বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে ভারতের কি স্বার্থ ছিল?

অনলাইন ডেস্ক : জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহ বিশ্ব রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা নির্ধারণ করে থাকে। একটি রাষ্ট্র তার জাতীয় স্বার্থকে সবক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী অগ্রাধিকার দেবে এটাই স্বাভাবিক। নিজ নিজ অবস্থান থেকে তাদের ওই ভূমিকাই সঠিক।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণের পেছনেও ছিল তাদের জাতীয় স্বার্থ। ভারত বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল তাদের জাতীয় স্বার্থের জন্যই। কিন্তু কি ছিল ভারতের সেই স্বার্থ? যে স্বার্থের জন্য ভারত বাংলাদেশের পক্ষে যুদ্ধ করেছিল? মুক্তিযুদ্ধে তাদের ৩ হাজার ৬৩০ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছিল। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২১০ জন। মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং, গোলাবারুদ, অস্ত্র, অর্থ, শরনার্থীদের ভরণ-পোষণসহ হেন কাজ নেই, যা ভারত বাংলাদেশের পক্ষে করে নাই। বিনিময়ে সাত দফা ভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের সাথে একাকার হয়ে থাকতে চেয়েছিল।

৮ মার্চ রোববার বিকেলে বাংলাদেশ মানবতাবাদী দল-বিএইচপি’র মহাসচিব ড. সুফি সাগর সামস্ তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে `বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্য নায়ক’ শিরোনামে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, সাত দফা ভিত্তিক চুক্তি বাতিলের বিষয়টি পরস্পর সৌহার্দ ও শান্তিপূর্ণভাবে মিমাংশা হওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা হয়নি। বঙ্গবন্ধু ওই চুক্তি এককভাবে বাতিল করেছিলেন। এটাই হলো বঙ্গবন্ধু ও আমাদের দুর্ভাগ্য। এ ছাড়া তখন বঙ্গবন্ধুর সাথে পৃথিবীর আর কোনো রাষ্ট্রের কোনো বিরোধ ছিল না। এ সময় ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল প্যাট্রিক মইনিহান ওয়াশিংটনকে জানিয়েছিলেন যে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের মতবিরোধ ব্যাপক আকার ধারণ করছে।

সুফি সামস্ আরো বলেন, চুক্তি বাতিল করা ছাড়া তখন বঙ্গবন্ধুর সম্মুখে বিকল্প কোনো পথ খোলা ছিল না। বিষয়টির যথার্থতা ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি জ্ঞানী জৈল শিং এর কথায় প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা সঠিক হয়নি। মিসেস গান্ধী শেখ সাহেবের বিশাল জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে, সৈন্য প্রত্যাহারে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ থেকে ওই সময়ে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা না হলে, বাংলাদেশের ইতিহাস ভিন্নতর হতে পারত।’

বিএইচপি মহাসচিব বলেন, বঙ্গবন্ধু চুক্তি বাতিল করে যথার্থই করেছেন। চুক্তি বাতিল না হলে বাংলাদেশের ইতিহাস রচনা হতো ভারতের ইচ্ছানুযায়ী। বঙ্গবন্ধু সপরিবারে জীবন দিয়ে, শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে, বাংলাদেশের ইতিহাস সৃষ্টির দায়িত্ব বাংলাদেশের জনগণের কাছে অর্পণ করে গেছেন।

সূত্র : ফেসবুক