সাব্বিরকে আঘাত মেনে নেওয়ার নয়

62

স্পোর্টস ডেস্ক : সাব্বির রহমান সাব্বির রহমান হাসিবুল হোসেন শান্তর কথা মনে পড়ছে আজ। এরকমই ঘরোয়া ক্রিকেটের একটা ম্যাচ ছিলো; কলাবাগান বনাম আবাহনী। কথা কাটাকাটির এক অবস্থায় আমাদের তখনকার অবিসংবাদিত সেরা পেসার শান্তর পায়ে ব্যাট দিয়ে প্রবল আঘাত করলেন জহুর এলাহী। এই আঘাত শান্তকে কয়েক মাসের জন্য কেবল মাঠের বাইরেই পাঠায়নি। এটা মানতে হবে যে, ওই আঘাত শান্তর সেরাটা কেড়ে নিয়েছিলো চিরতরে। সে তুলনায় সাব্বির রহমান রুম্মন ভাগ্যবান।

তার হাতে বা পায়ে ওরকম কোনো আঘাত করে মাঠ থেকে ছিটকে দিতে পারেননি মোহাম্মদ শাহাজাদ। কিন্তু যা করেছেন, তা কী ক্রিকেটে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায়?

সাব্বিরের অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি পরিষ্কার করে বলেছেন, ক্রিকেট মাঠে তিনি এমন ঘটনা কল্পনাও করতে পারেন না, সহ্য করা তো দূরে থাক। এমনকি পরিষ্কার বলেছেন, এমন আচরণ তিনি পিএসএলে নিজের দলেরই খেলোয়াড় শাহাজাদের কাছ থেকে মেনে নেবেন না, ‘আমি আমার ক্রিকেটারকে পড়ে থাকতে দেখেছি। নিশ্চয়ই কিছু একটা ঘটেছে। আমার ক্রিকেটারের মিথ্যে বলার কোনো কারণ নেই। ক্রিকেট মাঠে এরকম কিছু প্রত্যাশিত নয়। আমরা ক্রিকেট এভাবে খেলি না, খেলার পরিস্থিতি যেমনই হোক। সাব্বির যা বলছে, সেটা যদি শাহজাদ করে থাকে, তাহলে অবশ্যই এটা ক্রিকেট মাঠে অগ্রহণযোগ্য। আমরা এখনও বন্ধু। একই হোটেলে থাকছি। আমি অবশ্যই ওর সঙ্গে কথা বলব। নেতা হিসেবে আমি বলব যে এটা মেনে নেওয়ার মত নয়। আমার দলে যখন খেলবে, কখনোই এই ধরণের কিছু সে মাঠে করতে পারবে না।’

এখন ড্যারেন স্যামিকে আমরা একজন অভিজ্ঞ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বাস করে, তার কথার ওপর ভরসা রাখতে পারি। তাতে পরিষ্কার বুঝি যে, শাহাজাদ  যা করেছেন, সাব্বিরের সাথে, তা ভয়ানক অন্যায়।

ওকে। একটু নিরপেক্ষ ভাবে ব্যাপারটা দেখার চেষ্টা করা যেতে পারে। প্রথম ইনিংসে সাব্বির যেভাবে ব্যাটিং ক্রিজ ছেড়ে উইকেটরক্ষক শাহাজাদের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন, তা ঠিক হয়নি। পরে অবশ্য যখন দু জনকে আলাদা করা হয়, তখন সাব্বির ঠিকিই একটা হাসি দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে নিতে চেয়েছিলেন।

এরপর শাহাজাদ যেটা পরের ইনিংসে করেছেন, তা নোংরা, অন্যায়, অক্রিকেটীয় এবং অসভ্য আচরণ। ইতিমধ্যে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন শাহাজাদ। যেটাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক কম শাস্তি বলে মনে করি। আপনি স্বেচ্ছায় প্রতিপক্ষ একজন ব্যাটসম্যানকে ব্যাট দিয়ে আঘাত করবেন, সেটা এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার চেয়ে বড় অপরাধ।

তবে দিনশেষে আমার শাহাজাদের ওপর রাগ আছে এক জন বাংলাদেশী হিসেবে, একটু আফসোস আছে বিচার নিয়েও। কিন্তু মহা বিষ্মিত হয়েছি আরফাত সানির কথায়। এখানেই শান্তর চেয়ে দূর্ভাগা সাব্বির।

শান্তকে যখন এলাহী ব্যাট দিয়ে বাড়ি মেরেছিলেন, দুই দলের সকল বাংলাদেশী খেলোয়াড় শান্তর পাশে দাড়িয়েছিলেন। এটুকু একাত্মতা থাকতে হয়। সেখানে আরফাত সানি ম্যাচশেষে বললেন, তিনি ঘটনা দেখেননি। আবার বললেন, সাব্বির অভিনয় করলে তার কিছু করার নেই!

সানি, ঘটনা না দেখলে বুঝলেন কী করে যে, সাব্বির অভিনয় করেছেন? সাব্বিরের চেয়ে আপনার কাছে শাহাজাদের কথা বেশী বিশ্বাসযোগ্য হলো! একজন তো মিথ্যে বলেছেই। আপনি বেনিফিট অব ডাউটটা শাহাজাদকে দিলেন কয়দিনের পরিচয়ে? আপনি সারাটা বছর এই সাব্বিরের সাথে এক দলে খেলেন। সেখানে সাব্বিরের সাথে এই সম্পর্ক হয়েছে আপনার!

আমি বিষ্মিত এবং শোকাহত। বিপিএল একটা দেড় মাসের খেলা, একটা পয়সার খেলা। এই খেলায় শাহাজাদরা যাবে, আসবে। তারা দুই পয়সা পাবে, খেলবে। প্রিয় সানি, আপনার মূল পরিচয় রংপুর রাইডার্স নয়, বাংলাদেশ। আপনি এভাবে প্রকাশ্যে সেই বাংলাদেশ দলে আপনার এক সতীর্থ অভিনয় করেছে বলে বলতে পারেন না।

খুব দুঃখ পেয়েছি, খুব। শেষ অবদি, ড্যারেন স্যামির কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে হয়, আমার ক্রিকেটারের প্রতি আঘাত আমরা মেনে নেবো না।

(টুডে সংবাদ/মেহেদী)

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে www.todaysangbad.com