নরসিংদীতে আইসক্রীম ফ্যক্টরীর শ্রমিক হত্যামামলায় ৬ জনের ফাসির রায়

coart_order

এম লুৎফর রহমান, নরসিংদী প্রতিনিধি : মোঃ আইয়ূব(২৪) নামে আইসক্রীম ফ্যক্টরীর এক শ্রমিককে হত্যা করে লাশ গুম করার দায়ে  ৬ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের রায় প্রদান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নরসিংদীর অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শাহিন উদ্দিন এক জনাকীর্ন আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হচ্ছে সুজন ওরফে বাঘা সুজন ওরফে টাইগার, পিতা- লাল উদ্দিন মোল্লা, সাং- রামনাথপুর দক্ষিণ পাড়া, উপজেলা- গৌরিপুর, জেলা- ময়মনসিংহ। সোহাগ ওরফে সোহাগ চন্দ্র দাস, পিতা- শীতল চন্দ্র দাস, সাং- পঞ্চিম কান্দাপাড়া। সাদ্দাম পিতা- আবদুর রাজ্জাক, সাং- বৌয়াকুর। সমীর ওরফে সমীর চন্দ্র দাস, পিতা- সুধীর চন্দ্র দাস, সাং- বৌয়াকুর। এরশাদ পিতামৃত- সাদেক মিয়া, সাং- আরশীনগর। বিমল পিতা-কালা চান, সাং- বৌয়াকুর সর্ব থানা ও জেলা নরসিংদী। আসামীরা সকলেই পলাতক রয়েছে। মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে প্রকাশ, নরসিংদীর বৌয়াকুর মহল্লার আবদুল হেকিমের ছেলে মোঃ আইয়ূব শহরের মুসলেহ উদ্দিন সুপার মার্কেটস্থ কবীর মিয়ার আইসক্রীম ফ্যক্টরীতে শ্রমিকের কাজ করত। এ ফ্যক্টরীতে সুজন নামে এক যুবকও কাজ করত। মালিকের কথামত কাজ না করায় সুজনকে চাকরী থেকে বরখাস্ত করেন। তার স্থলে মোঃ আইয়ূবকে নিয়োগ দেয়া হয়। গত ২০০৮ সালের ২৯ আগস্ট দুপুরে সুজনের ফোন পেয়ে মোঃ আইয়ূব ঘর থেকে বের হয়ে যায়। সে ওইদিন রাতে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। তার পরিবারের লোকজন অনেক খোজাখুজি করার পর কোথাও তাকে খুজে পাওয়া যায়নি। নিখোজ হওয়ার দুইদিন পর দুপুর ১২ টার দিকে লোকমুখে শুনতে পান যে, সদর উপজেলার মহিষেরশুড়া ইউনিয়নের দামের ভাওলা এলাকার জয়নাল মোল্লার বাড়ির সামনে মেঘনা নদীতে এক যুবকের মাথাবিহীন লাশ ভাসছে। এ খবর পেয়ে মোঃ আইয়ূবের পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তার জামা ও হাতের আংটি দেখে তার লাশ সনাক্ত করেন। এ ব্যাপারে নিহতের পিতা আবদুল হেকিম বাদী হয়ে সুজন ও সোহাগসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামী করে নরসিংদী সদর থানায় একটি হত্যামামলা দায়ের করেন। পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করলে আসামীরা ১৬৪ ধারায় জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এবং বলে আইয়ূবকে জবাই করে হত্যা করেছে। পরে আসামীরা জামিনে মুক্তি পেয়ে পালিয়ে যায়।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জসীট দাখিল করেন। উক্ত মামলায় ৯ জন সাক্ষীর উপযুক্ত স্বাক্ষ্যপ্রমাণে আসামীগণ দোষী প্রমাণীত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত ৩০২/২০১/৩৪ ধারা মতে আসামীদের বিরুদ্ধে উপরোক্ত রায় প্রদান করেন। রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এপিপি এডভোকেট মোঃ আসাদুজ্জামান।