এবার স্মার্ট প্রযুক্তি পোচার ধরছে আফ্রিকা

125

বিজ্ঞান প্রযুক্তি ডেস্ক : আফ্রিকার উত্তরাংশে পোচারদের অত্যাচার সব সময়ই ছিল। এদের কোনো অবস্থানেই থামানো যাচ্ছিল না। এদের উৎপাতে প্রাণী জগতের অস্তিত্বই যেন হুমকির মুখে পড়ে গেছে। অবশেষে এদের ধরতে প্রযুক্তির সহায়তা নিতে শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড (ডাব্লিউডাব্লিউএফ) স্পর্শতাকর প্রযুক্তির ব্যবহারে রাতে আঁধারে পশু নিধনে ব্যস্ত পোচারদের ধরছে।

থার্মাল ইমাজিং ক্যামেরা এবং হিউম্যান ডিটেকশন সফটওয়্যার ব্যবহারের পর গত নয় মাসে দুই ডজন পোচারকে ধরা সম্ভব হয়েছে। এদের সবাইকে কেনিয়ার মাসাই মারা ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন থেকে পাকড়াও করা হয়। এসব প্রযুক্তির ব্যবহারে কেনিয়ার ন্যাশনাল পার্ক থেকে ধরা হয় অবৈধ প্রাণী পাচারকারীদের।

ডাব্লিউডাব্লিউএফ গত মার্চে কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের মারা কনজারভেন্সি র‍্যাঞ্জার ইউনিটে থার্মাল ইমাজিং স্পেশালিস্ট এফএলআইআর সিস্টেম ইনস্টল করাক হয়। একদল রেঞ্জারের মোবাইলে তা স্থাপন করা হয়। সঙ্গে দেওয়া হয় হিউম্যান ডিটেক্টর।

ডাব্লিউডাব্লিউএফ ক্রাইম টেকনলজি প্রোজেক্টের প্রধান কলবি লাউকস এক বিবৃতিতে জানান, ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জাররা এমন কোনো সুবিধা পাওয়ার অপেক্ষাতেই ছিলেন। এর মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা ধরে তারা পোচারদের ওপর নজরদারি করতে পারছেন। এমনকি ঘুটঘুটে অন্ধকারেও তারা প্রাণীগুলোকে রক্ষা করতে পারছেন। এক মাইল দূর থেকেও তাদের চিহ্নিত করা যায়।

আফ্রিকার প্রাণীজগতে ওপর দারুণ হুমকি হয়ে রয়েছে পোচিং। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, গণ্ডার নিধন এই মহাদেশে রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ইতিমধ্যে সাভান্নাহ হাতির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে এসেছে অবৈধ আইভরি বাণিজ্যের কারণে।

মাসাই মারা কনজারভেন্সির সিইও এবং পরিচালক ব্রায়ান হিথ জানান, রাতের অন্ধকারে এই প্রাণীদের রক্ষায় দারুণ উপকার করছে এই প্রযুক্তি। রেঞ্জারদের পক্ষে অনেক দূরে কি ঘটছে তার ওপর নজর রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু এখন এ কাজটি অনেক সহজ হয়েছে।

ডাব্লিউডাব্লিউএফ এবং এফএলআইআর সিস্টেমস এখন থার্মাল ইমাজিং বড় পরিসরে ব্যবহারের কথা চিন্তা করছে। আফ্রিকার পার্কগুলোতেও এদের ব্যবহার ঘটাতে চাইছে। পাশাপাশি ড্রোন নির্মাতা ইউডিএস এবং লিন্ডবার্গ ফাউন্ডেশন এয়ার শেফার্ড ড্রোনে থার্মাল ইমাজিং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আকাশ থেকেও পোচারদের ওপর নজর রাখতে চাইছে। এ ব্যবস্থা গত মাস থেকে মালাউয়ি এবং জিম্বাবুয়েতে শুরু হয়েছে।

এই প্রযুক্তি আফ্রিকা এবং এশিয়ার ২০টি প্রাণী সংরক্ষণ অঞ্চলে স্থাপন করা হবে বলে জানায় ডাব্লিউডাব্লিউএফ। ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম টেকনলজি প্রোজেক্টকে এগিয়ে নিতে গুগল ৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে।

(টুডে সংবাদ/মেহেদী)

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে www.todaysangbad.com