টেপ-টেনিস থেকে যেভাবে ক্রিকেটার হলেন ইমরান খান

60

স্পোর্টস ডেস্ক : পারফর্ম যেমনই করুন না কেন, তাঁর নামটিই দৃষ্টি আকর্ষণ করার পক্ষে যথেষ্ট। তাও আবার যে-সে নাম নয়। চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে বিপিএল খেলতে আসা পাকিস্তানি বাঁহাতি পেসারের নাম যে তাঁর দেশেরই বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কিংবদন্তিতুল্য ইমরান খানের নামে। একই নাম হওয়ায় সব সময় অন্য রকম ভালো লাগাও ছুঁয়ে যায় ইমরান খান জুনিয়রকে, ‘আমার কাছে এই নামটির অর্থই হলো বিশাল কিছু। আমাদের দেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেটারই হলেন ইমরান খান, যিনি কিনা ক্রিকেট খেলেই খ্যাতি কুড়িয়েছেন। আমি সব সময় তাঁকেই অনুসরণ করার চেষ্টা করতাম। এমনকি তাঁর মতো হওয়ার ইচ্ছাও ছিল আমার।’

পাকিস্তানের হয়ে তিনটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলা এ বোলার এখন পর্যন্ত তা হতে না পারলেও তাঁর উত্থানের সঙ্গে অবশ্য ইনজামাম-উল হকেরই বেশ মিল আছে। ১৯৯২-র বিশ্বকাপ দিয়ে হইচই ফেলে দেওয়া আবির্ভাবের আগে আর যা-ই হোক, ইনজামাম বড় কোনো পর্যায়ে খেলেছেন বলে শোনা যায়নি। ইমরান খান জুনিয়রের মুখেও শোনা গেল তাই। ক্রিকেট বলে প্রথম খেলার ঘটনাও তো মাত্র বছর তিনেক আগের, ‘আসলে আমি কখনোই শক্ত বলের খেলোয়াড় ছিলাম না। মাত্র দুই-তিন বছর হলো আমি ক্রিকেট বলে বোলিং করছি। এর আগে ক্রিকেট খেলতাম টেপ-টেনিস বলেই। ওই বলেও বৈচিত্র্য ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতাম। তা দেখেই আমার কোচ আমাকে ক্রিকেট বলেও একটু চেষ্টা করে দেখার পরামর্শ দিয়েছিলেন।’

এমনকি প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার আগেও কিছু বিষয়ে ধারণা ছিল না একদমই, ‘সত্যি কথা বললে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের ম্যাচ প্রস্তুতি কেমন হওয়া চাই, সেটি আমার জানাই ছিল না। এমনকি বোলিং বুট বা স্পাইক বিষয়েও কিছুই জানতাম না আমি। ওই অবস্থায়ই আমি ২০১৪ সালে এক ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় পেশোয়ার প্যান্থারের হয়ে খেলতে নেমে যাই।’ কিছু না জেনে, না বুঝে খেলতে নেমে যাওয়াই ঘুরিয়ে দেয় ইমরান খান জুনিয়রের ভাগ্যের দরজা, ‘করাচিতে ওই টুর্নামেন্টটিই ছিল টি-টোয়েন্টির মূল আসর। প্রথমবার খেলতে নেমেই আমি ওই আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়ে যাই। সম্ভবত সেটিই আমার দরজা খুলে দিয়েছিল।’

এই সুযোগে অবশ্য বলতে ভোলেননি তাঁর কোচের কথাও, ‘পেশোয়ার প্যান্থারে আমার কোচ ছিলেন আব্দুর রেহমান। উনিই আমাকে ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়তা করেছেন। উনিই আমাকে ক্রিকেট নিয়ে পড়ে থাকতে উৎসাহ জুগিয়েছেন। কারণ ওনার মতে আমি ব্যাটসম্যানের মন খুব দ্রুত পড়তে পারি। এর বাইরে আমি চাপও খুব ভালো সামলাতে জানি। ওনার বিচার-বিবেচনায় আমারও আস্থা ছিল।

তাই সব সময় ওনার নির্দেশনা মেনে চলার চেষ্টা করতাম।’ সর্বোচ্চ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলতে এসে ফেলে আসা জীবনও কাজে লাগছে বলে জানালেন এই বাঁহাতি পেসার, ‘টেপ প্যাঁচানো বল আর ক্রিকেট বলে খেলার মধ্যে অনেক পার্থক্য। ক্রিকেট বলে ম্যাচ প্রস্তুতিটাই হয় অন্য রকম। তবে ছোট থেকে টেপ-টেনিস বলে খেলেই বড় হয়েছি। তাই আমার সমস্ত ক্রিকেট জ্ঞানের সঙ্গেই টেপ প্যাঁচানো বলের অতীতটা জড়িয়ে আছে। তাই ক্রিকেট বলে খেলার সময়ও টেপ-টেনিসের চাতুরীটা মিশিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি।’

তাতে সাফল্য মিলেছে বলেই না অল্প সময়ে খুলে গেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দরজাও। এখন তাই স্থাপত্যবিদ্যার ছাত্র ক্রিকেটেই মনোযোগটা দিচ্ছেন বেশি, ‘ইসলামাবাদে স্থাপত্য প্রকৌশলে পড়াশোনা ইতিমধ্যেই শেষ করেছি। তবে এখন পড়াশোনা নিয়ে একটু ধীরেই এগোচ্ছি। কারণ ক্রিকেটেই মনোযোগ দিচ্ছি বেশি। এ জন্যই স্থাপত্য প্রকৌশলে এমএ করতে গিয়ে সময় দিতে পারছি কম। ক্রিকেট যেহেতু আমাকে একটি নিজস্ব পরিচয় দিয়েছেই, তখন এটিতেই সর্বোচ্চ শ্রম ঢেলে দিচ্ছি।’

তবু সবার আগে দৃষ্টি কাড়ে তাঁর নামটিই। নামের মিলটি যে একজন কিংবদন্তির সঙ্গেই!

(টুডে সংবাদ/মেহেদী)

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে www.todaysangbad.com