সাংসদ সানজিদার বাধায় উচ্ছেদ অভিযান পণ্ড

uu

নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর জুরাইন এলাকায় রেলওয়ের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পণ্ড হয়ে গেছে সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ সানজিদা খানমের বাধায়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, জুরাইন রেলগেট এলাকায় আজ মঙ্গলবার সকালে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। রাস্তার দুই ধারের ১০-১৫টি সেমিপাকা স্থাপনা ও শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়। বেলা একটার দিকে টিপটপ হোটেল উচ্ছেদ করতে গেলে সাংসদ হোটেলের মালিক-কর্মচারীদের নিয়ে বুলডোজারের সামনে দাঁড়ান। একপর্যায়ে তিনি হোটেলের সামনে চেয়ার পেতে বসেন। এ অবস্থায় বিকেল চারটা পর্যন্ত অপেক্ষার পর অভিযান স্থগিত করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযান পণ্ড হওয়ার কথা স্বীকার করে রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা ওখানে উচ্ছেদের কাজ শুরু করেছি। একপর্যায়ে মাননীয় সংসদ সদস্য সানজিদা খানম এসে বাধা দেন। তিনি প্রায় বিকেল চারটা পর্যন্ত বুলডোজারের সামনে অবস্থান নেন।’

জানতে চাইলে সানজিদা খানম রাতে বলেন, ‘আমি রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সেখানে গেছি। আমার কথা হচ্ছে, যদি উচ্ছেদ অভিযান করতে হয়, তাহলে গেন্ডারিয়া থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত পুরো এলাকায় করুক। আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু সব বাদ দিয়ে মাঝখান দিয়ে কেন করবে?’

জানা গেছে, জুরাইন এলাকায় এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির (জাপা) মধ্যে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয়েছে। এক পক্ষে আছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের সাংসদ সানজিদা খানম। আরেক পক্ষে আছেন শ্যামপুর-কদমতলী আসনের জাপার সাংসদ সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। তাঁর সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশও যুক্ত হয়েছে। উচ্ছেদ নিয়ে সেখানে দুই পক্ষ মিছিলও করেছে।
ওই সূত্র জানায়, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে এলাকার কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাংসদ আবু হোসেন ও সানজিদার মধ্যে বিরোধ চলছে।

জানতে চাইলে সানজিদা খানম রাতে বলেন, ‘এটা (উচ্ছেদ) রেলের বিষয় নয়। কিছু অসৎ কর্মকর্তাকে হাত করে জাতীয় পার্টির এমপি বাবলা এটি করাচ্ছেন। যাঁরা বাবলাকে চাঁদা দেন না, সেসব দোকান উচ্ছেদ করা হচ্ছে।’

সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেছেন, এই পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডবল রেললাইন হবে। এটা প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্প। আর উচ্ছেদ অভিযান রেলওয়ের। এখন প্রশ্ন উঠছে, কত কিছুর বিনিময়ে সানজিদা টিপটপ হোটেল রক্ষা করতে বুলডোজারের সামনে দাঁড়িয়েছেন।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথে আরেকটি লাইন হবে। এ ছাড়া গেন্ডারিয়া থেকে পদ্মা সেতুর সঙ্গে রেল সংযোগ তৈরি করা হবে। দুটি প্রকল্পের জন্য রেলওয়ে রাস্তার দুই পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করেছে।

রেলওয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম বলেন, ‘আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শতাধিক সদস্য ছিলেন। কিন্তু আমরা শক্তি প্রয়োগে যাইনি। আমরা আবার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করব। সামনে কেউ যদি বাধার সৃষ্টি করেন, তাহলে শক্তি প্রয়োগ করা ছাড়া উপায় থাকবে না।’

(টুডে সংবাদ/উদয়া)

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে www.todaysangbad.com ভিজিট করুন, লাইক দিন এবং  শেয়ার করুন