ইয়াবা লিটন, সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত অভিভাবক মহল

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল : কৌশলে এলাকার তরুন ও যুবসমাজ থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীদের ইয়াবায় আসক্ত করে রমরমা বাণিজ্যে মেতে উঠেছে মাদক স¤্রাট আওলাদ হোসেন খান লিটন। তার আগ্রাসী ছোবলে সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে মহাদুশ্চিন্তায় পরেছেন সচেতন অভিভাবকরা। লিটনের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে তাকে জড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন মিথ্যে মামলায়। ঘটনাটি জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণকাঠি এলাকার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই এলাকার একাধিক বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, মাদক স¤্রাট লিটন দীর্ঘদিন থেকে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী দুলাল, মামুন ও মস্তফাকে দিয়ে এলাকায় মাদকের রমরমা বাণিজ্য করে আসছে। তাদের দলে রয়েছে একাধিক নারী সদস্য। মাদক বিক্রিতেই সীমাবদ্ধ নয় লিটন। কৃষ্ণকাঠি এলাকায় জমি ক্রয়-বিক্রয় করতে হলেও লিটন বাহিনীকে মাসোয়ারা দিতে হয়। লিটন বাহিনীর সহায়তা ছাড়া কেউ জমি ক্রয়-বিক্রয় করলে তার দখল নিতে দেয়া হয়না।
ওই এলাকার একাধিক অভিভাবকরা জানান, এলাকার উঠতি বয়সের যুবকদের লিটন প্রথমে টাকা ছাড়া ইয়াবা সেবন করায়। মাঝে মধ্যে যুবকদের টাকা দিয়ে সহায়তার নামে ফাঁদ পাতে লিটন। ওইসব যুবকদের কাছে লিটন টাকা ফেরত চেয়ে না পেয়ে ওই যুবকদের মাদক ব্যবসায় নামিয়ে দেয়। লিটনের ইয়াবার রাজ্যে স্কুল ও কলেজের একাধিক শিক্ষার্থীদের জীবন আজ বিপন্ন হয়ে উঠেছে।
লিটনের অনৈতিক কাজে কেউ বাঁধা প্রদান করলে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া হয়। এমনকি কয়েকদিন পূর্বে নিজের মাছের ঘেরে বিষ দিয়ে মাছ মেরে এলাকার প্রতিবাদকারী জনগনকে ফাঁসিয়ে দেয় লিটন। বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের তদন্তে লিটনের নাটকের মূলরহস্য বেরিয়ে আসে। ভূক্তভোগী এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, লিটনের মাদকের রাজ্য ধ্বংষ করতে এলাকাবাসীকে একত্রিত করায় মাদক স¤্রাট লিটনের নারী সহযোগী খাদিজা বেগমকে দিয়ে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যে এজাহার দায়ের করা হয়। এসময় থানা পুলিশের প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে না পারায় খাদিজা নামের ওই নারী কৌশলে থানা থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আদালতে একটি মিথ্যে মামলা দায়ের করেন খাদিজা বেগম। সূত্রে আরও জানা গেছে, লিটনের মাধ্যমে জমি বিক্রি না করার অপরাধে অতিসম্প্রতি একই এলাকার বাসিন্দা জাহানারা বেগমের সহয় সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে নিজের নামে সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দেয় লিটন ও তার বাহিনীর সদস্যরা। কৃষ্ণকাঠি এলাকার ব্যক্তি মালিকানাধানীসহ স্কুলের পুকুর দখল করে মাছ চাষ করছেন লিটন ও তার বাহিনীর সদস্যরা।
স্থানীয় জনৈক দুলালের বসত ঘরে প্রতিদিন রাতে মাদক ও জুয়ার আসর বসায় লিটন। জুয়ার আসরে সর্বশান্ত হয়ে ফিরছেন এলাকাবাসী। লিটনের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে গ্রামবাসীর পক্ষে স্থানীয় সমাজ সেবক হুমায়ুন কবির কয়েকদিন পূর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সচিব, আইজিপি, ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
সকল অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আওলাদ হোসেন লিটন জানান, আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার সাথে অসংখ্য পোলাপাইন আছে, যখন যে দলে ডাকে সেখানেই যাই।
এ ব্যাপারে ভরপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, লিটন একটা বাজে ছেলে, ওর অত্যাচারে আমি নিজেও অতিষ্ঠ। প্রতিদিন অন্তত ৫/৭ জন অভিযোগ নিয়ে হাজির হয় লিটনের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের আমি মামলা করার জন্য বললে সন্তানদের প্রানের ভয়ে কেউ মামলা করতে সাহস পাচ্ছেননা। ইতিপূর্বে লিটনের বিরুদ্ধে যারা মামলা করেছে তাদের সবাইকে লিটন ও তার ক্যাডাররা নানাভাবে হয়রানী করেছে।
বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আসম মাসুদুজ্জামান বলেন, লিটন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থানায় ও আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে (লিটন) গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।