রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

rohinga-help

নিউজ ডেস্ক : মিয়ানমারে সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সীমান্ত থেকে আবার সেদেশে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ। সোমবারও রোহিঙ্গাদের বহনকারী কয়েকটি নৌকাকে বাংলাদেশের সীমান্তে প্রবেশ করতে দেয়নি সীমান্তরক্ষীরা।

বাংলাদেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি’র চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া রোহিঙ্গাদের তার দেশে আশ্রয় দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি সরকার, বরং রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌকাগুলোকে নাফ নদী থেকেই ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সোমবারও রোহিঙ্গাদের বহনকারী অন্তত আটটি নৌকা ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম।

রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, রাখাইন প্রদেশে তাদের উপর ধর্ষণ, নির্যাতন এবং হত্যা করছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। তাই জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে তারা। তাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও অনুরোধ করেছে। তবে বাংলাদেশ সরকার মনে করে, রোহিঙ্গাদের বিষয়টি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং তাদের রক্ষায় মিয়ানমার সরকারকে আরো উদ্যোগ নিতে হবে।

মিয়ামনার সরকার অবশ্য দাবি করেছে, রোহিঙ্গাদের নয়, গতমাসে পুলিশ চেকপোস্টে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। তবে জাতিসংঘ মনে করে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যা হচ্ছে তা একটি জাতিকে নির্মূল করার প্রয়াসের সঙ্গে তুলনীয়।

এদিকে, রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের বিভিন্ন স্যাটেলাইট ছবিও প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে, রোহিঙ্গাদের রক্ষায় সেদেশের শান্তিতে নোবেল জয়ী জননেত্রী অং সান সূচি কী করছেন? নিজের দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সরব সূচি অবশ্য রোহিঙ্গা ইস্যুতে বেশ নীরব। তার তরফ থেকে সর্বশেষ খবর হচ্ছে, আগামী মাসে পূর্বপরিকল্পিত ইন্দোনেশিয়া সফর পিছিয়ে দিয়েছেন তিনি। রোহিঙ্গাদের রক্ষার দাবিতে সেদেশে বিক্ষোভ চলায় এবং জাকার্তায় মিয়ানমারের দূতাবাসে বোমা হামলার পরিকল্পনার কথা জানাজানি হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সূচি।

উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত ত্রিশ হাজারের মতো রোহিঙ্গা মিয়ানমার ত্যাগ করে অন্যত্র চলে গেছেন। তাদের একটি বড় অংশই অবস্থান করছে পাশের দেশ বাংলাদেশে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়া হয় না। ফলে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাসহ সাধারণ নাগরিক সুযোগ-সুবিধাও পান না তারা। শুধু তাই নয়, স্বাভাবিক সময়েও মিয়ানমারে তাদের চলাফেরা বেশ সীমিত। (টুডেসংবাদ/এআরএ)