শীতের সবজীতে আগুন, বিপাকে সাধারণ মানুষ

anisul-hq

নিউজ ডেস্ক : রাজধানীতে শীতকালীন সবজিতে রীতিমতো আগুন লেগেছে। মৌসুমী এ সবজির তাপ বাজারজুড়ে। ৩০ টাকার নিচে সবজি নেই বললেই চলে। সরবরাহ পর্যাপ্ত হলেও সবজির দাম নিয়ে বিপাকে সাধারণ মানুষ। খুচরা ব্যবসায়ীরা পাইকার ও সিন্ডিকেটের ওপর দায় চাপিয়ে নিত্যদিন বাড়িয়ে চলেছে সবজির দাম।

ক্রেতারা বলছেন, গেলো কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর শীত মৌসুমের সবজির দাম বেশি। এ মৌসুমে প্রচুর সবজির সরবরাহ থাকলেও ক্রেতাদের ক্রয়সীমার বাইরে থাকছে বেশির ভাগ সবজি। এতে ক্রেতাদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা যায় ফুলকপি, বাঁধাকপি, নতুন আলু, শিম, কয়েক প্রকার বেগুন, পালংশাক, লালশাক, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, মুলা, ধনে পাতা, করল্লা ও বরবটিসহ রয়েছে বেশ কয়েক ধরনের সবজি।

বাজারে প্রতি পিস (ছোট আকারের) ফুলকপি এবং বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পুরান আলু প্রতি কেজি ২৮ থেকে ৩০ টাকা, নতুন আলু প্রকারভেদে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, শিমের দাম ৬০ থেকে ৮০, পটল ২৫ থেকে ৩৫, গোল এবং লম্বা বেগুন ৪০ থেকে ৬০ টাকা, মানভেদে মুলা ৩০ থেকে ৪০, করল্লা ৪০ থেকে ৫০, কাঁচামরিচ ৫০ থেকে ৬০, টমেটো ৭০ থেকে ৮০, বরবটি ৪০ থেকে ৫০ এবং পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে। প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। গাজর ৭০ টাকা, পটলের কেজি ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, শালগম ৬০ টাকা। এসব সবজির দাম ঢাকার প্রতিটি বাজারে প্রায় একই রকম। কোনো কোনো বাজারে দুই থেকে পাঁচ টাকা বেশি দামেও বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ধনে পাতা আড়াইশ’ গ্রাম ৫০ টাকা, প্রতি হালি লেবু ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

বাজারে আমদানি করা প্রতি কেজি রসুন (মানভেদে) বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২১০ টাকা, যা মাসের শুরুতে ছিল (নভেম্বর) ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, এর আগে বিক্রি হয়েছিল ২০ থেকে ২৮ টাকা দরে। দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, আগের দাম ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। আমদানি করা প্রতি কেজি আদা মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকায়।

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট আকারের প্রতি কেজি চিংড়ি ৩৫০ টাকা, মাঝারি আকারের ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। পোয়া মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, প্রতি কেজি পাঙ্গাস মাছ ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, সিলভার কার্প ১১০ থেকে ১৪০ টাকা, বাইন মাছ ৪০০ টাকা, পাবদা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, পুটি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, কৈ ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা, বোয়াল ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, টাকি ২৫০ টাকা এবং লইট্টা মাছ ২০০ টাকার মধ্যে, টেংরা মাছের প্রতি কেজি (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। বাইলা মাছ (গুড়া) ২৬০ টাকা, কাচকি মাছ ৩০০ টাকা, শিং মাছ (আকারভেদে) ৫৫০ থেকে ১০০০ টাকা, সোল মাছ (মাঝারি) ৮০০ টাকা। তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা। কাতল মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা।

বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৪৩০ টাকা, খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকায়। আর প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৪০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ১৫৫ টাকা কেজি।

বাজারে ব্রয়লার ডিম (লাল) প্রতি হালি ৩৫ টাকা, হাসের ডিম প্রতি হালি ৪৫ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি হালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে (কক) ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়।

ঢাকার খুচরা বাজারে চালের মধ্যে প্রতি কেজি নাজির ও মিনিকেট সাধারণ মানের ৪৬-৪৮ টাকা ও ভালো মানের ৪৮-৫৬, পাইজাম ও লতা সাধারণ মানের ৪০-৪২ ও ভালো মানের ৪২-৪৫ এবং মোটা চাল স্বর্ণা ও চায়না ইরি ৩৮-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি খোলা আটা ২৫ থেকে ২৮ টাকা, প্যাকেট আটা ৩২ থেকে ৩৪, খোলা ময়দা ৩৪ থেকে ৩৬ এবং প্যাকেট ময়দা ৪০ থেকে ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৮৪ থেকে ৮৬, বোতলজাত সয়াবিন তেল পাঁচ লিটার ৪৯৫ থেকে ৫০০ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল এক লিটার ৯৭-১০৫, প্রতি লিটার খোলা পাম অয়েল ৭০-৭২ এবং সুপার পাম অয়েল ৭২-৭৪ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

তুরস্ক ও কানাডা থেকে আমদানি করা মশুর ডাল প্রতি কেজি বড় দানার ৯৫-১০৫, মাঝারি মানের ১১০-১২০, দেশি ১৩০-১৪০ ও নেপাল থেকে আমদানি করা ১৪০-১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি মুগডাল মানভেদে ৮০-১১৫ টাকা, অ্যাংকর ডাল ৫০-৬০, ছোলা ৮৫-৯০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

(টুডে সংবাদ/উদয়া)

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে www.todaysangbad.com ভিজিট করুন, লাইক দিন এবং  শেয়ার করুন