উচ্চ কার্যক্ষমতা অর্জনের জন্য মস্তিষ্ককে প্রশিক্ষণ দেবেন যেভাবে

137

লাইফস্টাইল ডেস্ক : গত দুই দশক ধরে গেরহার্ড গেসওয়ান্ডটনার সফল ব্যক্তিদের চিন্তার কাঠামো নিয়ে এবং কীভাবে তাদের অনুকৃতি করা যায় তা নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছেন।
এই প্রক্রিয়ায় তিনি একটি বিস্ময়কর এবং বেশ দরকারি একটি মডেল সৃষ্টি করেন যে কীভাবে বিশ্বাস (বা মনোভঙ্গি/মনোভাব) চুড়ান্তবিচারে আমাদের কর্মতৎপরতা নির্ধারণ করে। তিনি দেখিয়েছেন, মস্তিষ্ক তিনটি স্তরে বিভক্ত হয়ে একটি পিরামিডের মতো করে কাজ করে:
১. রোপিত বিশ্বাস বা মনোভাব
এগুলো হলো সেসব বিশ্বাস যেগুলো আপনি আপনার নিজস্ব সংস্কৃতি, বাবা-মা বা তত্বাবধায়কের কাছ থেকে আত্মস্থ করেছেন। এসব বিশ্বাসের কিছু কিছু হয়তো বেশ দরকারি এবং আলোকিতও হতে পারে। তবে কিছু কিছু আবার ক্ষতিকরও হতে পারে এবং আপনাকে পিছু টেনে ধরতে পারে।
গেরহার্ড গেসওয়ান্ডটনার এর মতে এখানে চ্যালেঞ্জটি হলো, “আগাছায় পানি না ঢেলে বরং ফুলগাছে পানি ঢালা”। এই বিশ্বাসগুলো ধারণ করা বা প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে একটি সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
উদাহরণত, আমার মরহুম বাবা মনে করতেন আমি যে কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হব যদি আমি এত ঠিকমতো মনোযোগ ঢেলে দিই। তিনি তার প্রজন্মের আরো অনেকের মতোই পুরোদস্তুর একজন বর্ণবাদি লোকে ছিলেন। আমি তার পজিটিভজম বা দৃষ্টবাদ (প্রত্যক্ষবাদ) গ্রহণ করেছি কিন্তু তার বর্ণবাদ প্রত্যাখ্যান করেছি।
২. অঙ্কিত বা মুদ্রিত (ছাপ মারা) বিশ্বাস বা মনোভাব
ওপরে বর্ণিত বিশ্বাসগুলোর শীর্ষে বসে আছে অঙ্কিত বা মুদ্রিত (ছাপ মারা) বিশ্বাসগুলো। এগুলোর সৃষ্টি হয়েছে যখন আপনি মহান কোনো শিক্ষক, পৃষ্ঠপোষক বা প্রশিক্ষক দ্বারা প্রভাবিত বা অভিভুত হয়েছেন।
এই ধরনের অভিজ্ঞতা আক্ষরিক অর্থেই আপনার জীবনকে বদলে দিতে পারে। এমন অনেক লোকের সঙ্গেই আমার সাক্ষাত হয়েছে যারা কোনো একটি বই পড়া বা বক্তৃতা শোনা অথবা শুধু একটি কথপোকথনের ফলে তাদের চিন্তার প্রক্রিয়া বদলে যাওয়ার মুহূর্তটুকু সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন।
উদাহরণত, টনি রবিনস আমাকে শিখিয়েছেন অন্যান্য জিনিসের পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক, লিখিত লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সাফল্য অর্জনের জরুরি।
৩. অনুপ্রাণিত বিশ্বাস বা মনোভাব
মস্তিষ্কের কর্মপ্রক্রিয়ার পিরামিডের তৃতীয় এবং সর্বোচ্চ স্তরটি হলো অনুপ্রাণিত বিশ্বাসসমূহ বা মনোভাব। যা আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড বা পটভুমি এবং মহান শিক্ষক, পৃষ্ঠপোষক ও কোচের কাছ থেকে যা কিছু শিখেছেন তার সবকিছুকেই ছাড়িয়ে যায়।
গেরহার্ড গেসওয়ান্ডটনার এর ভাষায়: “আমাদের সকলের মনের গভীরেই এমন বিশেষ কিছু একটা আছে যাকে আমরা “ভেতরগত যাদু” নাম ডাকতে পারি বা এটি এমন এক প্রতিভা যা বের হয়ে আসতে চায়, বা এমন এক স্বপ্ন যা আমাদেরকে নিজেদের জীবনের নতুন কোনো দিগন্ত উম্মোচনের আহবান জানায়।
এখানে চ্যালেঞ্জটি হলো এই অনু্প্রাণিত বিশ্বাসগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনা বা লক্ষ্য করা যাতে আপনি আপনার জীবনটাকে আরো অর্থপূর্ণ করতে পারেন। এই অনুপ্রাণিত বিশ্বাসগুলোই হলো তা যা সফল লোকদেরকে একটি “দ্বিতীয় কর্মতৎপরতা” সৃষ্টিতে পরিচালিত করে। যেখানে তারা একটি বৃহত্তর কল্যাণের সেবায় নিয়োজিত থাকে।

আপনার কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তুলুন
মানব মস্তিষ্কের একটি বিস্ময়কর বৈশিষ্ট হলো আপনি এটিকে কোনো প্রশ্ন করলে এটি আপনাকে কোনো না কোনো উত্তর দেবে।
ওই নীতির ওপর ভিত্তি করে এখানে একটি “ওয়ার্কশীট” দেওয়া হলো যেটি সম্পন্ন করার মাধ্যমে আপনি আপনার মনের ওই তিনিটি স্তরে আলোকপাত করতে এবং পরিচালনা করতে পারবেন যাতে আপনি আরো উচ্চ স্তরে কর্মক্ষম হতে পারেন:
রোপিত বিশ্বাস বা মনোভাবের জন্য:
১. শিশুকাল থেকে আমার কোনো বিশ্বাসটি আমার জন্য সবচেয়ে বেশি দরকারি বলে প্রমাণিত হয়েছে?
২. শিশুকাল থেকে আমার কোনো বিশ্বাসটি আমাকে সবচেয়ে বেশি পেছনে টেনে ধরেছে?
৩. আমার দরকারি বিশ্বাসগুলো পুনর্নবায়ন এবং শক্তিশালি করার জন্য এখন আমি কী করতে পারি?
৪. ক্রিয়াহীন বা অকার্যকর হয়ে পড়া বিশ্বাসগুলো মুছে ফেলা এবং অপসারণ করার জন্য আমি এখন কী করতে পারি?
অঙ্কিত বা মুদ্রিত বিশ্বাস ও মনোভাবের জন্য:
১. কোন তিনটি বই আমাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে?
২. কোন তিনটি অভিজ্ঞতা আমাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে?
৩. আমি যেসব বিশ্বাস অর্জন করেছি সেসব শক্তিশালি করার জন্য আমি এখন কী করতে পারি?
৪. আমার বর্তমান লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের প্রেক্ষিতে আমাকে উন্নতি লাভের ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারবেন কোন তিনজন পৃষ্ঠপোষক (লেখক, বিশেষজ্ঞ, পরামর্শক)।
অনুপ্রাণিত বিশ্বাস বা মনোভাবের জন্য:
১. আমি যদি কিছু করতাম এবং জানতাম যে আমি ব্যর্থ হতে পারিনা, তাহলে সেটা হত…………?
২. সেই অনুপ্রেরণার পিছু তাড়া করা থেকে কীসে আমাকে পেছনে টেনে ধরে রেখেছে?
৩. আমার জীবনের কোনা অংশ আমাকে সেই অনুপ্রেরণার দিকে পারিচালিত করছে?
৪. সেই অনুপ্রেরণার দিকে মোড় ঘোরানোর ক্ষেত্রে আমার পরিকল্পনা কী?

(টুডে সংবাদ/মেহেদী)

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে www.todaysangbad.com