মেয়েদের জীবনের ‘অসময়ে যৌনতা’ রুখে দেয় যে বিষয়!

108

লাইফস্টাইল ডেস্ক : এক ডাচ গবেষণায় বলা হয়, যে টিনএজ মেয়েরা মায়ের কাছাকাছি বেশি সময় কাটান তাদের জীবনে আরো দেরিতে যৌনতা আসে।

গবেষকরা ২৯৩১ জন ছেলে-মেয়েকে তাদের যৌন জীবন সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের কেমন সময় কাটানো হয়ে সে বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। তাদের ১২ এবং ১৬ বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে কতটা সময় যেত তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

দেখা গেছে, যে মেয়েরা তার টিনএজ বয়সে মায়ের সঙ্গে বেশি সময় কাটিয়েছেন তাদের ৪৪ শতাংশই শিক্ষাজীবনে সেক্স করেননি।

নেদারল্যান্ডসের ইরাসমাস মেডিক্যাল সেন্টারের পাবলিক হেলথ রিসার্চার ড. রাকুয়েল নগুইরা অ্যাভেলার ই সিলভা জানান, মায়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক মেয়েদের জীবনে অনেকটা নিরাপত্তা দেয়। বিশেষ করে তাদের যৌন জীবন নিরাপদ থাকে মায়ের কারণে। তবে ছেলে এবং মেয়েদের জীবনে অসময়ে যৌনতা প্রতিরোধে বাবা তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না।

এর আগে অবশ্য অনেক গবেষণায় বলা হয়েছে, সন্তানের জীবনে অনেক আগে এবং অনিরাপদ যৌনতার অন্যতম কারণ হয় বাবা-মায়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক না থাকা। তবে সন্তানকে রক্ষায় মায়ের ভূমিকা অনবদ্য।

বাবা-মায়ের অভিভাবকত্ব টিনএজারদের কিভাবে প্রভাবিত করে তা বুঝতে গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রশ্নের তালিকা প্রস্তুত করেন। এ প্রশ্নে তাদের জন্য যৌনতার কথাও বলা হয়। এ বয়সে তারা কত বার সেক্স করেছেন তা জবাব চাওয়া হয়েছে।

সবমিলিয়ে ২৩৩ জন টিনএজার বা ৮ শতাংশ জানান, তারা ১২-১৫ বছর বয়সের মধ্য কোনো একপর্যায়ে যৌনতায় জড়িয়ে পড়েন। মেয়েদের সংখ্যা ৭৭ এবং ছেলেদের সংখ্যা ১৫৬ জনে পৌঁছে।

মেয়েদের অনেকেই শিক্ষা গ্রহণকালে যৌনতায় জড়াননি। দেখা গেছে, তাদের জীবনের অনেকটা সময় মায়ের কাছে কাছে কেটেছে। তাদের জীবনে মায়ের প্রভাব অনেক বেশি। কিন্তু যারা এ সময়ের মধ্যে যৌনতায় জড়িয়েছেন, তাদের সঙ্গে বাবা-মায়ের সম্পর্ক মানসম্পন্ন ছিল না।

কম বয়সে যখন অনিরাপদ যৌনতার বিষয়টি আসে, তখন মেয়ের সঙ্গে মায়ের সম্পর্ক অর্থপূর্ণ কিছু প্রদান করে। এতে বোঝা যায়, যৌন জীবন নিয়ে পরিবারে মায়েরাই প্রাথমিক শিক্ষার উৎস হয়ে ওঠেন। তবে এ বিষয়ে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরাই বেশি সহযোগিতা পান।

অবশ্য এ গবেষণা পর্যবেক্ষণমূলক। এতে নিরেটভাবে প্রমাণ হয় না যে, যে মেয়েরা মায়ের কাছাকাছি থাকেন তাদের জীবনে কোনোভাবেই যৌনতা আসে না।

এ গবেষণায় গবেষক দলের সঙ্গে ছিলেন না কানাডার ইউনিভার্সিটি অব নিউ ব্রান্সউইকের গবেষক লুসিয়া ও’সুলিভান। তিনি মায়েদের উদ্দেশে জানান, সন্তানের সঙ্গে যৌনতা নিয়ে একটু খোলামেলা কথা বলে তাকে অনেক সাবধান করে তোলা যায়।

বাবা-মায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলে সন্তানের জীবনে যৌনতা যে অসময়ে চলে আসে না তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে। এর কারণ হতে পারে, তাদের জীবনে মানসিক চাপ, বিষণ্নতা এবং হতাশা অন্যদের চেয়ে কম থাকে।

এ গবেষণায় আরো বেরিয়ে এসেছে যে, এমনকি মায়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকলে পরবর্তিতে সন্তানের যৌন জীবনটাও স্বাস্থ্যকর হয়। এ কথা বলেন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন ইন্ডিয়ানাপলিসের গবেষক ডিভোন হেনসেল।

ডিভোন বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভাবস্থা, যৌনবাহিত রোগ ইত্যাদি ঘটলে যেকোনো বয়সেই যৌনতা ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। তবে এসব বিষয়ে বিশেষ করে মেয়েদের কিশোর বয়স থেকেই শিক্ষা দেওয়াটা অত্যন্ত জরুরি হয়ে ওঠে।

(টুডে সংবাদ/মেহেদী)

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে www.todaysangbad.com