জোরপুর্বক মেয়ের বাল্য বিয়ে দেয়ায় বাবার ১৫ দিনের সাজা

27-23

মহিনুল ইসলাম সুজন,জেলা ক্রাইমরিপোর্টার নীলফামারীঃ-নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক ৭ম শ্রেণীর পড়ুয়া নাবালিকা মেয়েকে জোরপূর্বক বাল্যবিয়ের দেওয়ার অপরাধে নাবালিকা মেয়েটির বাবা নবিউল ইসলাম কালাকে (৫০)কে ভ্রাম্যমান আদালতে ১৫ দিনে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। বুধবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী এই দন্ডাদেশ দেন। রায়ের পর পুলিশ তাকে নীলফামারী কারাগারে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলার ১ নম্বর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের নিজবাড়ী আলোকদিপাড়া গ্রামের মুরগী ব্যবসায়ী নবিউল ইসলাম কালার নাবালিকা মেয়ে নুরুন্নাহার (১৩)। সে একই ইউনিয়নের আইসঢাল খিয়ারপাড়া আলিম এন্ড ভোকেশনাল মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী। গত বুধবার (২৩ নভেম্বর) রাতে পার্শ্ববর্তী রংপুরের তারাগঞ্জের রাজমিস্ত্রী লুৎফর রহমানের সাথে তাঁর বিয়ে ঠিক করা হয়। তাঁর বাল্য বিয়ের আয়োজনের কথা জানতে পেরে ওই ছাত্রী তাৎক্ষণিক বিষয়টি মাদ্রাসার সুপারকে জানায়। মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আফজাল বিন নাজির তাৎক্ষনিক ঘটনাটি সৈয়দপুর উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেন। পরে নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লোকমান ওই বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেন। কিন্তু ওই দিন গভীর রাতে ৭ম শ্রেণীতে পড়ুয়া ওই মেয়েকে পাশের তারাগঞ্জ উপজেলায় এক নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক বাল্যবিয়ে দেয় তাঁর বাবা। পরদিন গতকাল ২৪ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) ওই মাদ্রাসা ছাত্রী মাদ্রাসায় এসে প্রথমে ঘটনাটি শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পরে তাঁর সহপাঠীদের বাল্যবিয়ে দেয়ার ঘটনাটি খুলে বলে। পরবর্তীতে ওই বাল্যবিয়ের ঘটনার প্রতিবাদে বাল্য শিকার হওয়া ছাত্রীসহ তাঁর  মাদরাসার সহপাঠীরাসহ ওই দিনই ( বৃহস্পতিবার) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঘেরাও করে মানববন্ধন ও তার বরাবরে স্মারকলিপি দেয়। এ সময় ওই মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকাগনও উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় নির্বাহী কর্মকর্তা- আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী ওই ছাত্রীর বাবাকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শান্তির আশ্বাস দিলে  মাদ্রাসার বিক্ষুব্ধ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ফিরে যায়।
এদিকে, ওই ঘটনার পর থেকে ওই ছাত্রী মাদ্রাসার সুপারের আশ্রয়ে রয়েছে। আর এরপর থেকে ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক বাল্যবিয়ে দেয়ায় অভিযুক্ত বাবা মুরগি ব্যবসায়ী নবিউল ইসলাম কালা গাঢাকা দিয়ে আত্নগোপনে ছিলেন।
বুধবার সে তাঁর বাড়ির পাশের (চিকলীবাজারে) ঘোরাঘুরি করছিলেন।এমনটা খবরের ভিত্তিতে সৈয়দপুর থানা পুলিশ দ্রুত সেখানে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে তাকে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হলে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক অপ্রাপ্তবয়স্ক  মেয়েকে  জোরপূর্বক বাল্য বিয়ের দেওয়ার দায়ে পিতা নবিউল ইসলাম কালাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।