কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে যুক্তরাষ্ট্র, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিশ্ববাসী

0-74

মুহা. রুহুল আমীন : এ লেখা যাঁরা পড়ছেন, পাঠকদের বেশির ভাগই হতাশা, বেদনা ও অস্থিরতার মানসিক বলয়ে বিচরণ করছে। কেননা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকসহ বিশ্ববাসীর নিরঙ্কুুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ মার্কিন নির্বাচনের প্রকাশিত এ ফলাফল আশা করেনি। এতদসত্ত্বেও গণতান্ত্রিক  নির্বাচনে এ ফলাফল এবং তত্পরবর্তী বিশ্ববাস্তবতা মেনেই পথ চলতে হবে। কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিশ্বের জনগণ। গোটা বিশ্বব্যবস্থা যেন প্রবল এক ধাক্কা সামলাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ট্রাম্পের বিজয় ও হিলারির পরাজয় মার্কিন নির্বাচনব্যবস্থা, মার্কিন গণতন্ত্র এবং এমনকি মার্কিন জনগণের ভোট প্রদানের সংস্কৃতিকে বেশ প্রশ্ন করার জায়গায় নিক্ষিপ্ত করেছে। মিট রমনিকে পরাজিত করে ওবামা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ট্রাম্পই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থার সমালোচনা করে আসছিলেন। ইতিহাসের আশীর্বাদ তাঁর ললাটে এবার পড়ল যেন। প্রায় ১০ লাখ ভোটের ব্যবধানে হিলারির কাছে জনপ্রিয় ভোটে হারলেও ইলেকটোরাল কলেজের ভোটে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। অনেক আমেরিকান এখন এ নির্বাচনব্যবস্থাকে অগণতান্ত্রিক আখ্যায়িত করে তা পাল্টানোর দাবি করেছে। নির্বাচনের আগে সব জনমত জরিপ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও গণমানুষের প্রত্যাশা—এসব দিক বিবেচনায় সবাই আশা করেছিল হিলারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। কেন সবাই হিলারির জয়ে আশাবাদী ছিল—বিষয়টি একটু জানা দরকার।

প্রথমত, ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সমর্থন হারিয়ে অনেকটা অসহায়, নিঃসঙ্গ হয়ে গিয়েছিলেন। ২০০৫ সালের এক অডিওতে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, তাঁর তারকাশক্তির বলে এবং তিনি যে সেলিব্রিটি সে কারণে তিনি যেকোনো ললনার সঙ্গে যা কিছু করতে পারেন। তখন থেকেই রিপাবলিকান দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা ক্ষুব্ধ হন এবং সমর্থন প্রত্যাহার করতে থাকেন। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মিডিয়ার প্রতাপশালী ভূমিকা সর্বজনবিদিত। এবার শীর্ষস্থানীয় মিডিয়ার প্রায় সবই হিলারির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। যাঁরা মিডিয়ার সঙ্গে জড়িত তাঁরা হিলারির নির্বাচনী কাজে প্রায় তিন লাখ ৮২ হাজার ডলার চাঁদা দিয়েছিলেন। অথচ ট্রাম্প শিবিরে এ খাত থেকে মাত্র ১৫ হাজার ডলার জমা পড়েছিল।  যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলো ট্রাম্পকে ‘অযোগ্য’, ‘বিপজ্জনক’, ‘ভ্রম-নিমজ্জিত’, ‘সর্বাধিনায়ক হিসেবে অপ্রস্তুত’ ও ‘সিরিয়াল মিথ্যুক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৬ সালের সার্কুলেশনে শীর্ষ ১০০ পত্রিকার মধ্যে ৫৫টিই হিলারিকে অনুমোদন করেছিল এবং মাত্র একটি পত্রিকা (লাস ভেগাস রিভিউ-জার্মান) ট্রাম্পকে অনুমোদন করেছিল। তৃতীয়ত, জনমত জরিপগুলোর হিসাব অনুযায়ী হিলারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৩ থেকে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। সিএনএন বা আরসিসি এবং সর্বশেষ বৃহৎ জনমত জরিপ এবিসি বা ওয়াশিংটন পোস্টের হিসাব অনুযায়ী হিলারিকে ধরা হয় পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। নিউজ উইক বা এবিসি-এ এমন মতামত ব্যক্ত করেছিল প্রিন্সটন ইলেকশন কনসোর্টিয়াম হিলারির বিজয়ের ৯৯ শতাংশ সম্ভাবনার কথা এবং ফাইভ থার্টি এইট ৬৫ শতাংশ সম্ভাবনার। চতুর্থত, যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের প্রায় অর্ধেকই নারী, যাঁরা ট্রাম্প কর্তৃক ভীষণ আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁদের ভোটের বড় অংশ হয়তো হিলারি পাবেন। কেননা তিনিও একজন নারী এবং নারীর ক্ষমতায়নের উদীয়মান মুহূর্তে নারীরা তাঁকেই বেছে নেবেন বলে ধারণা করা হয়েছিল।  পঞ্চমত, যুক্তরাষ্ট্রের দোদুল্যমান ১২-১৩টি অঙ্গরাজ্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল নির্ধারক হয়ে থাকে। প্রায় প্রতিটিতে গড় নির্বাচনে বারাক ওবামা জয়ী হয়েছিলেন এবং আশা করা হয়েছিল যে সেই জয়ের সূত্র ও কারণ হয়তো হিলারি পর্যন্ত বিস্তৃত ও সম্পৃক্ত থাকবে। এ রাজ্যগুলোর মধ্যে ফ্লোরিডা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের দুই দিন আগে ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত আগাম নির্বাচনে হিলারি এগিয়ে আছেন বলে সিএনএন ৬ নভেম্বর সংবাদে উল্লেখ করেছিল। ষষ্ঠত, একজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে আমেরিকানরা সুস্থ, ধীর, স্বাভাবিক, স্বস্তিময় ও শক্তিশালী হিসেবে দেখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। কিন্তু ট্রাম্প পাগলা, বদমেজাজি। রুক্ষ, ভারসাম্যহীন হিসেবে নিজেকে প্রমাণিত করেছিলেন। প্রথম টিভি বিতর্কে ট্রাম্প রাগান্বিত হয়ে, ভারসাম্যহীন অবস্থায় হিলারিকে গালাগাল করলেও হিলারি ছিলেন সদা হাস্যমুখী, ভারসাম্যহীন, শাণিত যুক্তিবাদী। এ ধারা পরবর্তী বিতর্কগুলোতেও বজায় ছিল। সর্বোপরি যুক্তরাষ্ট্র একটি বিদেশিদের অধ্যুষিত দেশ, বহু সংস্কৃতির মিলনের চারণভূমি। ট্রাম্প হিস্পানিক, মেক্সিকান, মুসলিম ও অভিবাসীদের জন্য হুমকিমূলক প্রচারণা চালিয়ে এ শ্রেণির ভোটগ্রহণের যোগ্যতা হারিয়েছিলেন। মেক্সিকানদের তিনি ধর্ষক, দুর্নীতিবাজ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং মুসলিমদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা বন্ধ করে দেওয়ার ঔদ্ধত্য দেখিয়ে মুসলিম, মেক্সিকান ও অন্যান্য অভিবাসীর ক্রোধাগ্নির শিকার হয়েছিলেন; যা তাঁর পরাজয়ের বড় একটি কারণ হলে হতেও পারত।

যুক্তরাষ্ট্রের এ নির্বাচন দেশটির অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে মারাত্মক নৈতিকবাচক অবস্থা তৈরি করতে যাচ্ছে বলে মনে হয়। বিশ্ব মিডিয়ার মাধ্যমে জানা গেছে, আমেরিকানরা এ নির্বাচনের ব্যাপারে খুবই বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছিল। এমনিতেই দেশটির নির্বাচনের ব্যাপারে জনপ্রিয় ভোটের চেয়ে ইলেকটোরাল কলেজের সিদ্ধান্তই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে সাধারণত অর্ধেক ভোটারের অংশগ্রহণে নির্বাচনগুলো হয়ে থাকে। তবে  কখনো জনপ্রিয় ব্যক্তি প্রার্থী হলে বা দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তৈরি হলে ভোটকেন্দ্রে স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি চোখে পড়ে। যেমন—বারাক ওবামার প্রার্থিতার সময় ৬০-৬২ শতাংশ ভোটার উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু এবারকার নির্বাচনে জনগণ খুবই বিরক্ত ছিল। তারা যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের এ হাঁকডাকের অবসানের জন্য অপেক্ষা করছিল। দ্বিতীয়ত, চলমান নির্বাচন মার্কিন জনগণকে বেশ গোলকধাঁধায় ফেলেছে। হৃদয়ের গভীরে যে আন্তজাতি বিতৃষ্ণা, আন্তর্ধর্মীয় অসন্তোষ, আন্তর্বর্ণীয় ঘৃণা এত দিন প্রোথিত থেকেছে, এ নির্বাচন তা সমাজ-জীবনের বহিঃপ্রকাশে নিয়ে এসেছে। ট্রাম্পই সে ঘৃণা ছড়িয়ে দিয়ে মার্কিন সমাজকে ঘৃণা-উদ্ভূত অপরাধে বা হেটক্রাইমের গর্তে ঠেলে দিয়েছেন। এ থেকে যে সমাজ ক্ষয়ের প্রবণতা উঁকি দিয়েছে, তা সামাল দিতে হয়তো যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন তত্ত্ব বা ডিসকোর্সের জন্ম দিতে হতে পারে। এরই মধ্যে ট্রাম্প নিশ্চিতভাবে নতুন ডিসকোর্সের অবতারণা করেছেন এবং বহু সংস্কৃতির মূলে কুঠারাঘাত করেছেন। তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের অনুকরণীয় নির্বাচনী গণতন্ত্র এখন বিশ্বময় প্রশ্নের সম্মুখীন। একজন প্রার্থী শুধু ভোটের জয়ের লক্ষ্যে এত নিচে নামতে পারেন, তা ট্রাম্পকে না দেখলে বোঝা যেত না। অধিকন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্পর্শকাতর অফিসগুলো, যথা—বিচারিক বিভাগ, এফবিআই, এথিকস অফিস, অফিস অব স্পেশাল কাউন্সিল ইত্যাদি চলতি নির্বাচনের সময় বেশ বিতর্কপূর্ণ অবস্থায় পতিত হয়েছে। এফবিআইয়ের প্রধান কোমিও হিলারির ই-মেইল ইস্যুকে এমনভাবে সামনে নিয়ে এসেছিলেন, যা প্রথাবিরোধী, আইনবিরোধী, আচরণবিরোধী, নিয়মবিরোধী এবং ক্ষমতার গণ্ডি লঙ্ঘনকারী বা ক্ষমতার অপব্যবহারী। এমন ঠুনকো অথচ গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ-জীবনে সাম্প্রদায়িকতার যে বিষবাষ্প নির্বাচনের মাধ্যমে সম্প্রসারিত হলো, তা উবে যেতে ঠিক কত সময় লাগে, তা হয়তো আমরা এ মুহূর্তে বলতে পারছি না। সর্বোপরি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, নির্বাচনের নিয়মের প্রতি যে বৈশ্বিক শ্রদ্ধা ও অনুকরণের নজির ছিল, তা প্রায় অপসৃত এখন।

যুক্তরাষ্ট্রের এ নির্বাচনের আন্তর্জাতিক তাত্পর্য আরো গভীরে। যে মুহূর্তে বিশ্ব জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, শরণার্থী সমস্যা, বেকারত্ব, বৈশ্বিক জলবায়ু সমস্যা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, সেই মুহূর্তে এ নির্বাচন বিশ্ববাসীর জন্য কী সমাধান নিয়ে আসবে তার কোনো প্রচারণা বা দিকনির্দেশনা দুই প্রার্থীর কারো মেনিফেস্টোতে উল্লেখ হয়নি। বিশ্ববাসী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকে বিশ্ববাসীর জন্য আশার আধার হিসেবে বিবেচনা করে। অথচ বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান ও ইঙ্গিতের ছিটেফোঁটা এখানে নেই। ফলে বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও বৈশ্বিক শ্রদ্ধার জায়গা থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার জনগণ রাজনীতিচ্যুত হতে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, মুসলিম বিশ্বের প্রমাণিত মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পূর্ব জেরুজালেমকে ইহুদিদের রাজধানী করার ঘোষণা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ব মুসলিমের হৃদয় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অশ্রদ্ধার অনুভূতি সংগ্রহ করেছেন। হিলারির প্রচারাভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সর্বান্তভক্তির কথা থাকলেও বৈশ্বিক সমাজের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার চিরায়ত সংস্কৃতির কবর রচিত হয়েছে। আরব শরণার্থী এবং বিশ্ব অভিবাসীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতির স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনাও এ নির্বাচনের কোনো ইশতেহারে ঘোষিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রকে একটি টুকরা, খণ্ড, গণ্ডিভূত যুক্তরাষ্ট্রের মূর্তিতে প্রকাশিত হতে দেখা গেছে। বৈশ্বিক সমাজের বিশাল পরিধিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতিশীল দিকটি আজ কি ইতিহাসের অস্তাচলে হারিয়েই যাবে? এমন প্রশ্ন এখন অনেকের।

নির্বাচন-পূর্ব এত নেতিবাচক পরিস্থিতিতে নির্বাচনের ফল ঘোষণা এবং নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরবর্তী পরিকল্পনা আরো বেশি শঙ্কাময় ও ভয়ংকর ভবিষ্যতের ইঙ্গিত বয়ে আনছে। বিশ্লেষকরা এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উগ্র জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটেছে বলে ধারণা করছেন। এর ফলে ঘৃণা ছড়ানো ঘটনা অসংখ্য অপরাধের পথ খুলে দিচ্ছে। নির্বাচনের পরপরই ‘হেটক্রাইম’ বেড়ে গেছে। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট তাঁর ঘোষণায় সরকারি অফিসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যাঁদের নাম উল্লেখ করছেন তাঁদের ব্যাপারে খোদ রিপাবলিকান শিবিরে অনেক প্রতিবাদ রয়েছে। নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো, বোস্টন, ফিলাডেলফিয়া, সান ফ্রান্সিসকো, ওয়াশিংটন ডিসিসহ অনেক রাজ্যের মেয়ররা ট্রাম্পের অভিবাসী নীতির খপ্পর থেকে তাঁদের রাজ্যের অবৈধ অভিবাসীদের রক্ষার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ট্রাম্প বহু বিতর্কিত জন বোল্টনকে নিয়োগ দিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। যিনি জর্জ বুশের সময়ে জাতিসংঘের মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ইরাক যুদ্ধের কট্টর সমর্থক আলাবামার সিনেটর জেফ সেসনকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইরান চুক্তির বিরোধী এবং ওবামা কর্তৃক বহিষ্কৃত প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক পরিচালক মাইক পম্পকে সিআইএর পরিচালক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যুদ্ধবাজ ও অভিবাসনবিরোধী ব্যক্তিদের এমন স্পর্শকাতর অফিসগুলোয় নিয়োগ দিলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে—এ কথা আগেই অনুমান করা যাচ্ছে।

লেখক : অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ,

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

(টুডে সংবাদ/উদয়া)

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে www.todaysangbad.com ভিজিট করুন, লাইক দিন এবং  শেয়ার করুন