তিন বছরে দুর্ঘটনায় নিহত ১১৭, আহত ৩২, দিশেহারা পরিবার

• ২৫ স্থানেই হতাহত বেশি
• ৯টি পদচারী-সেতু ব্যবহার করছেন না পথচারী
• দিশেহারা পরিবার

আসাদুজ্জামান : সহকারী কমিশনার সাইফুল আলম মোজাহিদ ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগে কর্মরত আছেন। গত ২৬ মার্চ ভোরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য চকবাজারের বাসা থেকে পুলিশের গাড়িতে করে দারুস সালাম যাচ্ছিলেন। শাহবাগ মোড়ে মৎস্য ভবন থেকে আসা একটি ট্রাক তাঁদের গাড়িকে ধাক্কা দেয়। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ওই গাড়ি থেকে পুলিশ কর্মকর্তা মোজাহিদ ও তাঁর গাড়িচালক পুলিশ কনস্টেবল কামাল উদ্দিনকে উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। কয়েক দিন আগে হাসপাতাল থেকে বাসায় আসা অসুস্থ এই পুলিশ কর্মকর্তা এখনো কাজে যোগ দিতে পারেননি।

সেদিনের কথা বলতে গিয়ে সাইফুল আলম বললেন, মৃত্যুর হাত থেকে সেদিন তিনি বেঁচে গেছেন। গাড়িচালকেরা মানুষকে মানুষ মনে করছেন না। বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে তাঁরা রাস্তায় মানুষ মেরে চলেছেন।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত (সিএমএম) এবং রমনা, শাহবাগ ও তেজগাঁও থানায় দায়ের করা মামলা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৯ মাসে রাজধানীর প্রেসক্লাব এলাকা থেকে বিজয় সরণির মোড় ও উড়োজাহাজ ক্রসিং এবং এর আশপাশের সড়কগুলোতে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১১৭ জনের। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। দেখা গেছে, এই ভিআইপি সড়কের ২৫টি স্থানে সড়ক দুর্ঘটনা বেশি হয়েছে। এ জন্য চালকেরা যেমন দায়ী, তেমনি পথচারীদের অসতর্কতাকেও দায়ী করেছে পুলিশ।

বেপরোয়া চালক আর অসতর্ক পথচারীর যত্রতত্র পারাপার সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মীর রেজাউল আলম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে তিনি বলেন, রাস্তার সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ পথচারী নিজেই। আর বেপরোয়াভাবে চালকেরা তো গাড়ি চালাচ্ছেনই, তবে নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে পুলিশ সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কাজ করছে বলে জানান অতিরিক্ত কমিশনার মীর রেজাউল। তিনি জানান, তাঁর এক পরিচিতজন সম্প্রতি হাইকোর্টের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন।

তিন বছর আগে প্রেসক্লাবের সামনের সড়ক দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় বাসের ধাক্কায় নিহত হন গোয়েন্দা কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার। এ এলাকাতেই মারা গেছেন আরও পাঁচজন ব্যক্তি। যাঁরা সবাই ছিলেন পথচারী। রাস্তা পার হওয়ার সময় সবাই গাড়ির নিচে পড়ে বা ধাক্কায় নিহত হন।

কানে মোবাইল, হাতে ব্যাগ। দুই বাসের মাঝখানে সরু জায়গা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পার হচ্ছেন পথচারী। তোপখানা রোড, ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশকানে মোবাইল, হাতে ব্যাগ। দুই বাসের মাঝখানে সরু জায়গা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পার হচ্ছেন পথচারী। তোপখানা রোড, ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

প্রেসক্লাবের খুব কাছেই কদম ফোয়ারা মোড়। গুলিস্তান, পল্টন ও মৎস্য ভবন থেকে আসা গাড়িগুলো এই গোল চত্বর হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যায়। গত ১৯ জানুয়ারি দুপুরে ২৩ বছর বয়সী বিশাল কুমার পল্টন থেকে হেঁটে যাচ্ছিলেন বংশালের দিকে। কদম ফোয়ারা মোড় হয়ে শিক্ষা ভবনের দিকে যাওয়ার সময় পেছন থেকে একটি বাস তাঁকে ধাক্কা দেয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। আরও দুজন এই মোড়েই মারা যান।

কদম ফোয়ারার খুব কাছেই হাইকোর্টের প্রধান গেট। এর উল্টো দিকেই গণপূর্ত ভবন। হাইকোর্টের প্রধান গেটের সামনেই মারা গেছেন তিনজন। এঁরাও ছিলেন পথচারী।

হাইকোর্টের প্রধান গেট থেকে দেখা যায় বার কাউন্সিল ভবন। এর সামনে ২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন সিরাজুল ইসলাম। তিনি ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা। এই বার কাউন্সিল ভবনের সামনের সড়কে মারা গেছেন তিনজন। বার কাউন্সিল ভবনের একেবার কাছেই মৎস্য ভবন মোড়। এই মোড়েই তিন বছরে মারা গেছে সাতজন। মৎস্য ভবনের পর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন ভবন। এর সামনেও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন দুজন।

মৎস্য ভবন মোড়েও প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে দৌড়ে সড়ক পার হচ্ছেন পথচারীরা। মৎস্য ভবন মোড়, ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশমৎস্য ভবন মোড়েও প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে দৌড়ে সড়ক পার হচ্ছেন পথচারীরা। মৎস্য ভবন মোড়, ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট পার হলে শাহবাগ মোড়। এই মোড় ও এর আশপাশের সড়কে মারা গেছেন নয়জন। শাহবাগ মোড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বারডেম হাসপাতাল। এর সামনেও পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন দুজন।

পিজি হাসপাতাল পার হলে শেরাটন হোটেল। এ মোড়ে মারা গেছেন দুজন। শেরাটন পার হলেই বাংলামোটর মোড়। রিকশাচালক লতিফুর রহমান (৪৫) ২০১৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বাংলামোটর মোড়ে বাসের ধাক্কায় মারা যান। এই মোড়ে মারা গেছেন আরও দুজন।

বাংলামোটরের পর পান্থকুঞ্জ। এর ডান পাশে হোটেল সোনারগাঁও। ৩ এপ্রিল দুপুরে তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন বিআরটিসি বাসের যাত্রী হয়ে যাচ্ছিলেন মহাখালীতে। বিআরটিসি ও আরেকটি বাসের রেষারেষিতে রাজীব হোসেনের হাত কাটা পড়ে। গত সোমবার দিবাগত রাতে তিনি মারা যান। রাজীবের আগে এই পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনের সড়কে মারা গেছেন আরও তিনজন।

রিকশাচালক আলম মিয়া (৩৮) গত ১৮ জানুয়ারি ভোররাতে ফার্মগেট থেকে সোনারগাঁও মোড়ের দিকে যাওয়ার সময় ট্রাকের ধাক্কায় মারা যান। আর ভ্যানচালক রেনু মিয়া ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাত আড়াইটার দিকে কাঠভর্তি ভ্যান নিয়ে শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজারে যাওয়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় মারা যান। সার্ক ফোয়ারা ও এর আশপাশের সড়কে (কারওয়ান বাজার) দুর্ঘটনায় নিহত হন আরও ১৫ জন।

গায়ে গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাসগুলো। কারওয়ান বাজার, ঢাকা, ৫ এপ্রিল। যাত্রী ও পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলেও দেখার যেন কেউ নেই। ফার্মগেট, ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশগায়ে গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাসগুলো। কারওয়ান বাজার, ঢাকা, ৫ এপ্রিল। যাত্রী ও পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলেও দেখার যেন কেউ নেই। ফার্মগেট, ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

কারওয়ান বাজারের পর ফার্মগেট। এ মোড়েই বেপরোয়া গাড়িচালক কেড়ে নিয়েছেন আরও নয়জনের প্রাণ। ১১ এপ্রিল রুনি আক্তার নামের এক নারী ফার্মগেটে উঁচু বিভাজকের ওপর উঠতে যাচ্ছিলেন। এ সময় বেপরোয়া গতিতে একটি বাসের ধাক্কায় ওই নারীর ডান পা থেঁতলে যায়।

মণিপুরীপাড়া পার হলে বিজয় সরণি। ব্যস্ত এই মোড়ে দুর্ঘটনায় নিহত হন নয়জন। আর বিজয় সরণির কাছাকাছি উড়োজাহাজ ক্রসিং মোড় এলাকা, নভোথিয়েটার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে, পুরোনো বিমানবন্দর রোড ও জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় আরও ১১ জন নিহত হন।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবী রুপন দত্ত গত ৬ জানুয়ারি সকালে মোটরসাইকেলে করে উড়োজাহাজ ক্রসিং মোড় ঘোরার সময় ফার্মগেট থেকে আসা বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা যান।

কোথায় কোথায় দুর্ঘটনা এবং কেন?
প্রেসক্লাব থেকে বিজয় সরণি মোড় পর্যন্ত সড়কের নয়টি স্থানে পদচারী-সেতু রয়েছে। সেখানে তিন দিন সরেজমিনে দেখা গেছে, পদচারী-সেতু থাকতে পথচারীরা সড়কের নিচ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। প্রেসক্লাব, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন ও শাহবাগের শিশুপার্কের সামনের পদচারী-সেতু ভবঘুরেদের দখলে। পদচারী-সেতু দিয়ে মাঝেমধ্যে দু-একজন পথচারী পার হচ্ছেন। অথচ চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে সড়কের বিভিন্ন মোড় ও সড়ক বিভাজন দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন পথচারীরা।

৫০ বছর বয়সী সিদ্দিক জামান চাকরি করেন গুলিস্তানের একটি প্রতিষ্ঠানে। গত বুধবার তিনি প্রেসক্লাবের পদচারী-সেতুর নিচ দিয়ে দৌড়ে রাস্তা পার হন। পদচারী-সেতু থাকতে কেন এভাবে রাস্তা পার হচ্ছেন—জানতে চাইলে সিদ্দিক বললেন, সবাই তো ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন।

মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হচ্ছেন পথচারীরা। চলন্ত বাসসহ অন্যান্য যানবাহনের সামনে হাত তুলে দৌড়ে রাস্তা পার হচ্ছেন পথচারীরা।

ঝুঁকিপূর্ণ মোড় কদম ফোয়ারায় দেখা গেল, হাইকোর্টের মাজারগেট থেকে আসা গাড়িগুলো বেপরোয়া গতি নিয়ে মৎস্য ভবন আর পল্টনের দিকে দিকে ছুটে চলেছে। আবার এসব গাড়ির সঙ্গে রিকশা, ভ্যান, ঠেলাগাড়িও বিপজ্জনকভাবে মোড় ঘুরছে।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান গেট থেকে বার কাউন্সিল ভবনের সামনে প্রায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। কারণ, কদম ফোয়ারা থেকে মৎস্য ভবন পর্যন্ত মাঝখানের সড়ক বিভাজন দিয়ে চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে পার হচ্ছেন পথচারীরা। মৎস্য ভবন মোড়েও একই চিত্র।

সেগুনবাগিচার বাসিন্দা রাহাতুল ইসলাম বার কাউন্সিল ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে বলছিলেন, পদচারী-সেতু না থাকার কারণে ব্যস্ত সড়কে খুব ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হচ্ছে তাঁদের। কয়েক দিন পরপরই এখানে দুর্ঘটনায় পড়ছেন পথচারীরা।

এই মোড়ে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক সার্জন রেদোয়ান আহমেদ শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, পথচারী ও চালক—কেউ কোনো কথা শোনেন না। যে যেভাবে পারছেন রাস্তা পার হচ্ছেন। সিগন্যালও মানছেন না।

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনের বিপজ্জনক মোড়ের সড়ক বিভাজকের কাটা অংশ দিয়ে পথচারী, বাস, রিকশা, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল পার হচ্ছে। শাহবাগ থেকে ছেড়ে আসা গাড়িগুলো যখন মৎস্য ভবনের দিকে যাচ্ছে বা মৎস্য ভবন থেকে গাড়িগুলো যখন শাহবাগে যাচ্ছে, তখন সড়ক বিভাজকের ফাঁকা স্থান দিয়ে গাড়িগুলো চলন্ত ওই সব যানবাহনের সামনে দিয়ে যাচ্ছে। মোড়ের চা বিক্রেতা আলম জানালেন, মোড়ের এই সড়ক বিভাজক দিয়ে পার হতে গিয়ে এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

মঙ্গলবার ও বুধবার দুপুরে শাহবাগের মোড়ে দেখা যায়, ট্রাফিক সিগন্যাল কেউ মানছেই না। ট্রাফিক পুলিশের সামনে দিয়েই মোড়ে আগে বাসের অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য বাসের চালকেরা বিপজ্জনক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। চালক কিংবা পথচারী—কেউ যে আইন মানছে না, তা দেখে চরম হতাশ ট্রাফিক সার্জন জাফর ইমাম। জাফর মনে করেন, পদচারী-সেতু ব্যবহার করলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যেত। কিন্তু তা তো হচ্ছে না। দুর্ঘটনাপ্রবণ মোড় হোটেল শেরাটনের সামনেও দেখা গেল সিগন্যাল অমান্য করেই শাহবাগ থেকে ছেড়ে আসা মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারসহ নানা ধরনের যানবাহন কাকরাইলের দিকেও ছুটে চলে।

বাংলামোটর থেকে পান্থকুঞ্জর সামনে পর্যন্ত সড়ক কিছুটা ঢালু। আবার সার্ক ফোয়ারা মোড় থেকে বাংলামোটরের সড়কও কিছুটা ঢালু। তিন দিনেই দেখা গেল, বাংলামোটর থেকে গাড়িগুলো চরম বেপরোয়া গতি নিয়ে সার্ক ফোয়ারার দিকে যাচ্ছে। পান্থকুঞ্জের সামনে এখনো সেই লোহার খুঁটিটি বাঁকা অবস্থায় আছে। পান্থকুঞ্জের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে পথচারী মোজাম্মেল হক বললেন, বাসগুলো বাংলামোটর থেকে যে গতিতে এদিকে ছুটে আসে, তা দেখলে ভয় লাগে। প্রতিদিন যাত্রী ওঠানোর জন্য বাসচালকদের প্রতিযোগিতার বলি হচ্ছেন নিরীহ পথচারীরা। ট্রাফিক পুলিশের সামনেই তো প্রকাশ্যে এসব ঘটনা ঘটছে। কিন্তু তাঁরা তো কিছুই বলছেন না।

দুর্ঘটনাপ্রবণ মোড় সার্ক ফোয়ারা। হাতিরঝিল হয়ে এফডিসির সামনে দিয়ে আসা গাড়ি আর পান্থপথ দিয়ে আসা গাড়িগুলো এই মোড় ঘুরে বিভিন্ন পথে যায়। আর মোড়গুলোতে ফার্মগেট-শাহবাগের গাড়িতে ঢুকছেই। কারওয়ান বাজারের সোনারগাঁও হোটেল ও সুপার স্টার হোটেলের সামনে দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা বেশি ঘটছে।

বেশ কয়েক বছর কারওয়ান বাজারে দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল মো. আকতার হোসেন। তিনি বললেন, চালকেরা এত দ্রুত গাড়ি চালান, তা দেখলে ভয় লাগে।

দুর্ঘটনার অবস্থান সম্পর্কে ট্রাফিক সার্জনরা বলছেন, ভিআইপি সড়কের মোড়গুলোতে বেশির ভাগ দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। আর ফার্মগেটে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা হচ্ছে আল-রাজী হাসপাতালের সামনে। দেখা গেছে, সংসদ ভবনের সামনে দিয়ে আসা বেপরোয়া গতিতে গাড়িগুলো যখন ফার্মগেট মোড় ঘুরছে, তখনই এসব দুর্ঘটনা হচ্ছে। দুটি পদচারী-সেতু থাকলেও বেশির ভাগ পথচারী নিচ দিয়েই পার হচ্ছেন।

মণিপুরীপাড়ার সামনের সড়কেও পথচারীরা প্রায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। তিন বছরে অন্তত তিনজন এখানে মারা গেছেন। বিজয় সরণি মোড় হয়ে গাড়িগুলো চরম বেপরোয়া গতি নিয়ে উড়োজাহাজ মোড় পার হচ্ছে। অথচ এই মোড়েও প্রায় দুর্ঘটনা ঘটছে। ঢাকা মহানগরসহ অন্যান্য নগরে সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে গাড়ি চালানোর নিয়ম।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক সার্জন শাহজাহান আলী বলেন, জেনেশুনে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হওয়ার কারণে দুর্ঘটনার শিকার হন পথচারীরা।

২৬ বছর ধরে বাস চালাচ্ছেন বিল্লাল হোসেন। এখন তিনি বিআরটিসি বাস ভাড়ায় নিয়ে চালাচ্ছেন। পান্থকুঞ্জের সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে বিল্লাল বলেন, চালকেরাই দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছেন। রাস্তায় যাত্রী তুলতে চালকদের প্রতিযোগিতা এর অন্যতম প্রধান কারণ।

রাতের অবস্থা
প্রথম আলোর খুঁটিয়ে দেখা ১০টি সড়ক দুর্ঘটনার চারটি ঘটেছে রাতে। রাত ১০টায় পণ্য পরিবহনকারী গাড়িগুলো রাজধানীতে ঢোকার কথা, যা শেষ হয় সকাল ছয়টায়। ভিআইপি সড়কে দায়িত্ব পালন করা ছয়জন ট্রাফিক পুলিশ জানালেন, বাস্তবে ট্রাক, পিকআপসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী গাড়ি রাত ১০টার আগেই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ঢুকছে, চলছে সকাল ছয়টার পরেও।

ট্রাফিক পুলিশের সহকারী কমিশনার সাইফুল আলম মোজাহিদ জানান, ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা সড়কগুলোয় রাত ১১টা পর্যন্ত রাস্তায় থাকেন। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে রাতেও ট্রাফিক পুলিশ থাকেন। সাইফুল আলম আরও বললেন, রাতের রাস্তা ফাঁকা পেয়ে চালকেরা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালান। এ কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে অনেক বেশি।

শনি ও মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত শাহবাগ ও মৎস্য ভবন মোড়ে অবস্থান করে দেখা যায়, শাহবাগ, মৎস্য ভবন, কদম ফোয়ারা মোড়ে কোনো ট্রাফিক পুলিশকে পাওয়া যায়নি।
অবশ্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন ট্রাফিক সার্জন বলছেন, সারা দিন দায়িত্ব পালন করার পর ক্লান্তি ভর করে। আর রাত ১০-১১টার পর থেকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে শৈথিল্য চলে আসে।

ভিআইপি সড়কে এভাবেই নিয়ম না মেনে ঢুকে পড়ে যাত্রাবাহী রিকশা। শাহবাগ মোড় এলাকা, ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশভিআইপি সড়কে এভাবেই নিয়ম না মেনে ঢুকে পড়ে যাত্রাবাহী রিকশা। শাহবাগ মোড় এলাকা, ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

বুধবার রাত ১২টার দিকে শাহবাগ মোড়ে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বললেন, রাতের ঢাকা চলে যায় ট্রাকচালকসহ পণ্যবাহী গাড়ির দখলে। রাস্তা তখন পথচারীদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। মঙ্গল ও বুধবার রাত ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সার্ক ফোয়ারা থেকে কদম ফোয়ারা মোড় পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেল, উল্টো পথ ধরে চলছে রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ নানা গাড়ি। আর বেপরোয়া গতি নিয়ে ছুটে চলেছে পণ্যবাহী গাড়ি।

দুর্ঘটনা বেড়েছে কেন
জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা থেকে বিজয় সরণি মোড় ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা বেড়েছে। শাহবাগ, রমনা ও তেজগাঁও থানার তথ্য বলছে, শাহবাগ থানায় ২০১৫ সালে বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয় আটটি। অথচ এর পরের বছর ২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে ১৯টি। আর ২০১৭ সালেই মামলা হয়েছে ১৬টি। একই চিত্র তেজগাঁও থানাতেও। ২০১৫ সালে তেজগাঁও থানায় নয়টি মামলা হলেও পরের বছর সড়কে মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে ১৬টি। চলতি বছর শুরু থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এই তিনটি থানায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনায় আরও ১০টি মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

দুই যুগের বেশি সময় ধরে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কাজ করে যাচ্ছে নিরাপদ সড়ক চাই নামের সংগঠনটি। এর চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলছিলেন, চালকেরা কোনোমতে গাড়ি চালাতে জানেন। তাঁদের নেই প্রশিক্ষণ আবার অনেকেই মাদকাসক্ত। তাঁদের সংগঠন অনেক শক্তিশালী। এ কারণে তাঁদের অনেক সাহস। তাঁরা ইচ্ছামতো গাড়ি চালান।

পাঁচজন সহকারী ও গাড়িচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাসমালিককে দিনে দিতে হয় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। বাসচালক রশিদ বলছিলেন, পাঁচ বছর আগেও দিনে বাসমালিককে দিতে হতো ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা। অথচ এখন গুনতে হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ টাকা। তেলের খরচ, সহকারীদের বেতনসহ বিভিন্ন খরচ মেটানোর পর যদি কিছু থাকে, তা নিয়ে ঘরে ফেরেন।

বিআরটিসি বাসের সুপারভাইজার বিল্লাল হোসেন বলেন, বাসমালিক ভাড়া বাড়ানোর কারণে চালক চাপে থাকেন। দ্রুত যাত্রী তোলার জন্য প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছেন।

বাসচালকেরা বেশি লাভের আশায় মালিকদের কাছ থেকে বাস ভাড়া নিচ্ছেন বলে জানান ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। তিনি বলেন, বেশি লাভের আশায় রাস্তায় চালকেরা তাড়াহুড়ো করে থাকেন। এ কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। আর কম বয়সী অদক্ষ চালকেরাও বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছেন।
বাসচালকদের কাছে মালিকেরা যাতে এভাবে বাস বাড়া না দিতে পারেন, সে জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান খন্দকার এনায়েত উল্লাহ।

চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন মনে করেন, কয়েক বছর ধরে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক বেড়ে গেছে। এর কারণ দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের নিয়ে সরকারের মাথাব্যথা নেই। ২০০৯ সালের পরপরই যেভাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যেভাবে কাজ করে, এখন সেভাবে কাজ করছে না।

দিশেহারা পরিবার
খোকন মৃধা ১০ বছর ধরে কারওয়ান বাজারে কাঁচামাল টেনে সংসার চালাতেন। তাঁর বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জে। তাঁর স্ত্রী হাজেরা বেগম সেখানে এক ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে বাস করেন। মেয়ে কণা (১৪) ও আর ছেলে অনীক (১১)। দুজনই সেখানে লেখাপড়া করছে।
খোকন মাসে সাত হাজার টাকা পাঠাতেন স্ত্রীর কাছে। সেই টাকায় টেনেটুনে সংসার চালাতেন হাজেরা। ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারেন, তাঁর স্বামী খোকন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

মোটরসাইকেল আরোহীরাও বেপরোয়া। ঝুঁকি নিয়ে চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে ঢুকে পড়ে মোটরসাইকেল। সাকুরা বার এলাকা, ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশমোটরসাইকেল আরোহীরাও বেপরোয়া। ঝুঁকি নিয়ে চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে ঢুকে পড়ে মোটরসাইকেল। সাকুরা বার এলাকা, ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

স্বামীকে হারানোর পর কীভাবে সংসার চলছে, জানতে চাইলে হাজেরা বলেন, স্বামীর আয়ে চলত সংসার। আর স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই সন্তান নিয়ে বড় বিপদে আছেন। পরের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে বেঁচে আছেন। তিনি বলছিলেন, যে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় তাঁর স্বামী মারা যান, তার মালিক অনেক বড়লোক। সেই গাড়িও তিনি ছাড়িয়ে নিয়েছেন। গাড়ির চালকও জামিনে আছেন।

জনতা ব্যাংকের নিরাপত্তারক্ষী আবুল হাশেম জাতীয় জাদুঘরের সামনে মারা যান গত ৭ জানুয়ারি। তাঁর চাচাতো ভাই মিজানুর রহমান বললেন, ঢাকায় চাকরি করে দুই ছেলে সাইদুল ও হাসানের লেখাপড়ার খরচ চালাতেন তাঁর ভাই। এখন তাঁদের খরচ কে চালাবে? লেখাপড়া ছেড়ে এখন তাঁরা কাজে নেমেছেন।

গত ১৮ জানুয়ারি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আলম মিয়ার দুই মেয়ে। ১০ বছর বয়সী আরেফিন ও চার বছর বয়সী আইরিন। আলমের ভাই বেলাল প্রধান বলেন, বড় কষ্ট করে আলমের স্ত্রী বেবীই এখন সংসার চালাচ্ছেন।

কদম ফোয়ারার কাছে নিহত যুবক বিশাল থাকতেন পুরান ঢাকার আগা সাদেক লেনে। তাঁর মামা রাজকুমার রায় বলেন, বিশাল যখন ছোট, তখন তার বাবা মারা যান। তার মা অনেক কষ্ট করে বিশালকে বড় করেছেন। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় বিশাল মারা যাওয়ার পর তাঁর মা এখন পাগলপ্রায়।

জীবনের দাম কয়েক হাজার টাকা
লতিফুর রহমান (৪৫) ঢাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর বাড়ি দিনাজপুরের বিরল থানার মির্জাপুরে গ্রামে। লতিফুর বাংলামোটর মারা যান ২০১৭ সালে। তাঁর চার ছেলে। বড় ছেলে সাইদুল ইসলাম এখন গ্রামে রিকশা চালান। সাইদুর ও রাশেদ হোটেলে কাজ করেন। সবার ছোট শফিকের বয়স ১৭ মাস।

লতিফুরের ভাইপো মনজুরুল ইসলাম বললেন, চাচা ঢাকায় মারা যাওয়ার পর তাঁর সংসার তছনছ হয়ে যায়। আগে তাঁর ছেলেরা লেখাপড়া করত। তাঁর মৃত্যুর পর সবাই এখন কাজ করে।

মনজুরুল বললেন, ৩০ হাজার টাকায় আট নম্বর বাসের চালক আসামি ইব্রাহীমের সঙ্গে আপস হয়ে গেছে তাঁদের। এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাদী-বিবাদী আপস করেছেন। আমাদের কাছে আপসনামা জমা দিয়েছেন।’ আসামি ইব্রাহীমের অব্যাহতি চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা আনোয়ার। আবেদনে বলা হয়েছে, বাদী-বিবাদী আপস করেছেন। অভিযোগের পক্ষে বা বিপক্ষে সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করবেন না।

২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে মারা যান আবু ইউসুফ (৩০)। চাঁদপুরের কচুয়ার তুলপাই গ্রামের বাসিন্দা তিনি। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বাবা অলিউল্লাহ বাদী হয়ে মামলা করেন। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে অলিউল্লাহ এখন কুমিল্লায় রিকশা চালান। তাঁর স্ত্রী মানজুমা জানালেন, ‘৫০ হাজার টাকায় আসামির সঙ্গে আপস করেছেন। আনোয়ার দারোগা আপস করে দিয়েছেন।’ শাহবাগ থানার কর্মকর্তা আনোয়ার এ মামলাতেও চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে বলেছেন, বাদী আসামির সঙ্গে আপস করেছেন। তাই আসামির অব্যাহতি চেয়েছেন।

বেপরোয়া গাড়িয়ে চালিয়ে মানুষ হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছর। দণ্ডবিধির ৩০৪-খ ও ২৭৯ ধারায় করা এসব মামলা আপসযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন ঢাকা জেলার প্রধান সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) খন্দকার আবদুল মান্নান। পুলিশ এভাবে আদালতে প্রতিবেদন দিয়ে আসামির অব্যাহতি চাওয়া বেআইনি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন পিপি মান্নান।

চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন জানান, গাড়িচাপা দিয়ে কোনো রকমভাবে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আসতে পারলে আর কিছুই হয় না চালকের। আর গাড়িচাপা দিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনায় সাজা হয় না বললেই চলে।

ইলিয়াস কাঞ্চন মনে করেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমবে, যদি পথচারী নিজে সচেতন হন। পথচারীদের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য, ‘আপনি রাস্তায় নামবেন আর সাবধান হবেন না, তাহলে তো দুর্ঘটনা ঘটবেই। আপনাকে-আমাকেই আগে সাবধান হয়ে পথ চলতে হবে। আমি অসাবধান হলে চালক কেন আমাকে বাঁচাবে। আমাদেরই সাবধান হতে হবে। কারণ জীবন আমার। আমাকে রক্ষা করতে হবে।’
পদচারী-সেতু ব্যবহার না করে চলন্ত বাসের সামনে দিয়ে সড়ক পার হচ্ছেন পথচারীরা। তোপখানা রোড, ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশদুই গাড়ির মাঝখানের সরু জায়গা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করছেন এক যাত্রী। তোপখানা রোড, ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশমোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে এভাবেই অনেকে ব্যস্ত সড়ক দিয়ে হাঁটেন। তোপখানা রোড, ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশহাইকোর্টের প্রধান ফটকের সামনে কোনো পদচারী-সেতু নেই। চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে পার হন পথচারীরা। ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

মৎস্য ভবন মোড়েও প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে দৌড়ে সড়ক পার হচ্ছেন পথচারীরা। ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশবাসের ফটকে ঝুলে আছেন বাসের সহকারী। এভাবে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন ভবন এলাকা, ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন ভবনের সামনের সড়কে উল্টো পথ দিয়ে গাড়ি এসে মোড় নেয়। ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশকারওয়ান বাজারমুখী বাসগুলো যত্রযত্র থামানো হয় শাহবাগ মোড়ে। চলন্ত অবস্থায়ও ওঠানো-নামানো হয় যাত্রী। শাহবাগ, ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশভিআইপি সড়কে এভাবেই নিয়ম না মেনে ঢুকে পড়ে যাত্রাবাহী রিকশা। শাহবাগ মোড় এলাকা, ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশমোটরসাইকেল আরোহীরাও বেপরোয়া। ঝুঁকি নিয়ে চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে ঢুকে পড়ে মোটরসাইকেল। সাকুরা বার এলাকা, ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশবাংলামোটর থেকে ঢালু সড়ক দিয়ে অনেক গাড়ি বেপরোয়াভাবে কারওয়ান বাজারের দিকে ছুটে যায়। বাংলামোটর, ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশবিজয় সরণির দিক থেকে আসা গাড়িগুলো বেপরোয়া গতিতে ছুটে যায় রোকেয়া সরণির দিকে। বিজয় সরণি, ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশগায়ে গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাসগুলো। কারওয়ান বাজার, ঢাকা, ৫ এপ্রিল। যাত্রী ও পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলেও দেখার যেন কেউ নেই। ফার্মগেট, ঢাকা, সাম্প্রতিক ছবি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

(টুডে সংবাদ/তমাল)
প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে www.todaysangbad.com