এক মাসে ৮৪৮ অভিযান, গ্রেফতার ৪,৭৬৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : সারা দেশে র‍্যাবের টানা এক মাসব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৪ জন নিহত এবং ৪,৭৬৫ জন গ্রেফতার হয়েছে। এর মধ্যে র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেছে ৩,৬৬৬ জনকে। জরিমানা আদায় করা হয়েছে এক কোটি ২৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

সোমবার র‌্যাব সদর দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

র‌্যাব জানায়, গত মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার জন্য র‌্যাবকে নির্দেশনা দেন। নির্দেশনা পাওয়ার পর গত ৪ মে থেকে র‌্যাব সারা দেশে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু করে। টানা ৯ দিন অভিযান শেষে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন র‌্যাবের মহা পরিচালক বেনজীর আহমেদ। এ সময় তিনি ”মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ” ঘোষণা করেন।

এর পর ২০ মে রাজধানীর গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট ‘’চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ওই অনুষ্ঠানে র‌্যাবপ্রধান বলেছিলেন, অভিযানের পাশাপাশি সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ কর্মসূচি শুরু করেছে র‌্যাব। বিশেষ করে যানবাহন, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, বাজার, ফেরিঘাট, বিপনী বিতানসহ জনসাধারণ সমাগম হয় এমন এলাকায় এ প্রচারণা বেশি চালানো হবে।

৪ জুন দেশে মাদকবিরোধী অভিযানের এক মাস পূর্ণ হয়েছে। টানা এক মাসে তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে – এমন দাবি করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, এক মাসে সারা দেশে ৮৪৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ১,০৯৯ জনকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৬৩ কোটি টাকার মাদক। এর মধ্যে রয়েছে ৪,৪০৭ কেজি হেরোইন, ৯ লাখ ১ হাজার ৫৬ পিস ইয়াবা, ৭,৪৬১ বোতল ফেন্সিডিল, ৫ লাখ ৯১,৫১৭ কেজি গাঁজা, ২,১৬১ বোতল বিদেশী মদ, ১ লাখ ৬৮,৯৫৫ লিটার দেশী মদ।

এছাড়াও র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে ৩,৬৬৬ জনকে গ্রেফতার করা করেছে, যার মধ্যে ৫৬৬ জন মাদক ব্যবসায়ী ও ৩,১০০ জন মাদকসেবী রয়েছে। আসামিদের মধ্যে ৩,১০০ জনকে সাত দিন থেকে দুই বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। বাকি ৫৬৬ জনকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে মোট এক কোটি ২৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

এদিকে, র‌্যাবের দেয়া তথ্যমতে, গত এক মাসে র‌্যাবের সঙ্গে গুলিবিনিময়কালে ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফের আলোচিত পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকও রয়েছেন।

মাদক ব্যবসায়ী নিহতদের তালিকা

মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর গত ১৫ মে নারায়ণগঞ্জ ও কুষ্টিয়ার দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন। তারা হলেন রিপন ও হামিদুল ইসলাম। র‌্যাবের দাবি, তারা দুই জনই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। ১৭ মে রাজশাহীতে আবুল হাসান, ১৮ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আব্দুল আলিম, চট্টগ্রামে হাবিবুর রহমান ওরফে মোটা হাবিব ও মোশাররফ, ১৯ মে যশোরের অভয়নগরে আবুল কালাম, হাবিব শেখ ও মিলন কাশারী, ২১ মে টাঙ্গাইলে আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহীতে লিয়াকত আলী মন্ডল, ঝিনাইদহে ছব্দুল মন্ডল, নরসিংদীতে ইমান আলী, ২২ মে চট্টগ্রামে শুক্কুর আলী, ফেনীতে মঞ্জুরুল আলম, বি-বাড়ীয়ায় ধন মিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বাচ্চু মিয়া, ২৩ মে গাইবান্ধায় রাজু ও ফেনীতে ফারুক, ২৫ মে রাজধানীর তেজগাঁয়ে কামরুল, ২৬ মে দিনাজপুরে সাবদারুল ও জয়পুরহাটে রেন্টু শেখ, ২৭ মে টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক, ২৮ মে নাটোরের খালেক, ২৯ মে বরগুনার ফিরোজ মৃধা, ৩০ মে কক্সবাজারের মজিবুর রহমান, চট্টগ্রামের ইয়াবা ইসহাক, সিরাজগঞ্জের আশান হাবীব, রাজধানীর ভাসানটেকে আতাউর রহমান ওরফে আতা, বাপ্পী, মোস্তফা হাওলাদার ওরফে কসাই মোস্তফা, ১ জুন রাজশাহীতে বেলাল হোসেন, নাজমুল হক এবং সর্বশেষ ৩ জুন টাঙ্গাইলে মো. রুহুল ওরফে কাওলা রুহুল নিহত হয়েছেন।

এদিকে, টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হওয়ার ঘটনার পর তার স্ত্রী আয়েশা বেগম কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করেন। পরদিন একরামুল হকের সঙ্গে সর্বশেষ মোবাইলে কথোপকথনের কথা জানান তিনি। পর কাউন্সিলর একরাম ‘হত্যার’ অডিও গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়ে ওঠে।

তবে এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিবর্ষণের অন্যান্য ঘটনার মতো এই ঘটনাও তদন্ত করা হবে। ইতোমধ্যে ওই অডিওটি সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।

প্রকাশ হওয়া অডিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালন মুফতি মাহমুদ খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করতে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

টুডে সংবাদ/ইমানুর রহমান/সু.জা