চারজনকে লক্ষ্য বানাতে পরামর্শ মাশরাফির

স্পোর্টস ডেস্ক : ম্যাচ একটা গেল বটে! মাঠ আর ডাগআউটের উত্তেজনা মিলে এক অপূর্ব স্মৃতি বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে। এই একটি জয়ই ভুলিয়ে দিয়েছে বছরের শুরু থেকে জমে ওঠা যত গ্লানি। ব্যাট হাতে সেসব গ্লানিকে সীমানাছাড়া করেছেন মাহমুদউল্লাহ। অধিনায়কত্বের চাপ থেকে মুক্তি মিলতেই ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ যেন ফিরে এলেন নিজের মতো করে। যিনি জয়কে সঙ্গী করে মাঠ ছাড়তে ভালোবাসেন।

সারা বাংলাদেশ যখন ‘সেমিফাইনাল’-এর শেষ ওভারের মাহমুদউল্লাহ-বন্দনায় মুখর, তখন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়কই বা বাদ থাকেন কী করে! কাল মিরপুরের একাডেমি মাঠে অনুশীলনের ফাঁকে মাশরাফি বিন মুর্তজা প্রশংসায় ভাসালেন। একই সঙ্গে আজকের ম্যাচের জন্য নিজের অভিজ্ঞতার ভাঁড়ার থেকে দিলেন পরামর্শ। ভারতের চার খেলোয়াড়কে মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজানোর পরামর্শ মাশরাফির।

সবার আগে মাহমুদউল্লাহর প্রাপ্য প্রশংসা করলেন ওয়ানডে অধিনায়ক, ‘সবার জন্য খুব রোমাঞ্চকর ম্যাচ ছিল। শেষ ওভারে ম্যাচ গিয়েছে, ৪ বলে যখন ১২ রান লাগবে। যখন রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) চারটা মারল, তখন মনে হচ্ছিল সম্ভব। কিন্তু তার আগে, নো বলটা আমাদের পক্ষে আসতে পারত। সেটা হলে হয়তো পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারত। একটা বল বেশি থাকা ওই মুহূর্তে অনেক বড় ভূমিকা রাখে। তারপরও রিয়াদ যেভাবে খেলেছে, তা অসাধারণ। ১৮ বলে অপরাজিত ৪৩, সেটা বড় ব্যাপার না। ও উইকেটে এসেই যে আক্রমণ করেছে সেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওই অবস্থায় কাউকে তো দায়িত্বটা নিতে হতো। সেই অবস্থায় দায়িত্বটা ও নিয়েছে। রিয়াদ যে ভূমিকাটা রেখেছে, সেটা হয়তো পরের ম্যাচে অন্য কাউকে নিতে হবে। এভাবেই কিন্তু টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিততে হয়।’

এমন জয়ের পরও, সেই জয়ের চেয়ে বেশি করে আলোচনায়, শেষ ওভারের ‘নো বল বিতর্ক’ আর সাকিবের ‘ইশারা’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোক কিংবা সাধারণের আড্ডা, আলোচনায় কলম্বোর পরিস্থিতিতে যদি থাকতেন, কী করতেন মাশরাফি? সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে মাশরাফি বললেন, ‘নো বলটা অবশ্যই আমাদের দিকে আসার কথা ছিল। কারণ, দুইটা বাউন্সার তো ক্রিকেটের নিয়মে নেই। এটা টেস্ট না যে আপনি দুইটা বাউন্সার দিতে পারবেন। তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে আপিল করায় আমি খারাপ কিছু দেখি না। কিন্তু আমরা আরেকটু সংযত হতে পারতাম। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অনেক কিছু হয়। আর এ ধরনের ম্যাচের একটা উত্তেজনা থাকেই, যেখানে আপনি জিতলেই ফাইনালে উঠবেন। সুতরাং বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে আমি দোষের কিছু দেখি না। তবে হয়তো আরেকটু সংযত হওয়া যেত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি মনে করি, যথোপযুক্ত ক্রিকেট খেলেই আমরা ম্যাচটা জিতেছি। সুতরাং এমন একটা বিষয় নিয়ে এত আলোচনার কিছু আছে বলে আমি মনে করি না।’

সেই আলোচনা সরিয়ে মাশরাফি বলছেন অর্জনের কথা, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা দুই টি-টোয়েন্টি জয় এসেছে এই নিদাহাস ট্রফি থেকে।’ তার ধারাবাহিকতায় বলছেন একটা স্বপ্নের কথাও। প্রতিপক্ষ ভারত বলেই স্বপ্নটা হয়তো কঠিন, কিন্তু নিদাহাস ট্রফিতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের প্রথম শিরোপা জয় অসম্ভব নয়। মাশরাফির হিসাবে, চার ক্রিকেটারকে বাক্সবন্দী করতে পারলেই ম্যাচ ঘুরতে পারে বাংলাদেশের দিকে, ‘রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ানের উইকেট দুটি যদি আমরা নিতে পারি, তাহলে ম্যাচ আমাদের হাতে থাকবে। এই দুজনই নিয়মিত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলে। এই দুজনকে দ্রুত আউট করাটা খুবই দরকার। একই সঙ্গে (যুজবেন্দ্র) চাহাল ও ওয়াশিংটনকে (সুন্দর) দেখে খেলা দরকার। এই চারজন খেলোয়াড়কে নিয়ে আলাদা করে পরিকল্পনা করলে ম্যাচটা আমাদের পক্ষে আসার ভালো সুযোগ আছে।’
মাশরাফির মতো আশায় বুক বেঁধে থাকা পুরো দেশ আজ সন্ধ্যার অপেক্ষায়। বিসিবির ট্রফিরুমটা যে বড্ড খালি।

(টুডে সংবাদ/তা.সু.পি)

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে www.todaysangbad.com