মহান আল্লাহতা’লা যেভাবে মানবশিশু সৃষ্টি করেন

ইয়া আইয়্যুহান নাছু, ইন কুনতুম ফী রাইবিম মিনাল বা’ছি ফাইন্না-খালাক্বনাকুম মিন তুরাবিন ছুম্মা মিন নুত্বফাতিন ছুম্মা মিন আলাকাতিন ছুম্মা মিন মুদ্বগ¦াতিন মুখাল্লাক্বাতিওঁ ওয়া গ¦াইরি মুখাল্লাক্বা তিন লিবুবাইয়্যিনা লাকুম; ওয়া নুক্বিররু ফিল আরহামি মা-নাশা-উ-ইলা আজ্বালিম মুসাম্মান ছুম্মা নুখরিজুকুম ত্বিফলান ছুম্মা লিতাবলুগ¦ু আশুদ্দাকুম, ওয়া মিনকুম মাই ইয়ুতাওয়াফ্যা-ওয়া মিনকুম মাই ইয়ুরাদ্দু ইলা আরজালিল উমুরি লিকাইলা-ইয়ালামা মিম বা’দি ইলমিন শাইয়া; ওয়া তারাল আরদ্বা হা-মিদাতান ফাইজা-আনজালনা-আলাইহাল মা-আহতায্যাত ওয়া রাবাত ওয়া আম্বাতাত মিন কুল্লি যাওজ্বিম বাহিজ্ব (সূরা হাজ্ব, ২২:৫)।
অর্থ : হে মানবমন্ডলী, যদি তোমরা পুনর্জন্ম সম্পর্কে সন্দেহপোষণ করো, তবে দেখ, আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করি, তারপর শুক্র থেকে, তারপর জমাটবাঁধা রক্ত থেকে, এরপর আকৃতি ও আকৃতিহীন মাংসপিন্ড থেকে সৃষ্টি করি, তোমাদের কাছে প্রকাশ করার জন্য; এরপর আমি এক নির্দিষ্ট সময় গর্ভে রাখি, পরে তোমাদেরকে শিশুরূপে বের করি; এরপর তোমরা যৌবনে উপনীত হও, তোমাদের কারো কারো মৃত্যু ঘটে আবার কেউ কেউ পরিণত বয়সে পৌছায়, ফলে তারা কিছু জানার পর অজ্ঞ হয়ে পড়ে; জমিনকে শুষ্ক দেখা যায়, পানি বর্ষণ করলে তা সজিব হয়, এতে বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ সৃষ্টি হয় (সূরা হাজ্ব, ২২:৫)।
এ আয়াতে কারীমায় মাতৃগর্ভে মানবসৃষ্টির বিভিন্ন স্তর বর্ণনা করা হয়েছে। বুখারি শরীফে এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহুতা’লা আনহু’র রেওয়াতে বলা হয়েছে যে, মহানবী রসূলে করিম সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম বলেন, “শুক্রকীট চল্লিশ দিন গর্ভাশয়ে স্থিত থাকে। এরপর তা জমাটবাঁধা রক্তে রূপান্তরিত হয়। এরপর আরো চল্লিশ দিন অতিবাহিত হলে তা মাংসপিন্ডে পরিণত হয়। এ সময় মহান আল্লাহতা’লা একজন ফিরিশতাকে প্রেরণ করেন। ফিরিশতা তাতে রূহ ফুকে দেন। এ সময় এ শিশু সম্পের্কে ৪টি বিষয় নির্দিষ্ট করা হয়। বিষয়সমূহ হলো :
১. শিশুর বয়স কত হবে।
২. শিশুর রিযিকের পরিমাণ কি হবে।
৩. শিশু কি কি কাজ করবে।
৪. এ শিশুর ভাগ্য কি হবে।
(কুরতুবী, তফসীরে মাআরেফুল কুরআন)।
হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহুতা’লা আনহু’র বাচনিক এবং হযরত ইবনে আবি হাতিম ও ইবনে জরির রাদিআল্লাহুতা’লা আনহু’র বর্ণিত অপর এক রেওয়াতে বলা হয়েছে যে, শুক্রকীট যখন কয়েক স্তর অতিক্রম করে মাংসপিন্ডে রূপান্তরিত হয় তখন মানব আকৃতিদানকারী ফিরিশতা এসে মহান আল্লাহতা’লার কাছে বিনয়ের সাথে জানতে চান যে, এই মাংসপিন্ড দ্বারা মানবসৃষ্টিতে আল্লাহতা’লার সম্মতি আছে কিনা? যদি আল্লাহতা’লা অসম্মতি প্রদান করেন, তবে এই মাংসপিন্ডকে গর্ভাশয়ে বিনষ্ট করে দেওয়া হয়। আর যদি আল্লাহতা’লা সম্মতি প্রদান করেন, তবে ফিরিশতা মহান আল্লাহতা’লার কাছে এই মানব শিশুর পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে জেনে নেন এবং সে অনুসারে কাজ করেন। এ পাঁচটি বিষয় হলো :
১. শিশুটি ছেলে হবে, না মেয়ে হবে।
২. শিশুটির ভাগ্য কি হবে।
৩. শিশুটি কত বৎসর বয়স লাভ করবে।
৪. শিশুটি ভবিষ্যতে কি কি কাজ করবে।
৫. শিশুটি কোথায় মৃত্যুবরণ করবে।
(ইবনে কাসির, তফসিরে মারেফুল কুরআন)।
সংকলক : ড. সুফি সাগর সামস্, মহাসচিব, বাংলাদেশ মানবতাবাদী দল (বিএইচপি)
E-mail : humanntionlism@gmail.com Phone  : ০১৭৭১-০২৭০৯৪