হযরত লালন শাহ কি বাঙালি জাতির কাছে আল্লাহর প্রতিনিধিরূপে ছিলেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক : লালন সাঁইজীর দর্শন, মানবিক উপলব্ধি এবং সংগীত সাধনা আমাদের জন্য অনন্য আশির্বাদস্বরূপ। ফকির লালন শাহ বেঁচে থাকা অবস্থায় ভক্তদের নিয়ে দোল পূর্নিমা তিথিতে সাধুসঙ্গের ডাক দিতেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মরমী সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ-এর স্বরণে কুষ্টিয়া ও ঢাকায় বিভিন্ন সময়ে মেলা ও সঙ্গীত আয়োজন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় একাডেমির শিল্প প্রাঙ্গণে পূর্ণিমা তিথিতে তৃতীয়বারের মতো আয়োজন করে ‘সাধুসঙ্গ’। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। সাধুসঙ্গের শুরুতেই পরিবেশিত হয় প্রার্থনা সঙ্গীত।


বাংলাদেশ মানবতাবাদী দল-বিএইচপির মহাসচিব ড. সুফি সাগর সামস্ স্বপরিবারে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন। তাঁর ৯ মাস বয়সের শিশুপুত্র এরিক ইবনে সামস্ ছিলেন অনুষ্ঠানের সর্বকনিষ্ঠ দর্শকশ্রোতা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন, বড় মেয়ে কুররাতুল আইনিন, ছোট মেয়ে উদয়া বিনতে সামস্ ও স্ত্রী সোমা আখতার পিংকি।
এ সময় সুফি সামস্ বলেন, পৃথিবীর এমন কোনো জনপদ নেই, এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে নবী-রসূল আসেননি।
মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘এমন কোনো জাতি নেই যে জাতির নিকট সতর্ককারী প্রেরণ করা হয়নি’ (সূরা ফাতির, আয়াত-২৪)।
প্রত্যেক জাতির জন্য আছে একজন রসূল এবং যখন তাদের রসূল এসেছেন তখন ন্যায়বিচারের সঙ্গে তাদের মীমাংসা হয়েছে এবং তাদের প্রতি জুলুম করা হয়নি (সূরা ইউনুস, ১০-৪৭)।
আমি প্রত্যেক রসূলকেই তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি তাদের নিকট পরিস্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য (সূরা ইব্রাহিম, আয়াত-৪)।
মহানবী রসূলে করিম (স)-কে উদ্দেশ্য করে মহান আল্লাহতা’লা বলেছেন, ‘আমি আপনার পূর্বে এমন কোনো রসূল প্রেরণ করিনি তাঁর কাছে এই ওহী ব্যতীত যে, অল্লাহ ছাড়া অন্যকোন ইলাহ নেই। সুতরাং আমারই ইবাদত কর’ (সূরা আম্বিয়া, আয়াত-২৫)।
আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগুত থেকে নিরাপদ থাক। অত:পর তাদের মধ্যে কিছুসংখ্যককে আল্লাহ হেদায়েত করেছেন এবং কিছুসংখ্যকের জন্য বিপথগামিতা অবধারিত হয়ে গেল। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং মিথ্যারোপকারীদের কিরূপ পরিণতি হয়েছে’ (১৬:৩৬)।

মহান আল্লাহতা’লার ঘোষণা কখনও মিথ্যা হতে পারে না। বাঙালি জাতি হাজার হাজার বছরের পুরনো এবং পরিপূর্ণ একটি জাতি। প্রশ্ন হলো, আল্লাহতা’লা বাঙালি জাতির মধ্যে কোন মহামানবকে তাঁর প্রতিনিধিরূপে প্রেরণ করেছেন? ’হযরত লালন শাহ (র) এর মানবতাবাদী মহান ধর্ম-দর্শন আল্লাহতা’লার ঐ ঘোষণাকে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং মনে প্রশ্ন জাগে তিনি কি বাঙালি জাতির মধ্যে আল্লাহতা’লার প্রতিনিধিরূপে ছিলেন? আমার মনে হয়, আমাদের সময় এসছে, বাঙালি জাতির কাছে প্রেরিত আল্লাহতা’লার প্রতিনিধিকে খুঁজে বের করার’।
অনুষ্ঠানে বাউলসংগীত পরিবেশন করেন, কুষ্টিয়ার লালন একাডেমির শিল্পী আনু ফকির, শাহদাৎ ফকির, আব্দুল কুদ্দুস, বিধান শাহ্, আকলিমা ফকিরানী ও শিল্পী গোলাপী। এছাড়াও বিশিষ্ট বাউল শিল্পীদের মধ্যে, শরীফ সাধু, হামিদা, বাসার ও সমীর বাউল। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী রিতা ম-ল, হিরক সর্দার, লাভলী শেখ। ‘মন চোরা পরে ধরা, ধন্য ধন্য বলি তারে ও মিলন হবে কত দিনে’ সঙ্গীতগুলো সম্মিলিত সুরে পরিবেশন করেন, ফারুক নূরী, ডলি ম-ল, মোস্তফা ও মোসুমী ইকবাল।

(টুডে সংবাদ/তমাল)
প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে www.todaysangbad.com