খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে যোগ দিয়েছেন সাধারণ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইলেকশন অইবো ই-বছর। দুইটা দল ইলেকশনে আইলে দেশ শান্ত থাকব। এই ইলেকশনের বছর একটা দলের প্রধান জেলে—এইটা ঠিক না। তাঁরে মুক্তি দিয়ে ইলেকশনের পরিবেশ বজায় রাখতে স্বাক্ষর কইরা আইলাম।’

সিলেট নগরের আম্বরখানা এলাকায় এভাবেই বলছিলেন একজন ব্যবসায়ী। এ কথা শুনে পাশে থাকা আরেকজন বললেন, ‘আমিও সই দিমু, তালিকায় নামখান তো থাকব!’ দুজনই ওই এলাকার বাসিন্দা। সক্রিয় রাজনীতি না করলেও নির্বাচনের বছরে খালেদা জিয়ার জেলে থাকা মানতে পারছেন না দুজন। এ জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তাঁরা। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, এমন অনেককেই গতকাল শনিবার দিনভর চলা বিএনপির গণস্বাক্ষর সংগ্রহস্থলে দেখা গেছে। সিলেটে গতকাল বিএনপির কেন্দ্রঘোষিত গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পালিত হয়েছে।

নগরের সোবহানীঘাট এলাকায় জেলা কমিটি ও আম্বরখানায় নগর কমিটির উদ্যোগে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। বেলা ১১টায় শুরু হওয়া স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি শেষ হয় বিকেলে ৪টায়। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ হক, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলার সাবেক আহ্বায়ক এম নুরুল হক, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, জেলা সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ প্রমুখ জ্যেষ্ঠ নেতা স্বাক্ষর করে কর্মসূচির সূচনা করেন। পরে পর্যায়ক্রমে বিএনপির অন্যান্য নেতা, সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা স্বাক্ষর করলে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। গণস্বাক্ষর চলাকালে শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।

নগর কমিটির গণস্বাক্ষর কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এম এ হক বলেন, ‘এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছু নয়। এই প্রতিহিংসার চড়া মূল্য আওয়ামী লীগকে দিতে হবে। অবিলম্বে খালেদাকে মুক্তি দিন, নইলে এই গণস্বাক্ষর অবশ্যই গণবিস্ফোরণে রূপ নেবে।’

নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, সহসভাপতি হাবিবুর রহমান ও সালেহ আহমদ খসরু, সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী, মহানগরের সহসভাপতি সামিয়া চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া নগরের ২৭ ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ওয়ার্ড কমিটি এবং নগরের বাইরে জেলা বিএনপির ১২টি উপজেলা ও ৪টি পৌর কমিটির মাধ্যমে ২ শতাধিক স্থানে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ হয়েছে। কর্মসূচি শেষে জেলা ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জানান, কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা সংগৃহীত স্বাক্ষর কেন্দ্রে পাঠাবেন।

(টুডে সংবাদ/তমাল)
প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে www.todaysangbad.com