রাবি শিক্ষক সাময়িক বহিষ্কার

1472451822

রাবি প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আক্তার জাহান জলির আত্মহত্যার ঘটনায় সহকর্মী আতিকুর রহমান রাজাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া আরেক শিক্ষক জলির সাবেক স্বামী তানভীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মিজানউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৪৬৯তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের একজন সদস্য জানান, রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আক্তার জাহান জলির আত্মহত্যার প্ররোচনায় দায়ের করা মামলায় তার সহকর্মী আতিকুর রহমান রাজাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনানুযায়ী কোন শিক্ষক গ্রেফতার হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। নিয়মানুসারে আতিকুর রহমান রাজাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সিন্ডিকেট।

তিনি আরো জানান, জলির সাবেক স্বামী তানভীর আহমেদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

যৌন হয়রানি ও নিপীরন নিরোধ অভিযোগ কমিটির নীতিমালাতে এই অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা না যাওয়ায় শিক্ষকতার নীতি নৈতিকতার জায়গায় তানভীরের কার্যকলাপ তদন্তে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত যৌন হয়রানি ও নিপীরন নিরোধ অভিযোগ কমিটির অভিযোগের সুনির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা রয়েছে। এর বাইরের বিষয় এই কমিটির আওতায় আসবে না। তাই তানভীর আহমেদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্তে পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলামকে প্রধান এবং সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিমা জোহরা হাবিব ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মহা: নাসিম রেজাকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদেরকে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ করা হয়েছে।

এছাড়া সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা হলের নামের আগে ‘শেখ’ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখন থেকে হলের সব দাপ্তরিক যাবতীয় কাগজপত্র থেকে হলের নেমপ্লেটে ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা হল’ ব্যবহার করা হবে।

গত ৪ নভেম্বর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির আত্মহত্যার ঘটনায় তার সহকর্মী আতিকুর রহমানকে প্ররোচনার দায়ে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৫ নভেম্বর বিকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে নিজ কক্ষ থেকে আকতার জাহানের (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই কক্ষ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়। সুইসাইড নোটে কাউকে দায়ী না করলেও শারীরিক ও মানসিক চাপের কথা উল্লেখ করেন। এর পরদিন আকতার জাহানের ভাই কামরুল হাসান বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।