নবজাতকের জীবনের মূল্য ৬০ হাজার টাকা

80

এস,এম,মিজান : একই চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় দুই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় এক নবজাতকের
স্বজনরা আদালতে মামলা দায়ের করলেও অপরজনের স্বজনদের বুধবার রাতে ৬০ হাজার টাকায় ম্যানেজ করেছেন ক্লিনিক মালিকের ভাড়াটিয়া লোকজনে। ঘটনাটি জেলার গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বাজারের এ্যাপোলো ক্লিনিক ও একই উপজেলার বেজগাতি এলাকার প্রাইভেট সুইচ হাসপাতালের।
বাটাজোর গ্রামের সুজন হাওলাদার অভিযোগ করেন, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বিলকিস আক্তারকে (২৩) গত ২৮ নভেম্বর সকালে এ্যাপোলে ক্লিনিকের চিকিৎসক ডাঃ রাজিয়া সুলতানার তত্ত্বাবধানে ভর্তি করা হয়। বিলকিসের নানা সমস্যার কথা বলে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্লিনিক মালিক আমিনের যোগসাজসে ওই চিকিৎসক মোটা অংকের টাকা চুক্তির বিনিময়ে ওইদিন রাতে বিলকিসের সিজার অপারেশন করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সিজার অপারেশনের সময় চিকিৎসক রাজিয়া সুলতানার ভুল অপারেশনে নবজাতকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগায় রক্তক্ষরনের একপর্যায়ে জন্মের পরপরই শিশুটি মারা যায়। সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রতারক চিকিৎসক রাজিয়া সুলতানা ও এ্যাপোলো ক্লিনিকের
মালিক আমিন নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রেখে তাকে শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেয়।
একপর্যায়ে এ্যাম্বুলেন্সযোগে শিশুটিকে শেবাচিমে নেয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, সিজার অপারেশনের সময় প্রচুর আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় শিশুটি জন্মের পর পরই মারা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রোগীর স্বজনরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওইদিন রাতেই এ্যাপোলো ক্লিনিকে হামলা
চালিয়ে ভাংচুর করে চিকিৎসককে লাঞ্চিত করে। একপর্যায়ে চিকিৎসক রাজিয়া সুলতানা ও ক্লিনিক মালিক আমিন পালিয়ে নিজেদের রক্ষা করেন।
সূত্রমতে, বিষয়টি ধামাচাঁপা দেয়ার জন্য স্থানীয় কয়েকজন ইউপি সদস্যর নেতৃত্বে বুধবার মধ্যরাতে নবজাতকের স্বজনদের নিয়ে সমাধান
বৈঠকে বসা হয়। ওই বৈঠকে মৃত্যু নবজাতকের জীবনের মূল্য নির্ধারন করা হয় ৬০ হাজার টাকা। ক্লিনিক মালিক আমিন ও চিকিৎসক রাজিয়া ওই টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাঁপা দিয়েছেন। অপরদিকে গৌরনদীর বেজগাতি এলাকার প্রাইভেট সুইচ হাসপাতালে ওই চিকিৎসকের (রাজিয়া সুলতানা) ভুল চিকিৎসায় আরেক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার বিকেলে বরিশাল অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেড আদালতে মামলা দায়ের করেছে মৃত নবজাতকের পিতা মাসুম হাওলাদার (মামলা নং সিআর ২৮৩/১৬)। মামলায় চিকিৎসক রাজিয়া সুলতানা, সুইচ হাসপালের চেয়ারম্যান আজাদ আকন, তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও হাসপাতালের টেকনোলজিষ্ট রুপা বেগম, কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আকনকে আসামি করা হয়েছে।

আদালতের বিচারক মোঃ শিহাবুল ইসলাম মামলাটি আমলে নিয়ে ডেপুটি সিভিল সার্জনকে তদন্ত পূর্বক আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।