জার্মান নির্বাচনেও যুক্তরাষ্ট্রের মতো আশঙ্কা!

germany

নিউজ ডেস্ক : মার্কিন নির্বাচনে সোশ্যাল বটস থেকে পাঠানো ‘ফেক নিউজ’ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জিততে সাহায্য করেছে বলে শোনা গেছে। আগামী বছর জার্মান নির্বাচনেও তা ঘটতে পারে বলে চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলও আশঙ্কা করছেন।

ম্যার্কেল তার খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দলের কার্যনির্বাহী পরিষদকে এই বিপদ সম্পর্কে অবহিত করার জন্য একজন ডাটা ও সফ্টওয়্যার বিশেষজ্ঞকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

প্রফেসর জিমন হেগেলিশ মিউনিখের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে পলিটিক্যাল ডাটা সায়েন্স বিষয়ের অধ্যাপক। সিডিইউ দলের নির্বাহী কমিটিকে তিনি সোশ্যাল বটস ও তার ব্যবহার সম্পর্কে জানাবেন।

এই নতুন ধরনের সফ্টওয়্যার সবে দেখা দিতে শুরু করেছে। ‘সোশ্যাল বট’ মানে সোস্যাল রোবট, যারা মানুষের আচরণ অনুকরণ করে সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলোতে মেসেজ দিতে বা অন্যের পোস্ট লাইক করতে পারে। সোশ্যাল বটস ব্যবহার করে ভুল খবর ছড়ানো যায় বা রাজনৈতিক বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা যায়।

জিমন হেগেনিশের বক্তব্য হলো, এই নতুন প্রযুক্তি প্রথাগত জার্মান রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধেও প্রয়োগ করা সম্ভব। এবং তার বক্তব্য হলো, খবর, তা ঠিক হোক বা ভুল, তা মানুষের মত বদলানোর ক্ষমতা রাখে।

এ বিষয়ে হেগেলিশ জার্মান জেডডিএফ টেলিভিশনকে বলেছেন, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর ‘সোশ্যাল বট’দের প্রভাব এখনও পুরোপুরি গবেষণা করে দেখা হয়নি।

জার্মান রাজনৈতিক মহল, বিশেষ করে একাধিক মন্ত্রীর দুশ্চিন্তা হলো এই যে, পপুলিস্ট বা লোক-খেপানো এএফডি দল সোশ্যাল বটসের ব্যবহার থেকে লাভবান হতে পারে- যদি এএফডি দল তা সরাসরি ব্যবহার না-ও করে।

কিছু বিশেষজ্ঞের আবার বিশ্বাস যে, জার্মানির বাইরে থেকে ম্যার্কেল ও তার মিত্রদের দুর্বল করার চেষ্টা চলতে পারে। মার্কিন ও জার্মান গুপ্তচর সংস্থাগুলি উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের সম্ভাব্য প্রচেষ্টার কথা বলেছে। অপরদিকে সব জার্মান রাজনৈতিক দল প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তারা নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার জন্য সোশ্যাল বট ব্যবহার করবে না।

গত রোববার ম্যার্কেল ঘোষণা করেন যে, তিনি চ্যান্সেলর হিসেবে একটি চতুর্থ কর্মকালের জন্য দাঁড়াচ্ছেন। এর তিন দিন পরে সংসদে প্রদত্ত একটি ভাষণে তিনি ফেক নিউজ, বটস, ট্রলস প্রভৃতি কিভাবে জনমত প্রভাবিত করে, সে বিষয়ে বিতর্কের দাবি জানান। ‘‘আমাদের এই ব্যাপারটার মোকাবিলা করতে হবে; প্রয়োজনে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে,” বলেন ম্যার্কেল। এই প্রসঙ্গে ম্যার্কেল সোশ্যাল নেটওয়ার্কগুলির জন্য একটি নীতিমালা বা আচরণবিধির কথা বলেন। (টুডেসংবাদ/এআরএ)