চলচ্চিত্র পরিচালক খান আতাউর রহমান

t

খান আতাউর রহমান

খান আতাউর রহমান গায়ক, গীতিকার, সুরকার, অভিনেতা ও চলচ্চিত্র পরিচালক। ১৯২৮ সালের ১১ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানার রামকান্তপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। স্থানীয় দুটি স্কুলে পড়াশোনার পর তিনি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হলেও ভালো না লাগায় ছেড়ে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তবে বিএসসি পরীক্ষা না দিয়েই করাচি রেডিওতে চাকরি নেন। এ সময় ওস্তাদ জহুরী খানের সংস্পর্শে এসে তিনি উচ্চাঙ্গসংগীতে তালিম নেন। ১৯৫২ সালে চাকরি ছেড়ে তিনি লন্ডন চলে যান এবং সিটি লিটারারি ইনস্টিটিউটের নাট্যকলা বিভাগে ভর্তি হন। পরে ইউনেসকোর বৃত্তি নিয়ে ১৯৫৪ সালে হল্যান্ড গেলেও কিছুদিন পর লন্ডনে ফিরে আসেন এবং কলেজে শিক্ষকতা করেন। সেই সঙ্গে তিনি একাধিক থিয়েটার প্রতিষ্ঠানেও কাজ করেন। ১৯৫৬ সালে খান আতা ঢাকায় ফিরে আসেন। ওই বছরই ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ ছবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভারতের বিখ্যাত অভিনেত্রী তৃপ্তি মিত্রের বিপরীতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। খান আতা প্রায় ৫০০ আধুনিক, দেশাত্মবোধক, শিশুতোষ গান লিখেছেন ও সুর দিয়েছেন। তাঁর গান আজও জনপ্রিয় ও আবেদনগ্রাহী।

তাঁর নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘অনেক দিনের চেনা’ (১৯৬৩)। এ ছাড়া তিনি ‘রাজা সন্ন্যাসী’, ‘সিরাজউদ্দৌলা’, ‘সোয়ে নদীয়া জাগে পানি’, ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘অরুণ বরুণ কিরণমালা’, ‘জোয়ার ভাটা’, ‘আবার তোরা মানুষ হ’, ‘সুজন সখী’, ‘দিন যায় কথা থাকে’, ‘আরশীনগর’, ‘পরশ পাথর’, ‘এখনো অনেক রাত’সহ বহু পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ‘ডানপিটে ছেলে’, ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’, ‘গঙ্গা আমার গঙ্গা’, ‘বাংলার কবি জসীমউদ্দীন’, ‘গানের পাখি আব্বাসউদ্দিন’ ইত্যাদি স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র তাঁর নির্মিত। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য তিনি পাকিস্তান চলচ্চিত্র উৎসব পুরস্কার, নিগার পুরস্কার, মস্কো ও তাসখন্দ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব পুরস্কার, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ১৯৯৭ সালের ১ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]