ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বসছেন আন্দোলনকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরতদের বৈঠকে ডেকেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা ওয়ালিদ ফয়েজ জানিয়েছেন, সাড়ে চারটার দিকে সচিবালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ২০ জনের একটি প্রতিনিধি দল সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করতে যাবেন।

এর আগে বেলা আড়াইটার দিকে ধানমন্ডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক জানিয়েছেন, সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ওবায়দুল কাদেরকে আন্দোলনরতদের সঙ্গে আলোচনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আন্দোলনরতরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনের নেতৃত্ব প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে যাবে।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের দুটি প্রস্তাব দিয়েছি। সচিবালয়ে গিয়ে অথবা ধানমন্ডি কার্যালয়ে এসে সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে একটি প্রতিনিধি গিয়ে বৈঠক করতে পারে। আমরা এখন পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পায়নি। কোটা সংস্কারের যে বিষয়টি সেটা সরকারই সমাধান করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে সমস্যার সমাধান করার জন্য ওবায়দুল কাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন।’

জাহাঙ্গীর কবির বলেন, আন্দোলনে কিছু দুষ্কৃতকারী গত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাড়িতে তাণ্ডব চালায়। যা একাত্তরের তাণ্ডবকে হার মানায়। এর মধ্যে কী কোনো বাইরের লোক বা ষড়যন্ত্রকারী ঢুকেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা পরিষ্কার। মুখোশধারী হেলমেটধারী লোকজন ভিসির বাড়িতে হামলা করেছে। ভিসির স্ত্রী ও সন্তানেরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তাদের কাপড় পর্যন্ত নিতে পারেনি। সব পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। খাবার দাবার নষ্ট করা হয়েছে। গান পাউডার দিয়ে গাড়ি ও ফার্নিচার পোড়ানো হয়েছে। এতটায় পরিকল্পিত ছিল যে প্রথমে সিসি ক্যামেরা ভাঙা হয়েছে। প্রমাণ না থাকে সে জন্য ডিভাইস পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই মুখোশধারী ও হেলমেট ধারী কারা? গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে, তা বেড়িয়ে আসবে।

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে চারুকলায় যে সাজসজ্জা করা হয়েছিল সেগুলোও ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে জানান জাহাঙ্গীর কবির। তিনি বলেন, এ থেকে বোঝা যায় কারা এটা করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাঁর বিশ্বাস কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এটা করতে পারে না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, তথ্য গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন ও উপাধাক্ষ্য সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।

এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে রাজু ভাস্কর্যের কাছে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনরতদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা জানান, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরতদের বৈঠকে ডেকেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আলোচনা প্রসঙ্গে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ ব্রিফিংয়ে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে তখন পর্যন্ত সরকারের কেউ আলোচনার জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।

আওয়ামী লীগের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ওবায়দুল কাদের আন্দোলনরত ২০ জনকে ডেকেছেন আলোচনা করার জন্য।