মানুষের অস্বাভাবিক মৃত্যু রুখছেন এই মানুষটি

china-man

নিউজ ডেস্ক : ছুটির দিনগুলো কাটানোর জন্য কত রকম প্ল্যানই না থাকে আমাদের। সিনেমা দেখে, বই পড়ে কিংবা কখনও নিতান্তই অলসতার মধ্যে দিয়ে কেটে যায় ছুটির দুপুরগুলো।

কিন্তু চীনের বাসিন্দা ৪৮ বছরের চেন সি কীভাবে তার ছুটির দিনগুলো কাটান, সেটা জানার পর অবাক লাগতেই পারে। তবে একই সঙ্গে তাকে সেলাম না জানিয়েও পারবেন না।

সে কথায় না হয় সময় মতোই আসা যাবে। তবে কর্মক্ষেত্রে নিয়মকানুনের কড়াকড়ির ব্যাপারে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয় চীনকে। দিনের পর দিন কঠোর নিয়মের বেড়াজালে বন্দি থাকার ফলে মানসিক অবসাদে ভোগেন, এমন মানুষের সংখ্যা সেখানে নেহাত কম নয়। স্বাভাবিকভাবেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন অনেকেই। এজন্য সেখানকার বহুতল অফিসগুলোর বাইরে অনেক সময় নেটের জাল বিছানো থাকে, যাতে ছাদ থেকে কেউ নীচে ঝাঁপ দিলে বেঁচে যায় তার প্রাণ।

china-man2শুধু অফিস বিল্ডিংগুলো নয়, ইয়াংসি নদীর উপর অবস্থিত নানকিং ইয়াংসি ব্রিজটিও সাক্ষী রয়েছে বহু আত্মহত্যার। এটি তৈরি হয়েছিল ১৯৬৮ সালে। ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ২০০০-এর উপর মানুষ আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে এই ব্রিজ থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন নদীতে।

তবে চেন সি অনবরত চেষ্টা করে চলেছেন এই সংখ্যাটা যাতে ভবিষ্যতে আর না বাড়ে, তার জন্য। তিনি প্রতি সপ্তাহে ছুটি পেলেই একবার করে চলে আসেন এই ব্রিজে। তারপর কী করেন জানেন?

যারা আত্মহত্যা করতে এখানে আসেন, তাদের বাঁচান। মৃত্যুর দরজা থেকে আবার ফিরিয়ে দেন জীবনের পথে। গত ১৩ বছর ধরে এই করেই তিনি অতিবাহিত করছেন তার ছুটির দিনগুলো।

এখন পর্যন্ত ৩০০’র বেশি মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন চেন। প্রত্যেকবার যখনই তিনি দেখেন কেউ লাফ দিতে যাচ্ছেন, সঙ্গে সঙ্গে পিছন থেকে গিয়ে জাপটে ধরেন তাকে। এমনকী প্রাণ বাঁচানোর পরে অনেক সময়ে তাদের থাকার বন্দোবস্তও করে দিতে হয় চেনকে।

কারণ পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, যারা এই পর্যন্ত ব্রিজে গিয়েছেন আত্মহত্যা করতে, তাদের অধিকাংশই নিম্নবিত্ত সম্প্রদায়ের। অভাবগ্রস্ত জীবন নিয়ে তারা হতাশ। চেন চেষ্টা করেন সেই সমস্ত মানুষের জীবনের অভাবজনিত হতাশা দূর করতে।

একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চেন জানিয়েছেন, তিনি নিজেও একসময় অবসাদে ভুগতেন নিজের পেশা নিয়ে। জীবন নিয়েও হতাশ থাকতেন অধিকাংশ সময়ে। সে সময় এক সহৃদয় ব্যক্তি তাকে সাহায্য করেন। তার থেকে উৎসাহ পেয়ই চেন ঘুরে দাঁড়ান। পরবর্তীকালে একটি ব্যবসা শুরু করেন এবং বিয়েও করেন। বর্তমানে তার একটি মেয়ে রয়েছে।

তার কথায়, একা থাকতে থাকতে এমন কিছু সময় আসে, যখন জীবনটা দুর্বিষহ লাগে আমাদের। ওই সময়গুলোয় শুধুমাত্র অন্যদের থেকে একটু উৎসাহ দরকার।

প্রত্যেক শনি ও রোববার বাড়ি থেকে ২০ কিলেমিটার দূরের এই ব্রিজে পাড়ি জমান চেন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত থাকেন। তার থেকে প্রেরণা পেয়েই নিকটবর্তী এক বিশ্ববিদ্যালয়ের মনস্তত্ত্ব বিভাগের ছাত্ররা ইদানীং এখানে আসেন চেনকে সঙ্গ দিতে। চেন যাদের সাহায্য করেন, তাদের কাউন্সেলিংয়ের দায়িত্ব নেন এই ছাত্ররা। তার এই উদ্যোগ যে নয়া নজির গড়ল পৃথিবীর ইতিহাসে, তা বলাই বাহুল্য। (টুডেসংবাদ/এআরএ)