ক্ষোভের পাত্র হয়েছে বলে জানান তিনি।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত চার মাস আগে জিয়া হলের ২০৮ নম্বার রুমকে রাজনৈতিক আড্ডার রুম করে সাধারণ সম্পাদক গ্রæপের ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাতের কর্মীরা। রুমে আলাদা টেলিভিশন ও চেয়ার এর ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে ২০৮ নম্বর রুম দৈনন্দিন আড্ডার স্থানে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে সেটি টর্চার সেল নামেও সকলের কাছে পরিচয় পায়। বিভিন্ন সময় সেখানে সাধারণ ছাত্রদের নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে।

এবিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম বলেন, ‘ঘটনাটি শুনে তাৎক্ষণিক ভাবে সমাধান করে দিয়েছি।’

টুডে সংবাদ/ইমানুর/জাকিয়া