সৌম্য, আপনার ক্রিকেট নয় বিশ্রাম প্রয়োজন

29

স্পোর্টস ডেস্ক : টুর্নামেন্ট গড়ানোর সাথে সাথে তার ব্যাটিংয়ে আড়ষ্টতার ছাপ আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বছর জুড়েই রানের জন্য ধুঁকতে থাকা সৌম্য সরকার চলমান বিপিএলেও নিজেকে হারিয়ে খুঁজছন।

৯ ম্যাচ থেকে সাকল্যে ১১৬ রানই বলে দিচ্ছে নিজের সেরা ফর্ম থেকে এই মুহূর্তে অনেকটাই দূরে আছেন সাতক্ষীরার এই তরুন ওপেনার।

২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে অভিষেকের পর থেকেই জাতীয় দলে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করে নেন সৌম্য। শুরুতে তিনে খেললেও বিশ্বকাপের পর থেকে তামিমের ওপেনিং পার্টনার হিসেবেই খেলছেন ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে।

গত বছরটা দুর্দান্তই কেটেছে এই ড্যাশিং ব্যাটসম্যামের। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ধারাবাহিক পারফরমেন্স দিয়ে ক্রমশ হয়ে উঠেছিলেন জাতীয় দলের অপরিহার্য একজন সদস্য। গত বছরের শেষ দিকে ইনজুরিতে পড়ে বেশ কিছুদিন মাঠের বাইরে থাকেন। আবার দলে ফিরে আসেন এশিয়া কাপে।।

আর সেখান থেকেই শুরু সৌম্যের ব্যাটিং দুর্দশার। প্রতিটি ম্যাচ খেললেও বলার মত কোন ইনিংস উপহার দিতে পারেননি। এর পরপরই অনুষ্ঠিত টি-বিশ্বকাপেও রান খরা অব্যাহত থাকে সৌম্যের ব্যাটে। পরবর্তীতে ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হন। তারপরও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে গত বছরের ফর্মের ভিত্তিতে আফগানিস্তান সিরিজে আরেকটি সুযোগ দেয়া হয় সৌম্যকে।

যথারীতি এখানেও তিনি ব্যর্থতার পরিচয় দেন এবং ইংল্যান্ড সিরিজে দলে জায়গা হারান ইমরুল কায়েসের কাছে। প্রথম ম্যাচেই শতক হাকিয়ে সৌম্যের দলে ফেরাটা কঠিন করে দেন ইমরুল। বাকি দুই ম্যাচেও তিনিই ওপেন করেন তামিমের সাথে। এরপর টেস্ট সিরিজের স্কোয়াডে থাকলেও সৌম্য আর সুযোগ পাননি।

তবে বিপিএল শুরুর পূর্বে নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য ঘোষিত ২২ জনের স্কোয়াডে সৌম্যের অন্তর্ভুক্তি ছিল অন্যতম বড় চমক। কারণ, ফর্মহীনতায় ভোগা একজন ব্যাটসম্যানকে নেয়াটা তার কিংবা দলের, কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়। সৌম্যের ব্যাটিং দেখলেই বোঝা যাচ্ছে তার মনোসংযোগ এবং আত্নবিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে। আর এরকম সময়ে বারবার ব্যর্থ হয়ে আরো চাপের মুখে পড়ে যাওয়াটাও স্বাভাবিক।

তার সাথে রয়েছে উপমহাদেশীয় ভক্তদের আচরনের ব্যাপারটিও। এখানে একটু ভাল খেললেই যেমন সবাই মাথায় তুলে নাচেন, তেমনি খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া খেলোয়াড়কে তারা গালমন্দ করতেও ছাড় দেননা। ফলে সৌম্যের জন্য নিজেকে ফিরে পাওয়াটা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এরকম সময়ে নিউজিল্যান্ড সিরিজে তাকে বিশ্রাম দেয়াটাই হত বুদ্ধিমানের কাজ।

তবুও সবার আশা ছিল চলমান বিপিএলে রংপুরের আইকন প্লেয়ার হিসেবে হয়ত তিনি হারানো ফর্ম ফিরে পাবেন। কিন্তু বিধিবাম। উল্টো টুর্নামেন্ট গড়ানোর সাথে সাথে তার ব্যাটিংয়ে আড়ষ্টতার ছাপ আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

টাইমিংয়ের গড়বড়, অফ স্টাম্পের এক হাত বাইরের বল তাড়া করা কিংবা কোন ফুটওয়ার্ক ছাড়াই ডাউন দ্যা উইকেটে এসে মারার ব্যর্থ চেষ্টাই বল দিচ্ছে আত্নবিশ্বাসের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে সৌম্যের। নইলে এক বছর আগেই যিনি মরনে মরকেলকে মাথার ওপর দিয়ে ছয় মারেন, তিনিই কিনা এখন খাবি খাচ্ছেন মোহাম্মদ সামির বলে!

ক্রিকেট খেলাটা মনস্তাত্ত্বিকও। অনেক সময়ই দেখা যায় এরকম ফর্মহীনতায় ভোগা খেলোয়াড়দের জন্য সাময়িক বিশ্রাম বেশ কাজে লাগে। তাতে পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে একান্তে কিছু সময় কাটিয়ে মানসিকভাবে চাঙ্গা হওয়ার সুযোগ যেমন পাওয়া যায়, পাশাপাশি নিজের ভুল ত্রুটি নিয়ে চিন্তা করা ও তা নিয়ে কাজ করারও ফুরসতও মেলে।

বিসিবির প্রতি অনুরোধ, সৌম্যকে কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ দিন। আগামী ১২ মাসে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে ব্যস্ত ক্রিকেটসূচী। তার আগেই সৌম্যের ফর্মে ফেরাটা অত্যন্ত জরুরী। তার প্রতিভা এবং সামর্থ্য নিয়ে কারোরই সন্দেহ নেই।

কিন্তু, এই মুহূর্তে এভাবে টানা খেলিয়ে মানসিকভাবে আমরা তাকে আরো কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দিচ্ছি। তাই নিউজিল্যান্ড সিরিজেই সৌম্যকে প্রয়োজনীয় বিশ্রামটি দেয়া হোক। যাতে তিনি নিজের ভুল ত্রুটিগুলো শুধরে আগের রুপে ফিরতে পারেন। তাতে দল ও সৌম্য – উভয়ই উপকৃত হবেন।

(টুডে সংবাদ/মেহেদী)

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে www.todaysangbad.com