সেনবাগে যৌতুকের দাবীতে গৃহবধুকে নির্যাতন, পুলিশের সহযোগীতায় উদ্ধার

03

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম : নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার অর্জুনতলা ইউনিয়নের দক্ষিন গোরকাটা গ্রামে দাবীকৃত যৌতুক না পেয়ে স্বামী,শ্বশুর,শাশুড়ী,ননদ,ভাসুর ও দেবরের নির্যাতনে শিকার আহত রোমানা আক্তার (১৮) ও তার ছেলে কাউছার হোসেন ৫মাসের শিশু সন্তানকে উদ্ধারের সেনবাগ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছে সেনবাগ থানা পুলিশ। এসময় পুলিশের সহযোগীতায় মেয়ে ও নাতীকে উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন গৃহবধুর পিতা মোহাম্মদ ইয়াছিন প্রকাশ দনুমিয়া। ওই ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বুধবার দিবাগত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোরকাটা গ্রামের পন্ডিত বাড়িতে। এঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ অভিযুক্ত কাউকে আটক করতে পারেনী।

পুুলিশ ও নির্যাতনের শিকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোমান জানান-দেড় বছর আগে উপজেলা অর্জুনতলা ইউনিয়নের দক্ষিন গোরকাটা গ্রামের পন্ডিত বাড়ির মফিজুর রহমানের ছেলে আমির হোসেন(২৫) সঙ্গে বিবাহ হয়। বিয়ের তার স্বামী আমির হোসেন ব্যবসা করবে বলে তার পিতার নিকট থেকে একলাখ টাকা যৌতুক নেয়। এর কিছুদিন পর সে আবারো দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে। এতে সে পিতার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিয়ে অস্বীকার করলে তাকে এলাপাড়াতী পিটিয়ে নির্যাতন করতো। এরেই মাঝে তার গর্ভে সন্তান আসে। সন্তানের কথা চিন্তা করে স্বামী,শ্বশুর,শাশুড়ি,ননদ,ভাসুর ও দেবরের নির্যাতন সহ্য করে বসবাস করতে থাকেন। এরেই মাঝে তার সংসার আলো করে একটি শিশু ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু এরপর থেকে নির্যাতন আরো বেড়ে যায়। যার এক পর্যায়ে যৌতুকের দুই লাখ টাকার জন্য ৫/৬দিন আগে রোমানাকে এলোপাথাড়ী পিটিয়ে আহত করে তার ৫মাসের ছেলেকে রেখে দিয়ে পিতার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। রোমানা দুইদিন পিতার বাড়িতে থাকার পর আবার শ্বশুর বাড়িতে যায়। কিন্তু যৌতুকের টাকা না নেওয়ায় তাকে আটকে রেখে মারধর করে। এ খবর পাওয়ার পর তার পিতা বৃহস্পতিবার রাতে মেয়ে ও নাতীকে উদ্ধারের জন্য সেনবাগ থানা পুলিশের এসআই মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সঙ্গিয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে তার মেয়েকে উদ্ধার করে। এসময় নাতীকে নেওয়ার চেষ্টা করলে তারা তার পিতার ওপর হামলা করে আহত করে।পওে অবশ্য পুলিশের সহযোগীতায় তার ছেলেকেও উদ্ধার করে তাদেরকে সেনবাগ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। পুলিশ এঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনী । রোমানা সেনবাগ পৌর শহরের চারিদ্রোন গ্রামের ইয়াছিনের মেয়ে।

এব্যাপারে যোগাযোগ করলে সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) হারুর উর রশিদ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান। এঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।