দুই সিটির প্রার্থী বাছাইয়ে অস্বস্তির মধ্যে ক্ষমতাসীন দল

টুডে সংবাদ প্রতিবেদক : গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনে নির্বাচন আগামী ১৫ মে। দুই সিটির প্রার্থী বাছাই নিয়ে বেশ অস্বস্তির মধ্যে আছে ক্ষমতাসীন দল। গাজীপুরে ৯জন প্রাথী দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও নৌকা প্রতীকের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র আজমত উল্লাহ খান এবং ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম। খুলনায় নৌকা প্রতীকে মেয়র প্রাথী হওয়র মূল লড়াইয়ে রয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য তালুকদার আবদুল খালেক এবং প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল। তবে দলের শীর্ষপর্যায় থেকে গাজীপুর সিটিতে জাহাঙ্গীর আলম এবং খুলনা সিটিতে তালুকদার আবদুল খালেককে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

দুই সিটির মনোনয়ন চুড়ান্ত করতে আগামী ৮ এপ্রিল আওয়ামাী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভা আহবান করা হয়েছে। ওইদিনই গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম এবং খুলনার সিটি মেয়র প্রাথী হিসেবে তালুকদার আবদুল খালেকের নাম ঘোষণা করা হবে।

দলের একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশে সম্প্রতি গাজীপুর এবং খুলনায় কয়েক দফা মাঠ জরিপ চালানো হয়। এসব জরিপ পর্যালোচনায় দেখা যায়, গাজীপুরে জাহাঙ্গীর আলম তার প্রতিদ্বন্দ্বী আজমত উল্লাহর থেকে এগিয়ে আছেন । খুলনা সিটিতে অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তুলনায় এগিয়ে আছেন তালুকদার আবদুল খালেক। জরিপ পর্যালোচনায় দলের হাইকমান্ড জাহাঙ্গীর ও খালেকের পক্ষে মত দেয়। তাদের দুজনকে প্রার্থী ঘোষণা করা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গাজীপুরের তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ফলাফল ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠে। গাজীপুরের পিরুজালী, ভাওয়াল মির্জাপুর ও ভাওয়াল গড় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের। এই ৩টি ইউপির মধ্যে দুটিতে জয় পেয়েছে বিএনপি এবং আরেকটি জয়লাভ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী। তিনটি ইউপিতেই আওয়ামী লীগের বড় পরাজয় চিন্তায় ফেলে দেয় দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের। তারা আশঙ্কা করছেন, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এই ফলাফল নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শুধু তাই-ই নয়, জেলা নেতৃত্বের কোন্দলের সুযোগ নিয়ে আবারও জয় পেতে পারে বিএনপি। এ অবস্থায় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকা আজমত উল্লাহর চেয়ে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে থাকা জাহাঙ্গীর আলমকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার পক্ষপাাতি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা।

আওয়ামী লীগের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জাহাঙ্গীর আলমের জনপ্রিয়তাই তাকে প্রাথী হিসেবে এগিয়ে রেথেছে। তাছাড়া আর্থিকভাবেও তিনি প্রতিষ্ঠিত। তৈরি পোশাকশিল্প ও প্যাকেজিং শিল্পের মালিক তিনি। মানুষকে সহযোগিতা করতে পছন্দ করেন। নিজ উদ্যোগে তিনি মেধাবীদের জন্য গাজীপুরে বৃত্তি প্রচলন করেছেন। তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা এসব তথ্য আমাদের জানিয়েছেন। তারা প্রায় সবাই জাহাঙ্গীরের পক্ষেই কাজ করতে চান। সার্বিক দিক ভেবেই তাকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর গতবারের প্রার্থী আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত নেতা আজমত উল্লাহ খানকে সন্তুষ্ট রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হলে তাকে ওই সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

খুলনা সিটির মেয়র পদে তালুকদার আবদুল খালেককেই মনোনয়ন দেওয়া হবে উল্লেখ করে ওই নেতা জানান, তালুকদার খালেক মেয়র থাকাকালীন সময়ে যে সফলতা দেখিয়েছিলেন, তা এখন মানুষ উপলব্ধি করছে। বিগত নির্বাচনে তার পরাজয়ের পর এই শহরের উন্নয়ন কাজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। তালুকদার আবদুল খালেকের প্রয়োজনীয়তা এখন টের পাচ্ছে খুলনার মানুষ। খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভায় স্থানীয় নেতারা মেয়র পদে তালুকদার আবদুল খালেকের পক্ষেই জোরাল অবস্থান নেন। এসব বিষয় বিবেচনায় তাকেই খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করা হচ্ছে।

দুই সিটি কর্পোরেশনে দলীয় প্রার্থীদের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, রবিবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাতকার শেষে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। দলীয় কোন্দলের বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মতো বড় দলে তৃণমূলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়ে গেলে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ মাঠে নামবে। কারণ কোন্দলকারীলা দলে আর প্রশ্রয় পাবেন না, প্রধানমন্ত্রীর এই সতর্কবার্তা সম্পর্কে সবাই ওয়াকিবহাল।

রোববার সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনে অমাওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

টুডে সংবাদ/ইমানুর রহমান