রহস্যময় যত স্থাপনা (পর্ব-২)

15

পৃথিবীতে মানুষ ঠিক কবে থেকে বসতি গড়েছে তার কোন নির্দিষ্ট হিসেব নেই। তবে বিভিন্ন সময়ে মানুষের তৈরি বিভিন্ন স্থাপনা সময়ের ফেরে হয়ে উঠেছে রহস্যময়। নিজের সৃষ্টিকে নিজেই অবাক হয়ে দেখেছে মানুষ। আর পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এমন কিছু রহস্যময় স্থাপনাকে নিয়েই আজকের এই আয়োজন।

৪. দেরিনকুয়ু পাতাল শহর

কল্পনা করুন তো ২০ হাজার মানুষকে নিয়ে একটা শহর তৈরির কথা, তাও আবার কোনরকম প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়াই। বেশ কষ্টকর বলে মনে হচ্ছে তাইতো? আর শহরটা যদি বানাতে হয় মাটির নীচে তাহলে? অবাক হলেন? ভাবছেন এত কষ্টের একটা কাজ মাটির নীচে কে করবে আর কেনইবা করবে? তুরস্কে এমন অনেক পাতাল শহর আছে বটে, তবে সেগুলোর ভেতরে সবচাইতে বড় শহরের নাম দেরিনকুয়ু। দেরিনকুয়ু নির্মিত হয়েছিল অনেককাল আগে। শেষ এর ব্যবহার করেছিল নিরাপত্তার খাতিরে লুকোতে চাওয়া কিছু মানুষ। তাও আবার ১৯২৩ সালে। এরপর মানুষের মন থেকে একেবারেই হারিয়ে যায় শহরটি। পরবর্তীতে একে খুঁজে পাওয়া যায় ১৯৬০ সালে। সেই থেকে এখনো অব্দি মানুষের মন ও মস্তিষ্কের বিনোদন জুগিয়ে আসছে এই রহস্যময় স্থানটি।

৫. জিগানটিকা

মাল্টার একটি দ্বীপে অবস্থিত এই স্থাপনাটির নামের পেছনে রয়েছে পৌরাণিক এক কাহিনী। জিগানটিকা শব্দটির অর্থ হচ্ছে দানবীর প্রাসাদ। অনেককাল আগে সাসুনা নামক এক দানবী এই স্থাপনা নির্মান করে বলে মনে করে স্থানীয়রা। স্থাপনা নির্মানের জন্যে তখন মাথায় করে ৫ মিটার দৈর্ঘ্যের পাথর বয়ে নিয়ে আসতো সাসুনা। জিগানটিকা স্থাপনাটি মূলত তিনটি মন্দিরের সমষ্টি। যার পুরোটা একটি বিশাল দেয়াল দিয়ে ঘেরা। খ্রিষ্টপূর্ব ৩,৬০০ অব্দে নির্মিত হয় জিগানটিকা। তাই স্থানীয়রা যদি বলে যে এই পুরোটা এক দানবীর কাজ তার জন্যে তাদেরকে দোষ দেওয়া যাবেনা। সত্যিই, এতটা আগে কী করে এমন এক বিশাল কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছিল মানুষ, তাও আবার কোনরকম ধাতু বা যন্ত্র ছাড়াই সেটা বেশ রহস্যের।

৬. বালবেক

ঠিক ধরেছেন, লেবাননের প্রাচীন শহর বালবেকের কথাই বলছি। একটা সময় প্রচুর্য আর খ্যাতির তুঙ্গে ছিল এই শহরটি। রোমান সাম্রাজ্যের এই শহরটির একদম মাঝখানে ত্রিস্তম্ভবিশিষ্ট তিনটি উপাসনালয় স্থাপিত হয়। যেগুলোকে নির্মিত করা হয়েছিল বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রের প্রতি সম্মান দেখিয়ে। এর ভেতরে জুপিটার বা বৃহস্পতি উপাসনালয়টি সেই শুরু থেকে আজ অব্দি মানুষের কাছে রহস্যময় হয়ে রয়েছে। এর নীচে তিনটি পাথর দেওয়া হয়েছিল যেগুলোর একেকটির ওজন প্রায় ৮০০ টন। কী করে সেসময় এই বিশাল ভারী পাথর তোলা সম্ভব হয়েছিল সেটা এখনো জানা যায়নি।

সূত্র : প্রিয়

লেখিকা : সাদিয়া ইসলাম

(টুডে সংবাদ/মেহেদী)

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে www.todaysangbad.com