সুনামগঞ্জে নদীর নাব্যতা সংকট নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

31

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ জেলার সঙ্গে নদীর নাব্যতা সংকটের ফলে ব্যবসা বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতি বছর কোটি কোটি ঘনফুট বালি ও নুড়ি,বেল্ডার ও ভাঙ্গা পাথর সহ বিভিন্ন মালামাল দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো ও আমাদনী করা হয়। কিন্তু নদী গুলোর নাব্যতা সংকটের কারনে অক্টোবর মাস থেকেই ব্যবসা বানিজ্যে ভাটা পরে। এই নদীকে কেন্দ্র করে প্রত্যক্ষ ভাবে ৬০হাজারের বেশি শ্রমিক জড়িত রয়েছে। নদীর নাব্যতা সংকটের কারনে বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদাবাজি করছে সংঘবদ্ধ চক্র ও যেখানে ৩০মিনিটের পথ পাড়ি দিতে হয় সেখানে ১৪-১৫দিন সময় লেগে যায়। সুরমা,রক্তি,যাদুকাটা,পাটলাই ও বৌলাই নদী শুকিয়ে যাওয়া অংশ খনন না করায় ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম ক্ষোব বিরাজ করছে। আর বিপন্ন হতে চলেছে নদী পাড়ের লোক জনের জীবন ও জীবিকা। জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে কয়েকটি উপজেলা ছাড়া বাকি সবকটি উপজেলার সাথে অভ্যন্তরীণ কিংবা বাইরের জেলা ও উপজেলার সাথে মালামাল পরিবহনে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই,বর্ষায় ও হেমন্তে নৌ-পথ ই ভরসা। হেমন্ত কালে প্রয়োজনের তাগিদে লোকজন পাঁয়ে হেঁটে কিংবা মটর সাইকেলে চলাচল করলেও মালামাল পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম নদী পথ। সে জন্য জেলার সকল হাট-বাজার নদী তীরবর্তী স্থানে অবস্থিত। কিন্তু বর্তমানে জেলার কয়েকটি নদীর নাব্যতা হারানোর ফলে এর বিরুপ প্রভাব পড়েছে জেলা বাসীর জীবন যাত্রায়। জানাযায়,নদী দিয়েই জেলা সদর সুনামগঞ্জের তাহিরপুর,ধর্মপাশা,জামালগঞ্জ,বিশ্বম্বরপুর মধ্যনগর,ধর্মপাশা সহ পাশ্ববর্তি নেত্রকোনা,কমলাকান্দা মহোনগঞ্জ,কিশোরগঞ্জ,ভৈরব সহ দেশের দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চলের সঙ্গে ব্যবসা বানিজ্যের স্বার্থে বিভিন্ন মালামাল নৌ পথে পরিবহন করে যোগাযোগ রক্ষা হয়। কিন্তু জেলার গুরুত্বপূর্ন কয়েকটি নদীটির নাব্যতা সংকটের কারনে হেমন্তে অভ্যন্তরীন ও বাইরের যোগযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দিন দিন। পরিবহনের দুরবস্থার কারনে বিভিন্ন উপজেলার দ্রব্য মূল্যের দাম পাশ্ববর্তী জেলা গুলোর চেয়ে অনেক বেশী। বৌলাই,রক্তি,পাটলাই ও সুরমা ৪টি গুরুত্বপূর্ন প্রধান নদী। নদী গুলোর নাব্যতা হারানোর ফলে মরে গেছে জেলার প্রায় ২৩টি নদী,শাখা নদী ও খাল গুলো। জেলার তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই নদী দেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের মেঘালয় পাহাড় থেকে উৎপত্তি। দেশের অন্যতম কয়লা আমদানী শুল্ক ষ্টেশন বড়ছড়া থেকে আমদানীকৃত কয়লা পাটলাই নদী দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। কিন্তু নদীর নাব্যতা সংকটের কারনে হেমন্ত কালে ৪-৭কিলোমিটার পর্যন্ত নৌ-জটের সৃষ্টি হয়। বেকার হয়ে পড়ে এর সাথে সম্পৃক্ত ৩০হাজার শ্রমিক। পাটলাই নদীটি বড়ছড়া থেকে শ্রীপুর বাজার পর্যন্ত ৫কিলোমিটার এবং সোলেয়মানপুর এলাকায় পাটলাই নদীর শাখা নদী পাইকর তলা নদীতে ২কিলোমিটার খনন করলে হেমন্তে মালামাল পরিবহন করা সহজ হবে ব্যবসা বানিজ্য স্থবির হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। বৌলাই নদীটির তাহিরপুর সদর থেকে সেলাইমানপুর ও তাহিরপুর-নিশ্চিন্তপুর থেকে চিসকা পর্যন্ত শুকিয়ে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে তাহিরপুর উপজেলার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এখানেও খনন করা প্রয়োজন। মেঘালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে যাদুকাট নদীটি বাংলাদেশের ১কিলোমিটার ভিতরে বালিজুরী ইউনিয়নের ফাজিলপুর এসে নাম নিয়েছে আরেকটি নদী রক্তি। এখানেই নদীটি বৌলাইয়ের সাথে মিলিত হয়েছে। বিখ্যাত সিলেট বালি এ নদী থেকেই সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জায়গার চাহিদা পূরন করা হয়। মেঘালয় থেকে নেমে আসা বালি ও পাথরের কারনে নদীটি সম্পদশালী ও গুরুত্বপূর্ন। কিন্তু এ বালি ও পাথরের কারনেই নদীটি তার নাব্যতা হারিয়েছে। হেমন্ত কালে বড়বড় নৌকার পরিবর্তিতে ছোট ছোট নৌকা দিয়ে বালি পাথর পরিবহন করতে হয়। তার পর ও নদীটির কয়েক কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন স্থানে দেখা দেয় নৌ জানজট। এ নদী দিয়েই সুনামগঞ্জের সুরমা নদীতে জামালগঞ্জ উপজেলা দিয়ে প্রবেশ করে। জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের সুরমা ও বৌলাই নদীর মিলন স্থল থেকে প্রায় ৪কিলোমিটার নদীতে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। বৌলাই নদীর জামালগঞ্জ অংশের শ্রীমন্তপুর-শুকদেবপুর থেকে মিলনপুর গ্রাম পর্যন্ত নৌ যানযট দেখা দিয়েছে। নৌযান শ্রমিক ও কয়লা ব্যবসায়ীরা জানান-নাব্যতা সংকটের কারনে ৩০মিনিটের পথ পাড়ি দিতে হয় ১৪-১৫দিন সময় লেগে যায়। নদীটি শুকিয়ে যাওয়ায় বড় নৌকা বিক্রি করে এখন ১২ফুট বালি,পাথর পরিবহনে সক্ষম ছোট নৌকা বানিয়েছেন অনেকে। যার ফলে আমাদের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। ফাজিলপুর ব্যবসায়ী সমিতি ও বারকি শ্রমিক নেতা আব্দুল হান্নান জানান-এ নদীতে ১৫হাজার বেশি বারকি শ্রমিক কাজ করে। রক্তি ও এর আশে পাশের নদী গুলো শুকিয়ে যাওয়ায় অক্টোবর মাসেই বন্ধ হয়ে যায় বারকি নৌকা দিয়ে বালি উত্তোলন। সুনামগঞ্জ ১আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন জানান,নদীর নাব্যতা সংকট দূর করার জন্য আমি সর্বাতœক চেষ্টা করছি। আর যে খানে নদী খনন করা প্রয়োজন সেখানে নদী খনন না করে উল্টো কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ যার ফলে কোন উপকারেই হবে না। নদীর নাব্যতা সংকট দূর করার জন্য নৌ মন্ত্রীর সাথে কথা বলব।