প্লাস্টিকের বোতল থেকে জুতো !

3d-knitted-shoes

নিউজ ডেস্ক : আজ যে জুতোজোড়া পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সুন্দরী মহিলাটি, দু’সপ্তাহ আগে সেই জুতো জোড়া নাকি ছিল প্লাস্টিকের পানির বোতল। শুনতে অবাক লাগলেও সাল ফ্রান্সিসকোর এক সংস্থা এই অবাক করা কাজই করছে। পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল থেকে বানাচ্ছে জুতো।

পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল থেকে জুতো তৈরি করছে সান ফ্রান্সিসকোর একটি সংস্থা রোথিজ়। এখানে জুতো তৈরির জন্য ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতলগুলোকে পুনর্ব্যবহার করতে ফিলামেন্ট ফাইবারে রূপান্তরিত করা হয়। এরপর সেটিকে ফ্যাক্টরিতে পাঠানো হয়। সেখানেই প্লাস্টিক বোতল থকে তৈরি করা হয় জুতো।

সান ফ্রান্সিসকোর সংস্থা রোথিজ় বাজারে যা জুতো পাওয়া যায় তার থেকে আরও ভালো মানের জুতো তৈরি করতে চেয়েছিল। পাশাপাশি তাদের চিন্তা ছিল কীভাবে জুতোকে আরও বেশি টেকসই করা যায়। এসব চিন্তাকে বাস্তবায়িত করতেই মাথায় আসে ফেলে দেওয়া জিনিস থেকে জুতো তৈরি করার কথা।

3d-knitted-shoes0সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রোথ মার্টিন বলেন, প্রচুর পরিমাণে বর্জ্যপদার্থ মাটির নিচে চলে যাচ্ছে। সেই বর্জ্যরে একটা অংশ দিয়েই তৈরি হয় আমাদের জুতো। আমরা যে জিনিসটা বানাই তার একটা অংশ তৈরি করতে যে পরিমাণ থ্রি ডায়মেনশানাল সামগ্রী প্রযোজন আমরা Knit 3D পদ্ধাতিতে সেগুলো জড়ো করি। এই পদ্ধতিতে সময় লাগে মাত্র ছ’মিনিট। প্রিন্ট করতে একটা ইংকজেক্ট প্রিন্টার যেভাবে কাজ করে এখানেও কাজটা সেভাবে হয়।

বর্তমানে Nike-এর ফ্লাইনিট জুতোগুলো যে পদ্ধতিতে তৈরি হয়, রোথিজ়ের জুতোগুলোও একই পদ্ধতিতে তৈরি হয়। যদিও রোথিজ় যখন এই পদ্ধতিতে কাজ শুরু করে তখন Nike -এর ফ্লাইনিট জুতো বাজারে আসেনি।

Nike-এর এই জুতোগুলো 2D-তে knit হয়। কিন্তু রোথিজ়ের জুতোগুলো knit হয় 3D’তে। এতে বর্জ্য পরিমাণ আরও কমে যায় এবং কোনও রিবেটস, বাকলস, বা ফিতের মতো বাড়তি জিনিস ছাড়াই জুতো পায়ে ফিট হয়ে যায়।

এই জুতোগুলো তৈরি করতে তিন ধরনের জিনিস ব্যবহার হয়। জুতোর উপরের অংশ তৈরি হয় পুনর্ব্যবহার করা যায় এমন প্লাস্টিক বোতলের ফিলামেন্ট দিয়ে। ভেতরের শোল তৈরি করা হয় রিসাইকেলেবল ফোম দিয়ে এবং বাইরের শোল তৈরি করতে ব্যবহার করা হয় রবার।

সংস্থার বক্তব্য, “জুতো তৈরির ক্ষেত্রে একটা বিশাল পরিমাণ বাড়তি উৎপাদন হয়। কারণ কোনও মাপ আর কোন স্টাইলের জুতোর চাহিদা বেশি হবে তা আগে থেকে আন্দাজ করা খুব কঠিন। এই জুতোগুলোয় কোনও ইলাস্টিক ব্যবহার করা হয় না এবং জুতোয় কাপড় বা চামড়া জুড়ে সেলাই করা থাকে না ফলে এগুলো আরও আরামদায়ক হয়। এই জুতোগুলোয় পায়ের নিচে এক রকমের মেটেরিয়ালই থাকে। Knit পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে জুতোগুলো খুব ভালোভাবে পায়ের আকার ধরে রাখে। ”

ডিজ়াইনাররা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই জুতোর সাপ্লাই চেন তৈরি করার জন্য আট মাস ধরে চেষ্টা চালাচ্ছিল। যদিও সেটা খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি। এখন তাদের নজরে রয়েছে চীনের কারখানার সোলার প্যানেল বসানো এবং তাদের জুতোর টেকসই ক্ষমতা আরও বাড়ানো। শুধু টেকসই নয়, তার পাশাপাশি নিত্যনতুন জুতো বাজারে আনার উপরও জোর দিচ্ছে ওই সংস্থা। (টুডেসংবাদ/এআরএ)