আগামী নির্বাচন নিয়ে খালেদা জিয়ার ভাবনা

00000000

নিউজ ডেস্ক : দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় প্রটোকল হারিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। ৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো সংসদে নেই বিএনপি। রাজনীতির ময়দানে বেকায়দায় থাকা দলটি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে-সেই প্রশ্নের মীমাংসা হয়নি এখনো। এই অবস্থায় জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে আগামী নির্বাচন নিয়ে নিজের একটি আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বৈঠকে অংশ নেয়া একাধিক নেতার সঙ্গেই কথা হয়েছে। তারা জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জোট নেত্রী তার ভাবনা অকপটে জানিয়েছেন তাদের। গত মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে ওই বৈঠক হয়। শরিক দলের একাধিক নেতা জানান, খালেদা জিয়া তাদের বলেছেন, তাকে ও তার ছেলে তারেক রহমানকে সাজা দিয়ে সরকার একটা ‘ভাঙাচোরা’ নির্বাচন করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনে শরিক দলগুলো যেন নির্বাচনে অংশ না নেয়, সে বিষয়ে সতর্ক করে দেন জোট নেত্রী।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা খালেদা জিয়াকে বলেন, তাকে ও তারেক রহমানকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে তারা তাতে অংশ নেবেন না।

বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগে এরই মধ্যে তারেক রহমানকে সাজা দিয়েছে হাইকোর্ট। ফলে আগামী নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে পারবেন কি না, সে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির দুই মামলায় বিচার চলছে। ২০০৭ সাল থেকে চলা এই মামলাটি যুক্তিতর্কের পর্যায়েও চলে এসেছে। বিএনপির মধ্যে আশঙ্কা আছে, মামলাটি রায়ের পর্যায়ে চলে গেলে এবং রায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গেলে তিনি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার যোগ্যতা হারাবেন কি না।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি-জামায়াত জোটের বর্জনের মুখে নির্বাচন করে একতরফা জয় পায় আওয়ামী লীগ। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলনে থাকা বিএনপি ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোট ওই নির্বাচন বর্জন করে। এরপর থেকে সরকারের নানা ভূমিকায় কোণঠাসা হতে থাকে বিএনপি।

নিয়ম অনুযায়ী ২০১৯ সালে পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও সরকার মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে পারে এমন গুঞ্জন প্রায়ই চাওর হয় রাজনৈতিক মহলে। তবে সরকার তা নাকচ করে দিয়ে বলছে, নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেও নির্বাচন হবে না।

মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকে জোটের সম্পর্ক অটুট রাখা,জোট ভাঙার ষড়যন্ত্র, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে দেয়া প্রস্তাব, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন, আলোচিত এক-এগারোর সময়ের নানান বিষয়, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মামলাসহ বেশ কিছু বিষয় আলোচনা হয়। একপর্য়ায়ে জোট নেতাদের উদ্দেশে পাঁচ মিনিটের মতো কথা বলেন জোট-প্রধান খালেদা জিয়া।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জোটের একজন শীর্ষ নেতা জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন তার বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলেন, ‘আল্লাহ পাক আমাকে অনেক সম্মান দিয়েছেন। আমি জনগণের জন্য রাজনীতি করি। দেশের স্বার্থে রাজনীতি করি, ব্যক্তিস্বার্থে নয়।’

এ সময় জোট নেত্রী বলেন, ‘আমাকে ১/১১ সরকার অনেক লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে আমি গ্রহণ করে আপস করিনি। ভবিষ্যতেও অবৈধ ও দেশবিরোধী কোনো প্রস্তাবে কারো সঙ্গে আপস করব না।’

জোট নেতাদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমাকে ও তারেককে সাজা দিয়ে সরকার ভাঙাচোরা নির্বাচন দিতে পারে। আপনারা ওই নির্বাচনে যাবেন না। আর সরকার আমাদের কোনো কথায় হয়তো কান দেবে না। এদের কাছ থেকে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করতে হবে।’

জোট ভাঙার ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘জোট ভাঙার ষড়যন্ত্র অতীতেও হয়েছিল। এই অপচেষ্টা ভবিষ্যতেও থাকবে। অতীতে যেমন আপনারা দুঃসময়ে আমার সঙ্গে ছিলেন, আশা করি ভবিষ্যতেও থাকবেন।’

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন ও শক্তিশালীকরণে সম্প্রতি খালেদা জিয়া যেসব প্রস্তাব দিয়েছেন, তা নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর‌্যায়ে জনমত গঠনে করণীয় ঠিক করার জন্য জোট নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়া বৈঠকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য ২০ দলের শরিকরা একমত হন। একই সঙ্গে জোটের শরিক এলডিপি ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেবে বলে বৈঠক শেষে জানানো হয়।

বৈঠকে নারায়ণগঞ্জে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী প্রচারণায় নামার বিষয়ে আলোচনা হলেও কবে থেকে তিনি প্রচারণায় নামবেন সে ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য আব্দুল হালিম, খেলাফতে মজলিসের মাওলানা মো. ইসহাক, জাতীয় পার্টির মোস্তফা জামাল হায়দার, এলডিপির ড. রেদোয়ান, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বীর প্রতীক,গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, বিজেপির আবদুল মতিন সাউদ, ডিএলের সাইফুদ্দিন মনি, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান ও সাম্যবাদী দলের কমরেড সাঈদ আহমেদ।ঢাকাটাইমস

(টুডে সংবাদ/উদয়া)

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে www.todaysangbad.com ভিজিট করুন, লাইক দিন এবং  শেয়ার করুন