প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতিতে অর্থ ও মাস্তানের দাপট জয়ী হয় : এরশাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচন কমিশন গঠনে বর্তমান সংসদেই আইন পাস করার দাবি জানিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তন করে দলভিত্তিক ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদ নির্বাচনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। শনিবার রাজধানীর গুলশানে একটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন গঠন এবং নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারে পাঁচ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
এরশাদের প্রস্তাবগুলো হচ্ছে, সংবিধান অনুসারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশন নিয়োগ সংক্রান্ত একটি আইনি কাঠামো প্রণয়ন, নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখার বিধান, নির্বাচন কমিশনের জন্য আলাদা সচিবালয় বর্তমান সংসদেই এ আইন পাস করা। নির্বাচন কমিশনারদের যেসব যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে তা হচ্ছে নিরপেক্ষতা, ব্যক্তিগত একাগ্রতা ও সততা, ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ বয়স, পেশাগত যোগ্যতা, নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়জ্ঞান, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নয়, অন্য অফিসে নিয়োগে বিধি-নিষেধ ও চারিত্রিক স্বচ্ছতা।
তিনি বলেন, সংবিধানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের কথা বলা থাকলেও এ সংক্রান্ত কোনো আইন নেই। এরশাদ বলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়োগ প্রক্রিয়াকে যদি আমরা একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে পারি, তাহলেই কেবল কমিশন নিয়োগ বিতর্কমুক্ত হতে পারে। বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন চেয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা চলমান নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন চাই। নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার ছাড়া দেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আশা করা যায় না। এ পদ্ধতির কারণে হয় অর্থের দাপট নতুবা মাস্তানের দাপট জয়ী হয়। পরাস্ত হয় সততা ও যোগ্যতা। এর ফলে সংসদে সৎ, বিজ্ঞ এবং ত্যাগী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে আসতে পারছেন না। বর্তমানে ব্যবসায়ীদের হার ৬০-৬৫ ভাগে পৌঁছে গেছে।
ভোটের আনুপাতিক হারে আসন বণ্টন : হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, সংসদীয় পদ্ধতির সরকারে রাষ্ট্র পরিচালনা হয় দলীয় শাসন ব্যবস্থায়। তাই সংসদ নির্বাচনও দলের ভিত্তিতে হতে পারে। অর্থাৎ সংসদীয় আসনের ভিত্তিতেই নির্বাচন হবে এবং ভোটাররা সরাসরি দলকে ভোট দেবেন, কোনো প্রার্থীকে নয়। প্রতিটি দল প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে আসন পাবে। তবে এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের কাস্টিং ভোটের মধ্যে ন্যূনতম ভোট পাওয়ার সীমা থাকবে।
প্রস্তাবে বলা হয়, প্রতিটি দল নির্বাচনে তাদের প্রার্থী তালিকা তৈরি করে নির্বাচন কমিশনে জমা দেবে। নির্বাচনী ইশতেহারের মতো এ প্রার্থী তালিকা তারা দেশবাসীর কাছে উপস্থাপন করবে। তারপর দলগুলো নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবে। সারা দেশে যে দল বেশি ভোট পাবে, সে দল বেশি সংসদ সদস্য পাবে। এরপর রাজনৈতিক দলগুলো জমা দেয়া প্রার্থী তালিকা থেকে ক্রমিক অনুসারে অথবা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে সংসদ সদস্য মনোনীত করবে। যদি কোনো দল কাস্টিং ভোটের ৫০ ভাগ পেয়ে যায়, তাহলে তারা ১৫০ আসন পাবে। আবার যদি কোনো দল কাস্টিং ভোটের ১ ভাগ ভোট পায়, তাহলে সে দল তিনজন সংসদ সদস্য পাবে। প্রাপ্ত ভোটের ভগ্নাংশের সুবিধা পাবে সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত দল। এ পদ্ধতিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ওই আসনের মোট কাস্টিং ভোটের ৫০ শতাংশের চেয়ে ১ ভোট বেশি পেলেই স্বতন্ত্র সদস্য নির্বাচিত হতে পারবেন।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, এ পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হবে না। কোনো দলের সংসদ সদস্য পদত্যাগ বা মৃত্যুবরণ করলে ওই দলের প্যানেল থেকেই দল শূন্য আসনে প্রার্থী মনোনীত করবে। বর্তমানে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, গ্রিস, নরওয়ে, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, জাপান, জার্মানিতে সমানুপাতিক হারে প্রতিনিধি নির্বাচিত করার বিধান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ জানান, এর আগে ২০১১ সালের মে’তে ভোটের আনুপাতিক হারে আসন বণ্টনের প্রস্তাব করেছিলেন তিনি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি উপলব্ধি করেছি, বর্তমানে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন হচ্ছে, তাতে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিতর্কহীনভাবে নির্বাচন হওয়া অসম্ভব। দিন দিন পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। সব মহল যদি মুক্ত মনে এ প্রস্তাব গ্রহণ করে, তাহলে হয়তো আমরা আশার আলো দেখতে পাব।’
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদা বলেন, আপনারা জানেন, এরই মধ্যে আমাদের বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ পূর্ণ হতে যাচ্ছে। যথাসময়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় এসে গেছে। স্মরণ করে দেখুন, ’৯০-পরবর্তী সময়ে যত নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে তার কোনো নির্বাচন কমিশনই বিতর্কমুক্ত ছিল না। এবারও যে নির্বাচন কমিশন গঠন হবে, তা নিয়ে গঠনের আগেই বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে। এখন যে পদ্ধতিতে নির্বাচন হচ্ছে এবং তার জন্য যে পদ্ধতিতে নির্বাচন কমিশন নিয়োগ করা হয় তাতে বিতর্কমুক্ত নির্বাচন হওয়া বা বিতর্কমুক্ত নির্বাচন কমিশন গঠন করা অসম্ভব। অন্তত বিগত পাঁচটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা সে কথাই বলে। এখন এ পদ্ধতি এবং এ ব্যবস্থায় আগামীতেও বিতর্কমুক্ত নির্বাচন আমরা আশা করতে পারি না। এ সংকট থেকে মুক্তির জন্যই আমরা নির্বাচন কমিশন গঠনের সুনির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা এবং নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারের প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য এ সম্মেলনের আয়োজন করেছি।
এরশাদ বলেন, আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থাটি চলে আসছে ১৯৩৫ সালের ব্রিটিশ ভারতের আইন অনুসারে। এ আইনের পরিবর্তন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমি জাতীয় নির্বাচনে যে সংস্কারে কথা বলছি, এ পদ্ধতিতে আংশিকভাবে আমাদের দেশেও নির্বাচন হচ্ছে। তা হল সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন। সংরক্ষিত মহিলা আসনে সরাসরি নির্বাচন হয় না। বিগত আমলে শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সরকারি দল মহিলা সদস্য পেয়েছে। তারা দলের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হয়েছেন। এখন সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দল আনুপাতিক হারে মহিলা সদস্য পাচ্ছে। জনগণ সরাসরি মহিলা সদস্য নির্বাচিত করতে পারেনি বলে তারা কোনো অভিযোগ বা প্রতিবাদ জানাতে যায়নি। দল যাকে মনোনীত করে দিয়েছে জনগণ তাকেই মেনে নিয়েছে। তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি, একই সংসদে দুই পদ্ধতিতে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সমান মর্যাদা, সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
এরশাদ বলেন, সংসদীয় সরকার পদ্ধতির শাসন ব্যবস্থাই হচ্ছে দলীয় শাসন। আর গণতান্ত্রিক শাসনের মূল কথা হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন ব্যবস্থা। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতিতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যেও দেখা যায় অনেক সময় সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন থাকে না। যেমন- ১৯৯১ সালের সংসদে ক্ষমতাসীন সরকার মোট কাস্টিং ভোটের মাত্র ৩০ দশমিক ৮১ ভাগ ভোট পেয়ে আসন আধিক্যের কারণে জামায়াতের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পেরেছিল। শেষ পর্যন্ত জামায়াতের সেই সমর্থন সরকারের প্রতি থাকেনি। তখন আওয়ামী লীগের জোট প্রায় ৩৪ শতাংশ ভোট পেয়েও বিরোধী দলের আসনে গেল। একপর্যায়ে ৩০ ভাগ ভোটারের রায় পাওয়া সরকার ৭০ ভাগ ভোটারের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর তীব্র আন্দোলনের মুখেও তার মেয়াদ পূর্ণ করেই ক্ষমতা ছেড়েছে। তবে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় সরকার গঠনে এ ধরনের অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। এ প্রচলিত ব্যবস্থাই যে সর্বোত্তম, তা আমরা মেনে নিতে পারি না। এটা তো ধর্মগ্রন্থ নয় যে, পরিবর্তন বা সংস্কার করা যাবে না। নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারের মাধ্যমেই সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব এবং সেটা নিশ্চিত করতে পারলেই সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটানো যেতে পারে।
তিনি বলেন, আমার প্রস্তাবিত নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কার ব্যবস্থায় দলের পক্ষে জনগণের রায় দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বিদ্যমান পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনে জনগণ শুধু সরাসরি ভোট প্রদান করে একজন সংসদ সদস্য নির্বাচন করতে পারে। জনগণের হাতে আর কোনো দায়িত্ব থাকে না। দলীয় সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ নির্বাচিত হন। এমনকি নির্বাচনে জামানত হারানোর মতো প্রার্থীকেও দল মন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত করে। জনগণ দলের এসব সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। সুতরাং দল জনগণের রায় পাওয়ার পর সংসদ সদস্য মনোনীত করে দিলেও তারা সে সিদ্ধান্ত মেনে নেবে।
এরশাদ বলেন, বর্তমানে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার মতো যেসব রাজনৈতিক দল আছে তার নেতৃত্বের মধ্যে সম্ভবত বয়সে আমিই প্রবীণ। তবে প্রাচীন ধ্যান-ধারণা আগলে রাখার পক্ষপাতী আমি নই। সে কারণেই দেশ ও জাতিকে নতুন কিছু দেয়ার চেষ্টা করি। সমস্যা সৃষ্টি হলেই সমাধানের পথ খোঁজা হয়। আমি উপলব্ধি করেছি, বর্তমানে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন হচ্ছে তাতে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিতর্কহীনভাবে নির্বাচন হওয়া অসম্ভব। দিন দিন পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। আমি সমস্যাবলির কথা উপলব্ধি করে একটা সংস্কারের প্রস্তাব উত্থাপন করলাম। দেশের বিজ্ঞ মহল, সব রাজনৈতিক দল এটা ভেবে দেখতে পারে। আমি মনে করি, আমার প্রস্তাবের কথা সবাই বিবেচনা করে এ ব্যাপারে একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ কোনো প্রশ্ন নেননি। এ সময় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য এমএ সাত্তার, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, সাইদুর রহমান টেপা, ফখরুল ইমাম এমপি, নুর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী এমপি, একেএম মাঈদুল ইসলাম এমপি, সুনীল শুভরায়, এসএম ফয়সল চিশতী, মীর আবদুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন, এটিইউ তাজ রহমান, তাজুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, সোলায়মান আলম শেঠ, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, উপদেষ্টামণ্ডলীল সদস্য আনম শাহজাহান, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, মো. নোমান মিয়া এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মিলন এমপি, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, মো. আরিফুর রহমান খান, বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল, নুরুল ইসলাম নুরু, দিদারুল আলম দিদার, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, আশরাফ সিদ্দিকী, ইয়াহ্ ইয়া চৌধুরী এহিয়া এমপি, সালাউদ্দিন আহমেদ মুক্তি এমপি, নাজমা আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ-ই-আযম, মোস্তাকুর রহমান নাঈম, মোবারক হোসেন আজাদ, ফকরুল আহসান শাহজাদা, এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু এমপি, মো. আমির হোসেন ভূঁইয়া এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা মো. খোরশেদ আলম খুশু, সৈয়দা পারভীন তারেক, ডা. সেলিমা খান, মাহমুদা রহমান মুন্নি, এমএ রাজ্জাক খান, আবু সাঈদ স্বপন, মাখন সরকার, মাসুদুর রহমান চৌধুরী, মো. হেলাল উদ্দিন, নাজমুল খান, অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা, আরিফুল ইসলাম রুবেল, মো. গোলাম মোস্তফা আঙ্গুর, সৈয়দ ইফতেকার আহসান হাসান, মিজানুর রহমান মিরুসহ জাতীয় পার্টি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

(টুডে সংবাদ/উদয়া)

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে www.todaysangbad.com ভিজিট করুন, লাইক দিন এবং  শেয়ার করুন