ভয় তাড়াবে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স

109

লাইফস্টাইল ডেস্ক : আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ব্রেইন স্ক্যানিং প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে নতুন এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। এর মাধ্যমে মস্তিষ্ক থেকে কয়েক ধরনের ভীতিকর অনুভূতি দূর করা যায়।

নতুন এ পদ্ধতিতে খুব দ্রুত ভীতিকর স্মৃতিগুলোকে খুঁজে বের করা যায়। এর মাধ্যমে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেট ডিসওর্ডার (পিটিএসডি) এবং ফোবিয়ার চিকিৎসা সম্ভব বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। ইউনিভার্সিটি অব টকিওর নিউরোবিজ্ঞানীরা গড়ে তুলেছেন ‘ডিকোড নিউরোফিডব্যাক’। এর মাধ্যমে মস্তিষ্কে চলমান বিভিন্ন কাজ স্ক্যানিং করা হয়। এর মাধ্যমেই ভয়ের স্মৃতির মতো জটিল অবস্থাগুলো চিহ্নিত করা যায়।

এ গবেষণায় ১৭ জন সুস্থ মানুষকে বেছে নেওয়া হয়। তাদের মস্তিষ্কে নির্দিষ্ট মাত্রার বৈদ্যুতিক তরঙ্গের মাধ্যমে ভয়ের অনুভূতি তৈরি করা হয়। এ সবই ধারণ করা হয় কম্পিউটার স্ক্রিনে।

ব্রেইন স্ক্যানারের মাধ্যমে গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের মানসিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। সেখানে নির্দিষ্ট ধরনের ভয়ের স্মৃতি শনাক্ত করা হয়। এখানে এআই অ্যালগোরিদম ব্যবহারের মাধ্যমে ভয়ের স্মৃতি আরো দ্রুত ও নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এমনকি যখন অংশগ্রহণকারীরা ভয়ের কথা মনে করছেন না বা স্বাভাবিক সময় কাটাচ্ছেন, তখনও তাদের মস্তিষ্কে এই স্মৃতি শনাক্ত করা হয়েছে।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের এই অবস্থা খুব দ্রুত বের করতে পারার কারণে তাদের পুরস্কার হিসাবে কিছু অর্থ দেওয়া হয়। যেন তারা অনুভব করেন যে ভীতি সঙ্গে পুরস্কার জড়িত। তাদের বলা হয় যে, মস্তিষ্কের কার্যক্রমের ওপর তাদের পুরস্কার নির্ভর করবে।

পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে তাদের থেরাপি চলে টানা তিন দিন ধরে। প্রধান গবেষক আই কোইজুমি জানান, অ্যামিগডালা অংশে আমরা দেখার মতো কোনো কার্যক্রম খুঁজে পাইনি। এটাই মস্তিষ্কের ভয়ের কেন্দ্র। অর্থাৎ, ভয়ের তীব্র অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ার আগেই হয়ত এ পদ্ধতিতে স্মৃতিগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

(টুডে সংবাদ/মেহেদী)

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে www.todaysangbad.com