নাটোরে সড়ক সম্প্রসারণ ও তার যত অনিয়ম

ফরহাদ তুহিন, নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরে ৬ কিঃমিঃ সড়ক প্রসস্থকরণে পিডিবির সাথে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ব্যাপক সমন্নয়হীনতায় ড্রেন খুড়তে গিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎতের তারসহ ৭টি বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে গেছে। এতে শহরের প্রায় অর্ধেক এলাকা গত রবিবার দুপুর থেকে বিদ্যুৎ বিছিন্ন রয়েছে। রবিবার দুপুরে শহরের বড়হরিশপুর থেকে চকরামপুর এলাকায় এসব খুঁটি উপড়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন আগে স্থাপন করা বিদ্যুৎতের খুঁটি ঘেঁষে ড্রেন নির্মাণের জন্য ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি সরানোর এক পর্যায়ে একে একে খুঁটিগুলো হেলে পড়তে থাকে। এসময় বিকট শব্দে ট্রান্সমিটার বিস্ফোরণ হলে সবার মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এঘটনায় কেউ আহত না হলেও ঘটতে পারতো বড় ধরনের দূর্ঘটনা । এক্ষেত্রে সড়ক ও জনপথ বিভাগের খামখেয়ালিপনাকে দায়ী করছেন নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানী লিমিটেডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম মাসুদ। আর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম ঠিকাদারের অসচেতনতাকে দায়ী করছেন। এমন পরিস্থিতে আবাসিক বৈদ্যুত স্বাভাবিক রাখতে রবিবার রাতে শহরের সকল আটো রিকশার গেরেজগুলোর বিদ্যুত সংযোগ বিছিন্ন করা হলে নাটোর শহর জুরে আজ সমবার গণপরিবহনের তীব্র সংকটে জনগণের অসস্থি চরমে পৌছেছে ৷

এদিকে বড়হরিশপুর বাইপাস থেকে বনবেলঘরিয়া পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে অনিয়ম সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন গণম্যাধমে প্রচারিত হলে ,তা খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। রোববার বেলা ১১টার দিকে এই কমিটি গঠন করা হয়।

উল্লেখ্য, ৫৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকার প্রকল্পিত ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণে দরপত্র অনুযায়ী রড না দেওয়া, ভাঙা পাথর না দিয়ে নিম্নমানের আস্ত পাথর ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার এবং রোলিং না করেই দায়সারাভাবে সড়ক সষ্প্রসারণের অভিযোগ নিয়ে যমুনা টেলিভিশনে আজ একটি সংবাদ প্রচারিত হয়। এরপরই নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসনের।

রিপোর্টটি আমলে নিয়ে জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন ডিডি এলজি গোলাম রাব্বি ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) শামীম ভুইয়ার সমন্বয়ে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

সরেজমিনে তদন্ত শেষে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।