এই স্কুলে ভর্তি হওয়া হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়েও কঠিন!

40

অনলাইন ডেস্ক : পৃথিবীর কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি হওয়া সবচেয়ে কঠিন কাজ? বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তালিকায় আসতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেধা যাচাই এবং ভর্তি প্রক্রিয়ার বিচার আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া সবচেয়ে কঠিন। কিন্তু এই বিখ্যাত হার্ভার্ডকেও পেছনে ফেলেছে আমেরিকার এক কিন্ডারগার্টেন! ছোট ছোট শিশুরা হার্ভর্ডের চেয়েও প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতে অংশ নেয়।

আমেরিকার বেশ কয়েকটি গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড পাবলিক এলিমেন্টারি স্কুলের মধ্যে একটি হান্টার কলেজ এলিমেন্টারি স্কুল। মাত্র ৪ বছর বয়সের শিশুরা এখানে ভর্তিযুদ্ধে নামে।

মূলত সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের হান্টার কলেজের মাধ্যমে পরিচালিত হয় স্কুলটি। হান্টার কলেজ এলিমেন্টারি আমেরিকার কে-৬ স্কুল যা পাবলিক ফান্ডে চলে।

এতে ভর্তি হওয়ার একমাত্র উপায় কিন্ডারগার্টেন পর্যায়ে ঢুকতে হবে। এর অর্থ, একবার এতে সুযোগ হারালে আর কখনো ভর্তি হওয়া যাবে না। কিন্তু হার্ভার্ডে সে সুযোগ রয়েছে।

এখানে সেই শিশুরাই ভর্তি হয় যাদের বলা হয় গিফটেড চাইল্ড। এরা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি মেধাসম্পন্ন হয়ে থাকে। প্রতিবছর হান্টার বেছে  নেয় এমনই ২৫ জন মেয়ে এবং ২৫ জন ছেলে শিশুকে। গোটা ম্যানহাটান থেকে তাদের রীতিমতো ছেঁকে নেওয়া হয়। স্কুলের ওয়েবসাইটে বলা হয়, ২৫০০ আবেদনকারীর মধ্য থেকে ৫০ জন এখানে সুযোগ পায়। এখানে ২ শতাংশ শিশুর শিক্ষার্থী হিসাবে সুযোগ মেলে। কিন্তু হার্ভার্ডের আন্ডারগ্র্যাজুয়েটদের সুযোগ থাকে ৫.২ শতাংশ। অর্থাৎ, হান্টারে ভর্তির সুযোগ হার্ভার্ডের চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশি কঠিন।

ভর্তির জন্য হান্টারের শিক্ষার্থীদের স্ট্যানফোর্ড-বাইনেট আইকিউ টেস্ট দিতে হয়। গতানুগতিক পদ্ধতিতেই এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু শর্ত আছে। এ পরীক্ষার জন্য শিশুদের কোনো প্রস্তুতি থাকা চলবে না। বাবা-মায়েরা কোনভাবেই তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক কোনো শিক্ষা দিতে পারবেন না। যদি কোনভাবে বোঝা যায়, শিশুটি প্রস্তুতি নিয়েছিল, তবে সে বাদ পড়বে।

এ পরীক্ষা সেরা নম্বরপ্রাপ্ত ২৫০ জনকে বেছে নেওয়া হয়। এদের নিয়ে পরীক্ষার পরবর্তী ধাপ শুরু হয়। প্রত্যেক শিশুকে আলাদাভাবে দেখা যায় তারা বড়দের বা শিক্ষকদের সঙ্গে কিভাবে মানিয়ে নিতে শিখেছে। একজন শিক্ষক যেকোনো একজন শিশুকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

এখানকার পড়াশোনাও ভিন্ন ধাঁচের। প্রকৃতিপ্রদত্ত চরম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা প্রদানের কাজটিও নিশ্চয়ই সাধারণ হবে না। এদের শিক্ষা প্রদানে কোনো টিউশন ফি নেওয়া হয় না। এখান থেকে যারা বেরিয়ে আসেন, তারা দেশের সম্পদ হিসাবে বিবেচিত হন। যেমন- সুপ্রিম কোর্ট জাস্টিস এলিনা কাগানের নাম উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়।

(টুডে সংবাদ/মেহেদী)

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে www.todaysangbad.com