ছাত্রদলের সভায় ছাত্রলীগের হামলা-ভাঙচুর, সাংবাদিকসহ আহত-২০, আটক-৬১

গৌরনদী প্রতিনিধি : বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩ তম জন্মদিন উপলক্ষে বরিশালের গৌরনদীতে ছাত্রদলের আলোচনা সভায় সোমবার সন্ধ্যায় হামলা চালিয়েছে কতিপয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় একটি বসতঘর ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলার ভিডিও ধারন করার সময় এক সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত সাংবাদিক মোল্লা ফারুক হাসানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়া ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মীদের অর্তকিত হামলায় ছাত্র ও যুবদলের ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।। আহত বিএনপির নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার আতঙ্কে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ৬১জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে। হামলায় আহত হওয়ার পর পুলিশের অভিযানে আটককৃত গৌরনদী পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক মোল্লা মাহফুজ থানা হাজতে বসে সাংবাদিকদের জানান, তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে সোমবার সন্ধ্যায় পৌর এলাকার উত্তর পালরদীস্থ তার নিজ বাসভবনে আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তিনি আরও জানান, জন্মদিনের কেক কাটা শেষে আলোচনা সভা চলাকালীন সময় আকস্মিকভাবে ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে তাদের সভাস্থলে হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা সভাস্থলে আগত নেতাকর্মীদের পাঁচটি মোটরসাইকেলসহ তাদের বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।
মোল্লা মাহফুজ আরও জানান, হামলায় তিনিসহ বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম (৪২), দেলোয়ার হোসেন (৩৬), জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৮), যুবদল কর্মি আরিফ হোসেন (২৮), মো. আবু জাফর (৩২) সিকদার মমিন উদ্দির্ন (৩০) ছাত্রদল কর্মি সফিকুল ইসলাম (২৪), রিপন (২৬)সহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। ঘটনার পর পরই গৌরনদী মডেল থানার একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিএনপি, ছাত্র ও যুবদলের ৬১ নেতাকর্মীকে আটক করেছেন।
আটককৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন, জেলা বিএনপি নেতা কাজী সরোয়ার, উপজেলা যুগ্ম আহবায়ক আবু বক্কর গাজি, গৌরনদী পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক মোল্লা মাহফুজ, সরকারী গৌরনদী কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক জিএস ছাত্রদল নেতা ফুয়াদ হোসেন এ্যানি, যুবদল নেতা গোলাম মোর্শেদ মাসুদ, মাসুম হাওলাদার, আমিনুল ইসলাম শাহীন, ছাত্রদল নেতা জাফর, সবুজ, মাসুদ ও মিজানুর রহমান।
গৌরনদী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেসরকারী টেলিভিশন মাই টিভির গৌরনদী উপজেলার ক্যামেরাপার্সন ও বরিশাল থেকে প্রকাশিত আমাদের বরিশাল পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি মোল্লা ফারুক হাসান জানান, হামলা চলাকালীন সময় তিনি ভিডিও ধারণ করছিলেন। এসময় হামলাকারীরা তাকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গৌরনদী হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ব্যাপারে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্ঠা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। থানায় দায়িত্বরত এসআই মোশারফ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কোন তথ্য দিতে রাজি হননি।
হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জোবায়ের ইসলাম বলেন, হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের কোন নেতা কর্মি জড়িত নয়।