জেলা পরিষদ নির্বাচন ও আইয়ুবের ‘বেসিক ডেমোক্রে​সি’

0-74

মিজানুর রহমান খান : জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের বিডি বললে ভুল হবে না। বিডি মানে বেসিক ডেমোক্র্যাটস বা মৌলিক গণতন্ত্রী। স্থানীয় সরকারের মধ্যে সেরা স্তর হয়েও স্বাধীনতার পর প্রথম নির্বাচন হচ্ছে। আপনি উপজেলা, সিটি বা পৌরসভা শব্দ সংসদে আইন করে বাতিল বা পাল্টাতে পারেন। কিন্তু জেলা শব্দ বদলাতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।
আমাদের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে উল্লেখ আছে, ১৮৮৫ সালে জেলা পরিষদ হওয়ার পরে ১৯২০ সালেও ব্রিটিশ ভারতে এটা তার স্বাধীন তহবিলসহ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ছিল। তখন এর নাম ছিল ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড। আইয়ুব নাম পাল্টে কাউন্সিল করলেন। এখন যে অবস্থা, তাকে সরকারশাসিত বলা যাবে। ১৯৭২ সালে আমরা পুনরায় পেলাম জেলা বোর্ড। ১৯৯২ সালের ৩০ জুলাই থেকে অনধিক ছয় মাসের মধ্যে জেলা পরিষদেরও নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ, বিচারপতি এম এইচ রহমান, বিচারপতি এ টি এম আফজাল, বিচারপতি মোস্তাফা কামাল ও বিচারপতি লতিফুর রহমানের রায় ছিল। তাঁরা সবাই প্রধান বিচারপতি হয়ে অবসরে গেছেন। দুজন মারাও গেছেন। যাক, সেই রায়ের নির্দেশনা পূরণ করা এবার সম্পূর্ণ হবে।
অপ্রত্যক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নিরুৎসাহিত করে আমাদের উচ্চ আদালতের আরও একটি রায় আছে। ২০০৫ সালে ব্লাস্টের এক মামলায় বিচারপতি এম এম খায়রুল হক পরোক্ষ ভোটের ব্যবস্থা–সংবলিত বিএনপির প্রবর্তিত গ্রাম পরিষদ আইনটি বাতিল করে দেন। আর আমরা এটাও ভুলব না যে অনির্বাচিত ব্যক্তি কোনো স্তরেই থাকবেন না, এই যুক্তির ওপর আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হতে দেখেছি।
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্বাচকমণ্ডলী দিয়ে গোপন ব্যালটে ২৮ ডিসেম্বর জেলায় জেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা এর আগে নির্বাচকমণ্ডলী দ্বারা প্রকাশ্যে ব্যালটে বিএনপিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনব্যবস্থা প্রবর্তন করতে দেখেছি। দেখেছি আওয়ামী লীগকে তার বিরোধিতা করে হাইকোর্টে রিট করতে। সেদিন তারা যুক্তি দিয়েছিল, সংবিধানে বলা আছে, প্রশাসনের সব পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হতে হবে। অথচ আওয়ামী লীগ সুপ্রিম কোর্ট ও সংবিধানের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অনির্বাচিত প্রশাসকদের দ্বারা জেলা পরিষদ চালিয়েছে। এখন আবার দলীয় এবং নির্দলীয় ভিত্তিতে গঠিত নির্বাচকমণ্ডলী দ্বারা দলীয়ভাবে মনোনীত প্রার্থীদের অংশগ্রহণে ইতিহাসের প্রথম জেলা পরিষদ নির্বাচন করতে যাচ্ছে।

১৯৫৯ সালের ২৬ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান যে বিডি ব্যবস্থা বা মৌলিক গণতন্ত্র চালু করেছিলেন, তা আমাদের এখন স্মরণ করতে হবে। আইয়ুব খান যদিও দাবি করেছিলেন যে মৌলিক গণতন্ত্র তাঁরই উদ্ভাবন। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে তাঁর দাবি সঠিক ছিল না। এটাও মূলত ব্রিটিশ বুদ্ধি! ২০১২ সালে মার্কিন জাতীয় মহাফেজখানায় ১৯ পৃষ্ঠার একটি গোপনীয় এয়ারগ্রাম পেয়েছিলাম এ বিষয়ের ওপর। ১৯৬৮ সালের ১২ মার্চ ঢাকার তৎকালীন মার্কিন কনসাল মেটকাফের তৈরি করা প্রতিবেদনটিকে একটি গবেষণাপত্র বলা যায়। এতে তিনি দেখিয়েছিলেন, ‘ঐতিহাসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে প্রায় ৮০ শতাংশ মৌলিক গণতন্ত্রীই অপেক্ষাকৃত সচ্ছল কৃষক, যাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ঐতিহ্যগতভাবে ভূস্বামী পরিবার থেকে এসেছে। যারা শতাব্দীর পর শতাব্দী তাদের নিজের এলাকার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। সুতরাং, পূর্ব পাকিস্তানে নির্বাচকমণ্ডলী অধিকতর সম্পদশালী, গ্রামীণ জমির মালিকদের প্রাধান্য-নির্ভর।’ আজকের বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারে যাঁরা নির্বাচিত হয়ে জেলা পরিষদে নির্বাচকমণ্ডলীর ভোটার তালিকায় নাম লিখিয়েছেন, তাঁদের শ্রেণি ও পেশার বিষয়ে তেমন কোনো গবেষণা হয়েছে বলে জানা নেই। তবে এটা হলে হয়তো দেখা যাবে ষাটের দশকের অবস্থা থেকে তেমন কোনো বদল ঘটেনি। হয়তো তফাত দেখব ষাটের দশকের সম্পদশালীদের তুলনায় বর্তমানের সম্পদশালীদের বড় অংশই অনেক বেশি মাত্রায় সামাজিক ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে জড়িত।

আইয়ুব খান তাঁর বইয়ে মৌলিক গণতন্ত্রীদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে লিখেছিলেন, ‘তাদের ঘিরেই তাদের এলাকার স্নায়ুকেন্দ্র তৈরি হবে। সব ধরনের স্থানীয় উন্নয়ন ও নাগরিক দায়দায়িত্ব ওই কেন্দ্রের মাধ্যমে মূল্যায়িত হবে। সেখানেই সমাধান খুঁজে বের করা হবে এবং গভীর অভিনিবেশে তার বাস্তবায়ন ঘটবে। এই বিডিরাই পর্যায়ক্রমে সরকারি সংস্থাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করবেন এবং সেসব গণসংস্থা হিসেবে কাজ করতে শুরু করবে। বিডিরা সমাজে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি করবেন। এবং সমাজের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিগুলোকে স্বাধীন করে তুলবেন। কারণ, সেটা দেশে একটি গতিশীল ও প্রত্যয়ী নেতৃত্বের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয়।’

তখনকার সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে মেটকাফ যে মূল্যায়ন করেছিলেন, তার আলোকে আমাদের বর্তমান স্থানীয় সরকারব্যবস্থার ভবিষ্যৎ প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও কার্যকরতা অব্যাহতভাবে পুনর্মূল্যায়নের দাবি রাখে। মেটকাফ লিখেছিলেন, যেহেতু শহুরে বুদ্ধিজীবীদের বেশির ভাগই ভোটাধিকার বঞ্চিত এবং যেকোনো অবস্থায় তাদের মধ্যে কট্টর আইয়ুববিরোধী মনোভাবই স্পষ্ট, সে কারণে কোনো নির্বাচন ঘনিয়ে এলে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের কাছে বড় বাজি হয়ে থাকবে এই গ্রামীণ মৌলিক গণতন্ত্রীরা। সামনের সাধারণ নির্বাচনে এই বিডিরা এবং দলীয় নির্বাচকমণ্ডলী বিরাট প্রভাব রাখবে, সন্দেহ নেই।’

মার্কিন কনসাল আরও খেয়াল করেছিলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত গ্রামীণ ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে উন্নয়নের অর্থ সরবরাহ বজায় থাকবে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত বিরোধীদলীয় রাজনীতিকেরা তার সঙ্গে তুলনা করা চলে এমন পরিমাণ তহবিল করায়ত্ত করতে অপারগ থাকবেন, ততক্ষণ বিরোধী দল সর্বজনীন ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে উদ্‌গ্রীব থাকবে। অার তখন আইয়ুব সরকার, ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ এবং অধিকতর সম্পদশালী বাঙালি ভূস্বামীরা পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে একটি অপ্রতিরোধ্য জোট হয়ে থাকবেন।’ উল্লেখ্য, নির্বাচকমণ্ডলী দিয়ে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন করার পরিকল্পনা এসেছিল মার্লো-মিন্টোর আমলে।

অবশ্য মার্লো-মিন্টোর (যাঁর নামে আমাদের মিন্টো রোড) সেই সংস্কার ভারতীয় জনমতের কাছে অগ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়েছিল। ১৯১৭ সালে ভারতীয় সরকার–ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন আনা যেতে পারে, সে বিষয়ে ভারতীয় নাগরিকদের কাছে নাম না প্রকাশ করার শর্তে প্রশ্নমালা বিতরণ করা হয়েছিল। ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের একজন সদস্য মন্তব্য পাঠিয়েছিলেন, ‘কোনো নির্বাচকমণ্ডলী অবশ্যই থাকা উচিত নয়। কারণ, এভাবে নির্বাচিত প্রত্যেক প্রতিনিধিকে ক্রয় করা যাবে।’ ব্রিটিশ আইনপ্রণেতারা এই অভিমতটিই গ্রহণ করেছিলেন। সে কারণে ১৯১৯ সালের ভারতীয় সাংবিধানিক সংস্কার, যা মন্টিগো-চেলমস ফোর্ড সংস্কার হিসেবে পরিচিত, তাতে অপ্রত্যক্ষ ÿনির্বাচনব্যবস্থা বাতিল করা হয়। আমাদের জেলা পরিষদে অপ্রত্যক্ষ নির্বাচনের একটা সান্ত্বনা অবশ্য আছে। নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে তেমন কোনো উদ্বেগ নেই।

এখানে স্মরণ করা যেতে পারে যে ১৯৫৯ সালে আইয়ুব যখন তাঁর বিডি ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, তখন কিন্তু কেউ ধারণাও করতে পারেনি যে পরবর্তীকালে তাঁরাই রাষ্ট্রপতি এবং সংসদ নির্বাচনের জন্য দাবার ঘুঁটি হবেন। মানে, বিডিরা নির্বাচকমণ্ডলী হিসেবে বাঙালির জীবনে আবির্ভূত হবেন। ১৯৬০ সালের জানুয়ারিতে প্রথম বিডি নির্বাচন করার পরই আইয়ুব আমাদের সামরিক একনায়ক জেনারেল জিয়াউর রহমান ও জেনারেল এরশাদের মতো আস্থা ভোটের আয়োজন করেছেন, তাতে তিনি ৮৫ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট লাভ করেছিলেন। আইয়ুব তাঁর আত্মকথায় লিখেছেন, ‘আমার মনে এটা সম্পূর্ণ পরিষ্কার ছিল যে আমাদের শিক্ষা, অর্থনৈতিক মান ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় উন্নত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সামনে গ্রহণ করার মতো একটি পন্থাই খোলা থাকবে। আর সেটা হলো মৌলিক গণতন্ত্রীদের মাধ্যমে অপ্রত্যক্ষ নির্বাচন করা।’

মার্কিন কনসাল জেনারেল স্থানীয় সরকার–ব্যবস্থায় সরকারি অর্থ কী করে খরচ করা হতো, সেদিকেও নজর দিয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন, ‘গ্রামীণ পূর্ত কর্মসূচির তহবিলই ছিল আইয়ুব সরকারের সঙ্গে মৌলিক গণতন্ত্রীদের সেতুবন্ধন। পশ্চিম পাকিস্তানের কালাবাগের প্রয়াত গভর্নর (আমির মোহাম্মদ খান) এবং বর্তমান পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর (মোনায়েম খাঁ) উভয়ই অন্তত ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেছেন যে ভোটের আনুগত্য জয় করতে পূর্ত কর্মসূচি বেশ কাজ দিয়েছে।’

আসলে কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় সরকারের কাঠামো যা-ই বলি, সব সময় শাসকেরা তাঁদের সুবিধা-অসুবিধা অনুযায়ী কাঠামো বদলেছেন, নির্বাচনী দিনক্ষণ স্থির করেছেন। জনস্বার্থের রক্ষক যে সংবিধান, তার চাহিদা পূরণ করার নির্বাচন এটা নয়। চতুর্থ সংশোধনীতে বিলুপ্ত হওয়া স্থানীয় শাসনসংক্রান্ত ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদ প্রায় ১৮ বছর সংবিধানে বিলুপ্ত থাকাকালে এর পুনরুজ্জীবনে এ দেশে কোনো হইচই হয়নি। তাই এটা রূঢ় বাস্তবতা যে মানুষের ক্ষমতায়নকে বাধাগ্রস্ত করার যে ঐতিহাসিক পরম্পরা, সেটা রক্ষার যে বেড়ি, তা আমরা ভাঙতে পারছি না।

বিএনপির জেলা পরিষদ নির্বাচন বয়কট গ্রহণযোগ্য নয়। ২০০০ সালে আওয়ামী লীগ ২৫ মিনিটে জেলা পরিষদ বিল পাস করেছিল। আর বিএনপি অপ্রত্যক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থাকে সংবিধান পরিপন্থী বলে হাইকোর্টে রিট করেছিল। এরপর তারা পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে ওই আইন সংশোধন বা নির্বাচন কোনোটাই করেনি। অথচ এখন তারা মায়াকান্না জুড়ে দিয়েছে। নির্বাচকমণ্ডলী দ্বারা ভোট–ব্যবস্থাটাই সব সময় গণতন্ত্র–বিরুদ্ধ, তা–ও নয়।

প্রফেসর ব্লু নিজেই ‘ইস্ট পাকিস্তান বেসিক ডেমোক্র্যাটস প্লাস রুর‍্যাল পাবলিক ওয়ার্কস’ শীর্ষক একটা সমীক্ষা চালিয়েছিলেন। তিনি লক্ষ করেন যে পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৬৫ সালে জেলাওয়ারি যে নির্বাচন হয়েছিল, তার সঙ্গে পূর্ত কর্মসূচি মানে সরকারি বরাদ্দের সম্পর্ক রয়েছে। গভর্নর মোনেম খান ১৯৬৮-৬৯ অর্থবছরে ৩০ কোটি রুপি এবং ১৯৬৯-৭০ অর্থবছরে ৪০ কোটি রুপি খরচ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মার্কিন কনসাল লিখেছিলেন, এই সময়টায় নির্বাচন ঘনিয়ে আসবে বলেই ওই ঘোষণা ছিল। ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে, সত্তরের অবাধ নির্বাচনের ফলাফল কী হয়েছিল।

গোপন ব্যালটে জেলা পরিষদে নির্বাচকমণ্ডলীর ভোট আমাদের ইতিহাসে একদম নতুন। সম্প্রতি এক নৈশভোজে ইনাম আহমেদ চৌধুরী ও সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টির সঙ্গে বসেছিলাম। মি. চৌধুরী জানতে চাইলেন, রিপাবলিকান নির্বাচকমণ্ডলী কি ইচ্ছা করলে ট্রাম্পকে ভোট না দিতে পারেন? মরিয়ার্টি বললেন, আইনত বাধা নেই। কিন্তু কেউ ব্যত্যয় করেন না। আমাদের প্রশ্ন হলো, ২৮ ডিসেম্বরে দলীয় নির্বাচকমণ্ডলী কি দলের বাইরের প্রার্থীকে ভোট দিতে স্বাধীন থাকবেন?

মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷

mrkhanbd@gmail.com

(টুডে সংবাদ/উদয়া)

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে www.todaysangbad.com ভিজিট করুন, লাইক দিন এবং  শেয়ার করুন